চট্টগ্রামের ধীরগতির উইকেটে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪ উইকেটে হেরেছে বাংলাদেশ। এই পরাজয়ে ৩ ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে স্বাগতিকরা। সিরিজে টিকে থাকার লক্ষ্য নিয়ে একই ভেন্যুতে আজ মাঠে নামছে বাংলাদেশ দল। খেলা শুরু দুপুর ২টায়। চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া। প্রথম ম্যাচে ব্যাট করতে নেমে স্বাগতিকরা ১৯ ওভারে মাত্র ১৩১ রানে অলআউট হয়। জবাবে সফরকারীরা ১৮.২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে সহজ জয় তুলে নেয়। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে দেশের অভিজ্ঞ পেস বোলিং কোচ তালহা জুবায়ের প্রথম ম্যাচের ভুল স্বীকার করে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, ‘আমাদের একটা খারাপ দিন ছিল, আমরা সবাই মিলে এই পরাজয়ের দায়ভার নিচ্ছি, এটি পুরো দলেরই ব্যর্থতা। তবে আমরা ভেঙে পড়ছি না, আমাদের লক্ষ্য থাকবে পরের ম্যাচে শক্তভাবে মাঠে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় ছিনিয়ে এনে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনা।’
প্রথম ম্যাচে চমৎকার শুরুর পরও নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। পাওয়ারপ্লেতে কোনো উইকেট না হারিয়ে ৫২ রান তুলেও পরবর্তীতে ১৩১ রানে থামে লাল-সবুজের দল। উইকেটে কোনো বড় জুটি গড়ে ওঠেনি; এমনকি শেষ উইকেটে শেখ মেহেদী হাসান ও মোস্তাফিজুর রহমান সর্বোচ্চ ২৩ রান যোগ করেন। এই ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণ হিসেবে ক্রিকেটারদের দায়িত্বহীন শট নির্বাচন ও উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার প্রবণতাকে দায়ী করছেন বিশ্লেষকরা। ক্রিকেটাররা বিভিন্ন টি-টোয়েন্টি লীগ খেলে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরলেও এমন উইকেট বোঝার ক্ষেত্রে চরম অপরিপক্বতা দেখিয়েছেন। সাবেক তারকা তালহাও দলের এই তাড়াহুড়ো করার মানসিকতার সমালোচনা করেছেন। শিষ্যদের ব্যাটিং ব্যর্থতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে গতকাল তালহা বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, আমরা একটু তাড়াহুড়ো করেছি। পাওয়ারপ্লেতে আমাদের চমৎকার শুরুর পর আমরা ইনিংসটি টেনে নিতে পারিনি, অতিরিক্ত বাউন্ডারি মারার চেষ্টাই আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে।’
বাংলাদেশ ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যকার আন্তর্জাতিক ক্রিকেট দ্বৈরথে পরিসংখ্যান অবশ্য শক্তিধর সফরকারীদের দিকেই ভারী। দুদল টি-টোয়েন্টিতে মোট ১২টি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে, যেখানে অস্ট্রেলিয়ার ৮ জয়ের বিপরীতে বাংলাদেশের জয় মাত্র ৪টি। তবে সর্বশেষ ৫ ম্যাচের একমাত্র দ্বিপাক্ষিক টি-টোয়েন্টি সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয়ের হারানোর মধুর স্মৃতি রয়েছে টাইগারদের। দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে কন্ডিশন ও বাতাসের প্রতিকূলতাকে জয়ের উপায় হিসেবে দেখছেন লাল-সবুজের দল। গতকাল প্রথম ম্যাচে তনজীদ হাসান ইমনের বাউন্ডারিতে ক্যাচ হওয়া প্রসঙ্গে বাতাসের প্রভাব তুলে ধরেন পেস বোলিং কোচ। এ নিয়ে শিষ্যদের পাশে দাঁড়িয়ে তালহা বলেন, ‘চট্টগ্রামের মাঠে বাতাসের একটা বড় ফ্যাক্টর ছিল। ইমন যেভাবে আউট হয়েছে, ওটা বাতাসের তীব্র প্রভাব না থাকলে হয়তো অনেক বড় ছক্কা হয়ে মাঠের বাইরে যেতো। তবে এমন প্রতিকূলতার মাঝেই আমাদের ঘুরে দাঁড়াতে হবে এবং ম্যাচে নিজেদের মেলে ধরে জয় ছিনিয়ে আনতে হবে।’
