টারটান আর্মিদের নিয়ে সতর্ক অ্যাটলাস লায়নরা

মুখোমুখি মরক্কো-স্কটল্যান্ড

টারটান আর্মিদের নিয়ে সতর্ক অ্যাটলাস লায়নরা

ফন্ট সাইজ:

ব্রাজিল পাঠ চুকিয়ে নতুন পরীক্ষায় নামছে মরক্কো। ‘সি’ গ্রুপে অ্যাটলাস লায়নদের প্রতিপক্ষ এবার স্কটল্যান্ড। টারটান আর্মিদের বিপক্ষে ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে দাপুটে জয় তুলে নেয় মরক্কো। ফক্সবরোতে কি ওই হারের শোধ তুলবে স্কটিশরা? হাইতিকে হারিয়ে দারুণ শুরুর পর আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে রয়েছে কোচ স্টিভ ক্লার্কের দল। তাদের নিয়ে তাই সতর্ক মরক্কো। ব্রাজিলের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে পয়েন্ট ভাগাভাগি করায় স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের বিকল্প নেই গতবারের সেমিফাইনালিস্টদের। বোস্টন স্টেডিয়ামে ম্যাচটি মাঠে গড়াবে আগামীকাল ভোর ৪টায়। ম্যাচ শুরুর আগেই একটা সুখবর পেয়েছে মরক্কো। পর্তুগালকে ঠেলে ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে তারা উঠে এসেছে ৬ নম্বরে। আর হাইতির বিপক্ষে জয়ে পাঁচ ধাপ এগিয়ে স্কটল্যান্ড এখন ৩৭ নম্বরে। তাদের চেয়ে কাগজে কলমে অনেকটা এগিয়ে থাকলেও আত্মতুষ্টিতে ভুগছে না মরক্কো শিবির।

ব্রাজিলের সঙ্গে ম্যাচ শেষ হওয়ার পরদিনই অনুশীলনে ফেরে মরক্কো দল। প্রথম দিনের সেশনটি ছিল মূলত সেসব ফুটবলারের, যারা সেলেসাওদের বিপক্ষে খুব কম সময় খেলেছেন কিংবা মাঠেই নামেননি। কোচিং স্টাফের লক্ষ্য ছিল পুরো স্কোয়াডকে একই ছন্দে রাখা এবং বিকল্প খেলোয়াড়দের ম্যাচ-প্রস্তুতি নিশ্চিত করা। দীর্ঘ ও কঠিন টুর্নামেন্টে যেকোনো সময় বদলি খেলোয়াড়দের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে হতে পারে। তা মাথায় রেখেই এমন পরিকল্পনা। সোমবার প্রস্তুতির মাত্রা আরও বাড়ানো হয়। ম্যাচের একাদশের খেলোয়াড়রাও অনুশীলনে যোগ দেন। এদিন বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয় ট্যাকটিস, দ্রুত ট্রানজিশন এবং রক্ষণভাগের শৃঙ্খলার ওপর। খেলোয়াড়দের মনোযোগ ও একাগ্রতা ছিল চোখে পড়ার মতো।

স্কটল্যান্ড নিজেদের শক্তির প্রমাণ ইতোমধ্যেই দিয়েছে। জমাট রক্ষণ, দলীয় ঐক্য এবং প্রতিটি বলের জন্য লড়াই করার মানসিকতা টারটান আর্মির প্রধান অস্ত্র। ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগের অভিজ্ঞ ফুটবলারদের নেতৃত্বে সরাসরি আক্রমণ এবং দ্রুত পাল্টা আক্রমণে ভয়ংকর এক দল স্কটল্যান্ড। স্কটিশদের কৌশলী ফাঁদ এড়িয়ে চলাই মরক্কোর বড় চ্যালেঞ্জ হবে। বল দখলে আধিপত্য বিস্তার যথেষ্ট নয়। সেটিকে কার্যকর আক্রমণে রূপ দিতে হবে। অন্যথায় দ্রুত ট্রানজিশনে স্কটল্যান্ড যেকোনো মুহূর্তে শাস্তি দিতে পারে। পাশাপাশি আকাশপথের লড়াই ও সেট-পিসেও ইউরোপীয় দলটির শক্তি মরক্কোর জন্য বাড়তি উদ্বেগের কারণ।

পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন যারা
এই ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারেন আশরাফ হাকিমি, ব্রাহিম দিয়াজরা। বিশেষভাবে নজরে থাকবেন ইসমাইল সাইবারি। বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেওয়া এই স্ট্রাইকারের গোলেই ব্রাজিলের বিপক্ষে লিড নেয় মরক্কো। তবে সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার আইয়ুব বুয়াদির কথা না বললেই নয়। ব্রাজিলের বিপক্ষে সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড় ছিলেন তিনি।

অন্যদিকে, জন ম্যাকগিনের গোলে বিশ্বকাপে প্রত্যাবর্তন রাঙায় স্কটল্যান্ড। ছন্দের তুঙ্গে থাকা এই মিডফিল্ডার মরক্কোর বিপক্ষেও বড় অস্ত্র হবেন। সঙ্গে নাপোলির স্কট ম্যাকটমিনের অভিজ্ঞতা কাজে দেবে। মরক্কো-স্কটল্যান্ড ম্যাচে মাঝমাঠে যারা বেশি আধিপত্য দেখাবে তারা অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। এই জায়গায় লড়াইটা ভালোই জমিয়ে তুলবেন ম্যাকগিন-ম্যাকটমিনে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন