সত্যিই তো গোপন অস্ত্র! ৭১ মিনিটের আগেও এই অস্ত্র সম্পর্কে জানতো না বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা। সেই গোপন অস্ত্রেও নাম ইয়োহান মানজাম্বি। কোচ মুরাত ইয়াকিন তাকে এই উপাধিটা দিয়েছেন। সেটা মাঠের ফুটবলে প্রমাণ করে দেখালেন ২০ বছর বয়সী মিডফিল্ডার। মাঠে নামার দুই মিনিট ৪৬ সেকেন্ডের মধ্যেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেন মানজাম্বি। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে ডেডলক ভাঙলেন, আর তাতে জেগে উঠলো পুরো সুইজারল্যান্ড দল। এদিন জোড়া গোল করে রেকর্ড গড়েন মানজাম্বি। তাতে ৪-১ গোলের দাপুটে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে সুইসরা। ম্যাচ শেষে প্রতিক্রিয়ায় মানজাম্বি বলেন, ‘সত্যি বলতে, এটা অবিশ্বাস্য! এটাই আমার পুরো ক্যারিয়ারের প্রথম জোড়া গোল। আর সেটা করলাম বিশ্বকাপে, বিশেষ করে আমরা যখন ভালো শুরু পাইনি! সত্যি বলতে, এটা ছোটবেলার একটা স্বপ্ন পূরণ হওয়ার মতো।’
দান এনদোয়ের বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মানজাম্বি। নামার পরপরই রুবেন ভার্গাসের বাড়ানো বল বক্সে অর্ধেক ক্লিয়ার হলে প্রায় নব্বই ডিগ্রি ঘুরে দুর্দান্ত এক ভলিতে জাল কাঁপান তিনি। এরপর সুইসদের দ্বিতীয় গোলে সহায়তা করেন। নির্ধারিত সময়ের একদম শেষ মুহূর্তে গ্রানিত জাকার পাস থেকে বুক দিয়ে নামিয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে করেন নিজের দ্বিতীয় গোল। বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো ম্যাচে বদলি নেমে জোড়া গোল করা সবচেয়ে কম বয়সী খেলোয়াড় এখন মানজাম্বি (২০ বছর ২৪৭ দিন)। বিশ্বকাপে সুইজারল্যান্ডের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতাও ফ্রেইবুর্গের এই মিডফিল্ডার।
২০০৫ সালে জেনেভায় জন্ম নেয়া মানজাম্বির বাবা কঙ্গো থেকে আর মা অ্যাঙ্গোলা থেকে সুইজারল্যান্ডে আশ্রয় নেন। ছোটবেলায় গোলরক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও পরিবারের পরামর্শেই পজিশন বদলান। আর সেই সিদ্ধান্তই বদলে দেয় তার পুরো ফুটবল জীবন। মাত্র চার বছর বয়সে ভর্তি হন সার্ভেত জেনেভায়। পরে ২০২৩ সালে পাড়ি জমান জার্মান ক্লাব ফ্রেইবুর্গে। সেখানেই হয়ে ওঠেন নিয়মিত মুখ। গত মৌসুমে ক্লাবকে তুলেন ইউরোপা লীগের ফাইনালে।
