ধোবাউড়ায় ৪ বছরের শিশুকে গণধর্ষণের পর হত্যার লোমহর্ষক স্বীকারোক্তি

ফন্ট সাইজ:

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় আলোচিত শিশু নিছামনিকে ৪ বন্ধু মিলে গণধর্ষণ এবং হত্যার ঘটনায় জড়িতদের আটক করা হয়েছে। আটককৃতরা গত মঙ্গলবার এবং বুধবার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে লোমহর্ষক ঘটনার অবর্ণনীয় চিত্র উঠে আসে। ভয়াবহ এই অপরাধের অভিযোগে গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, ধোবাউড়া উপজেলার গোয়াতলা ইউনিয়নের টাঙ্গাহাটি গ্রামের বাসিন্দা মারুফ মিয়া (১৯), আরিফ মিয়া (১৯), সায়েম (১৯) এবং রাকিব মিয়া (২১)। এই পাশবিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহত শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গত সোমবার রাতে ধোবাউড়া থানায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণ ও হত্যার একটি মামলা দায়ের করেন।

পরিবার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত রোববার বিকালে ৪ বছর ৭ মাস বয়সের শিশু নিছামনি বাড়ির পাশে খেলা করছিল। তখন ৪ বন্ধু শিশুটিকে কদম ফুল দেয়ার কথা বলে ডেকে নির্জনস্থানে নিয়ে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে শিশুটি নিস্তেজ হয়ে পড়লে আলামত নষ্টের উদ্দেশ্যে জীবিত অবস্থায় কংস নদে ফেলে পা দিয়ে পুঁতে রাখা হয়। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজির পর রাত ৮টায় কংস নদে পানির নিচ থেকে শিশুর লাশ উদ্ধার করা হয়। পানিতে পড়ে স্বাভাবিক মৃত্যু ভেবে লাশ দাফনের প্রস্তুতির সময় গোসল করানো হলে তখন শিশুর স্পর্শকাতর জায়গা থেকে রক্তক্ষরণ শুরু হয়। এ সময় খবর পেয়ে পুলিশ এসে ধর্ষণের বিষয়টি শনাক্ত করে। কোমলমতি শিশু নিছামনিকে পৈশাচিক যৌন নির্যাতন করে হত্যার ঘটনায় পুরো উপজেলা এবং জেলা জুড়ে ক্ষোভে ফুঁসে উঠেছে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। এদিকে নৃশংস এই ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ মোড়ে বিশাল মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জয় প্রকাশ সাহা। তিনি বলেন, আমাদের শিশুদের কোথাও নিরাপত্তা নেই, শিশু নিছামনির সঙ্গে যে নির্মমতা, বীভৎসতা, নারকীয়তা, পাশবিকতা হয়েছে কোনো শব্দ দিয়ে এই ঘটনার বর্ণনা করে বুঝানো যাবে না। যে চার তরুণ এই নৃশংস ঘটনা ঘটিয়েছে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। আমাদের দাবি তাদেরকে ৩০ দিনের মধ্যে ফাঁসি দিয়ে রায় কার্যকর করা হোক। এ ছাড়াও গোয়াতলা বাজারে বাংলাদেশ খেলাফত ছাত্র মজলিস এবং ময়মনসিংহে প্রতিজ্ঞা যুব সংগঠন ও রঘুরামপুর গ্রামবাসীসহ বিভিন্ন স্থানে নিছামনি হত্যার প্রতিবাদ এবং দ্রুত বিচার দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে নিছামনির পরিবারের পাশে দাঁড়িছে কেন্দ্রীয় বিএনপি’র যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ জেলা পরিষদের প্রশাসক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। গত বুধবার বিকালে টেংগটি গ্রামে শিশু নিছার বাড়িতে গিয়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি শিশুটির বাবা-মাকে প্রধানমন্ত্রী এবং নিজের পক্ষ থেকে সান্ত্বনা দেন। প্রিন্স বলেন, এই নৃশংস ঘটনার নিন্দা জানানোর ভাষা আমার নেই। একটি নিষ্পাপ শিশুর প্রতি এমন পাশবিকতা গোটা সমাজকে লজ্জিত করেছে। তিনি বলেন, আমি আইনমন্ত্রীর সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে কথা বলেছি। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে, ঢাকার রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারের মতো এ ঘটনাও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন