দৃষ্টিনন্দন ফুটবল ও সাম্বার তালে তালে প্রতিপক্ষকে গোলবন্যায় ভাসাবেÑ ব্রাজিলকে নিয়ে কোটি কোটি সমর্থকের আশা যেন এমনই। মাঠে সেলেসাওদের শাসন দেখতে চায় তারা। বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা দল তো ব্রাজিলই। তারাই কিনা মরক্কোর সঙ্গে পিছিয়ে থেকে ড্র করেছে। ২০২৬ আসরের শুরুতে তাই ভক্তদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নরা। আগামীকাল সকাল সাড়ে ৬টায় হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ। ফিলাডেলফিয়ায় কার্লো আনচেলোত্তির শিষ্যরা কি পারবে ভক্তদের মন ভরাতে? চিরশত্রু আর্জেন্টিনার দাপুটে শুরুর পর দাবিটা উঠছে চতুর্দিক থেকে। একাদশ, খেলোয়াড় বাছাই নিয়েও চলছে বিচার বিশ্লেষণ। নেইমারহীন সেলেসাওদের ত্রাতা হিসেবে ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের সঙ্গে এনদ্রিককে দেখতে চাইছেন ফুটবল বিশ্লেষকরা। এনদ্রিকের ওপর বাজিটা কি ধরবেন আনচেলোত্তি? মরক্কোর সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পর কোচ আনচেলোত্তিকে খুব বেশি বিচলিত দেখায়নি। তার মতে, ‘প্রথম ম্যাচ জিতেই বিশ্বকাপ জেতা যায় না। শুরু থেকেই দল নিখুঁত হবে, এমনটা আশা করা ঠিক নয়।’ কিন্তু বাস্তবতা হলো, তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নখদন্তহীন আক্রমণভাগ ভাবাচ্ছে ভক্তদের। হাইতির বিপক্ষে তাই ঘুরে দাঁড়ানোর পাশাপাশি আরও ধারালো এক ব্রাজিল দেখতে চাইছেন তারা।
মরক্কোর বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছাড়া প্রতিপক্ষ শিবিরে ত্রাস ছড়াতে পারেনি কেউ। ব্রাজিলিয়ান গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের বড় একটি অংশ মনে করছেন, হাইতির বিপক্ষে শুরু থেকেই মাঠে নামা উচিত এনদ্রিকের। গ্লোবো ও স্পোরটিভির পণ্ডিতরা এই তরুণ ফরোয়ার্ডকে সম্ভাব্য একাদশে দেখতে চান। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মতো সংক্ষিপ্ত আসরে গোলের জন্য দরকার এমন একজন, যিনি অল্প সুযোগেও ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে পারেন। এর মধ্যেই নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত আনচেলোত্তির। মরক্কোর বিপক্ষে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ইগর থিয়াগোকে নিয়ে দুই ফরোয়ার্ডের আক্রমণভাগ সাজান তিনি। তবে মঙ্গলবারের অনুশীলনে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। হাইতির বিপক্ষে আরও আক্রমণাত্মক পরিকল্পনা নিয়ে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে ব্রাজিল। ব্রাজিলিয়ান সংবাদমাধ্যমের খবর, ভিনিসিয়ুস, লুইজ এনরিকে, রায়ান ও মাতেউস কুনহাকে নিয়ে চার সদস্যের আক্রমণভাগও পরীক্ষা করেছেন আনচেলোত্তি। পরিবর্তনের আভাস মিলেছে মাঝমাঠেও। হোল্ডিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় ব্রুনো গিমারেস ও ফাবিনহোকে পরখ করেছেন আনচেলত্তি। এতে মরক্কোর বিপক্ষে হলুদ কার্ড পাওয়া অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার কাসেমিরোর জায়গা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। রক্ষণেও চমক দেখা যেতে পারে। অনুশীলনে গ্যাব্রিয়েল মাগালায়েসের সঙ্গে গ্লেসন ব্রেমারকে জুটি হিসেবে দেখা গেছে। এতে অধিনায়ক মার্কিনহোসের একাদশে থাকা নিয়েও তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। ডান পাশে দানিলো এবং বাম প্রান্তে আলেক্স সান্দ্রোর জায়গা ধরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি।
আনচেলোত্তি তার কৌশল গোপন রাখতেই ভালোবাসেন। মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচের আগেও শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত একাদশ ছিল অপ্রকাশিত। হাইতির বিপক্ষে এই ইতালিয়ান জিনিয়াসের পরিকল্পনা নিয়ে তাই রহস্য থেকে গেল। তবে ডিফেন্ডার ডগলাস সান্তোস মনে করেন, এই কৌশল দলের প্রস্তুতিতে বাধা তৈরি করে না বরং মনযোগ বাড়ায়। রিয়াল মাদ্রিদ থেকে গত মৌসুমে ধারে অলিম্পিক লিঁওতে খেলেছেন এনদ্রিক। ১৯ বছর বয়সী এই সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড ২৪ ম্যাচে সমান ৮টি করে গোল ও অ্যাসিস্ট করেন। ২০২৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের পর খুব বেশি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়নি তার। যে ১৭ ম্যাচে নেমেছেন তার কোনোটিতেই ৯০ মিনিট খেলতে পারেননি। এরপরও ৪ গোল ও দুই অ্যাসিস্ট করেছেন। মিশরের বিপক্ষে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচেও ৪৫ মিনিট খেলে করেন এক গোল। কিন্তু ফরমেশন মিলাতে গিয়ে মরক্কো ম্যাচে এনদ্রিককে বেঞ্চে বসিয়ে রাখেন আনচেলোত্তি।
হাইতি মানেই গোলবন্যা
হাইতির বিপক্ষে তিন ম্যাচে ১৭ গোল রয়েছে ব্রাজিলের ঝুলিতে। সবশেষ ২০১৬ কোপা আমেরিকার গ্রুপ পর্বে ব্রাজিল জয় পায় ৭-১ গোলে। তবে গত দশ বছরে বেশ উন্নতি করেছে হাইতি। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের সঙ্গে লড়াই করে ১-০ গোলে হারে ক্যারিবিয়ান দলটি।
