বর্ষায় ডুবে যায় ঘর

আশ্রয়ের অপেক্ষায় ভূমিহীন বাসনা রানী

ফন্ট সাইজ:

দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের গোপালপুর গ্রামের বাসনা রানী দাস ভূমিহীন ও গৃহহীন অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। স্বামী জগৎ দাস অসুস্থ, সঙ্গে রয়েছেন স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে ও এক নাতনি। নিজের কোনো জমি না থাকায় অন্যের জমিতে পলিথিন, কাপড় ও বাঁশের চাটাই দিয়ে তৈরি একটি অস্থায়ী কুঁড়েঘরেই তাদের বসবাস।
হাওর তীরবর্তী কান্দায় নির্মিত সেই কুঁড়েঘরটি বর্ষা এলেই পানিতে তলিয়ে যায়। তখন পরিবারটিকে অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিতে হয়। পানি নেমে গেলে আবার ফিরে আসতে হয় একই অনিশ্চিত ঠিকানায়। হাওরাঞ্চলে বর্ষা মানেই পানির দাপট। আর সেই পানির সঙ্গেই লড়াই করে বেঁচে আছে বাসনা রানীর পরিবার। প্রতি বছর বর্ষা তাদের জীবনে নিয়ে আসে নতুন দুশ্চিন্তা, নতুন অনিশ্চয়তা।
বাসনা রানী দাস জানান, নিজের জায়গা-জমি বলতে কিছুই তাদের নেই। বর্তমানে যে জায়গায় আছেন- সেটি তার বাবার বাড়ি পেরুয়া গ্রামের এক ব্যক্তির জমি। অনুরোধ করে সেখানে অস্থায়ীভাবে থাকার অনুমতি পেয়েছেন। কিন্তু সামনে বর্ষাকাল; দেড়-দুই মাসের মধ্যেই ঘর ডুবে যাবে। এই আশঙ্কায় তারা দিশাহারা। তিনি সরকারি সহযোগিতার মাধ্যমে স্থায়ী পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাওর তীরবর্তী কান্দায় নির্মিত ঘরটি সামান্য পানি বাড়লেই প্লাবিত হয়। শিশু ও অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েন বাসনা রানী। প্রতি বছর বর্ষা ঘনিয়ে এলে তাদের কপালে দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়ে। পরিবারটির আয়ের নির্দিষ্ট কোনো উৎস নেই। বাসনা রানীর স্বামী পরিত্যক্তা মেয়ে মানুষের বাড়িতে কাজ করে যা উপার্জন করে তাই দিয়ে চলে সংসার।
চরনারচর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মহেশ চন্দ্র দাস বলেন, বাসনা রানী দাস সত্যিই একজন ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষ। তার পরিবার অত্যন্ত কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। তবে ওয়ার্ডে কোনো আশ্রয়ণ প্রকল্প না থাকায় স্থানীয়ভাবে সহায়তা করা সম্ভব হয়নি। এ বিষয়ে দিরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সনজীব সরকার জানান, খোঁজখবর নিয়ে বাসনা রানী দাসের পরিবারকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করা হবে।
বাসনা রানী দাসের জীবনের এই করুণ চিত্রটি আমাদের সমাজের এক নির্মম বাস্তবতাকে তুলে ধরে। এই পরিবারটির জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় শুধু একটি ঘর নয়Ñবরং বেঁচে থাকার ন্যূনতম অধিকার, সম্মান ও নিশ্চিন্ত ভবিষ্যতের প্রতীক। এখন দেখার বিষয়, প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি কতো দ্রুত বাস্তবে রূপ নেয়। এদিকে বর্ষা আসতে বেশি দেরি নেই। তার আগেই বাসনা রানীর পরিবারের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা হবে কিনা, সে প্রশ্ন এলাকাবাসীরও।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন