নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দেশ ছাড়ার আগে বাস্তব সত্যই তুলে ধরেছিলেন নিগার সুলতানা জ্যোতি। বড় স্বপ্ন দেখাননি। নিজেদের শক্তিমত্তা বিবেচনায় রেখে নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জেতার লক্ষ্য জানিয়েছিলেন। সেই লক্ষ্যের প্রথম ধাপে ডাচ্দের হারায় টাইগ্রেসরা। যদিও পরের ম্যাচে ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়ার কাছে বড় ব্যবধানে হারে বাংলাদেশ। আজ গ্রুপ পর্বে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে দুপুর আড়াইটায় পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে লাল-সবুজ প্রতিনিধিরা। সেমিফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখতে এ ম্যাচে জয়ের বিকল্প নেই বাংলাদেশের।
নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে রেকর্ড রান তাড়া করা বাংলাদেশের চিন্তা ব্যাটিং লাইনআপের ধারাবাহিকতা। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে মাত্র ৭৭ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জা ঝেড়ে ফেলে আজ ঘুরে দাঁড়াতে চাইবে জ্যোতির দল। ওপেনিংয়ে দিলারা আক্তার, মিডল অর্ডারে সোবহানা মোস্তারির ব্যাটে রান পাওয়া জরুরি। বোলিংয়ে রিতু মনি ও মারুফা আক্তারের ওপর ভরসা রাখছে দল। অন্যদিকে পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ে ফাতেমা সানা ও আয়েশা জাফর ফর্মে রয়েছেন। সাদিয়া ইকবালের বোলিং বাংলাদেশের জন্য হুমকি হতে পারেন।
সাউদাম্পটনের রোজ বোলের পিচ মূলত স্পিন সহায়ক। যেহেতু দুই দলের মূল শক্তি তাদের স্পিন আক্রমণ, তাই মিডল ওভারে যারা বেশি নিয়ন্ত্রিত বোলিং করতে পারবে, তাদের জয়ের পাল্লাই ভারী থাকবে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হারের পর জ্যোতি বলেন, ‘প্রথমত, আমরা টুর্নামেন্টটা ভালোভাবেই শুরু করেছিলাম। প্রথম জয়টি আমাদের মোমেন্টাম এনে দিয়েছিল, কিন্তু আমরা সেটাকে ধরে রাখতে পারিনি। এখন আমাদের পরের ম্যাচ পাকিস্তানের বিপক্ষে। আমরা সত্যিই আশা করছি সেখানে ঘুরে দাঁড়াতে পারবো। আমি বিশ্বাস করি, দল হিসেবে আমাদের সেই সামর্থ্য আছে। তাই আমরা সামনে তাকিয়ে আছি এবং পরবর্তী ম্যাচের অপেক্ষায় রয়েছি।’
দু’দলের ২০ দেখার ১৬টিতে জিতেছে পাকিস্তান। বিপরীতে বাংলাদেশ জিতেছে ৪ ম্যাচ। তবে সাম্প্রতিককালে পাকিস্তানের বিপক্ষে বাংলাদেশ এগিয়ে রয়েছে। শেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে জিতেছে টাইগ্রেসরা। এবারের বিশ্বকাপে দুই ম্যাচের একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি পাকিস্তান। ফলে তাদের সামনে হারের বৃত্ত ভাঙার মিশন।
