‘এটা সেই ইংল্যান্ড, যাদের আমরা বহু বছর দেখিনি’

‘এটা সেই ইংল্যান্ড, যাদের আমরা বহু বছর দেখিনি’

ফন্ট সাইজ:

ডালাসের বিশাল স্টেডিয়াম থেকে বেরিয়ে আসা ইংল্যান্ড সমর্থকদের চোখে-মুখে ছিল উচ্ছ্বাস। কারণ থমাস টুখেলের দল ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ ব্যবধানে জিতে নিজেদের শক্ত অবস্থানের বার্তা দিয়েছে। হ্যারি কেইন ম্যাচের আগে সতীর্থদের বলেছিলেন, ‘মাথা চাপ মুক্ত রেখে খেলো, বিশ্বকাপের চাপকে উপভোগ করো।’ ইংল্যান্ড খেলোয়াড়রা সেটা মানলো ভালো দিকেও, খারাপ দিকেও। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় ছিল আক্রমণভাগে রোমাঞ্চকর, কিন্তু রক্ষণভাগে উদ্বেগজনক। তবুও সমর্থকদের মুখের হাসি অন্য গল্প বলছিল। এক কথায় এই ম্যাচ ছিল মজার। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইংল্যান্ডের খেলা অনেক সময় দেখার মতো আকর্ষণীয় ছিল না। যদিও তারা ইউরো ২০২৪-এর ফাইনাল এবং কাতার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। ফল ভালো ছিল, কিন্তু খেলার ধরন খুব একটা উত্তেজনা তৈরি করতে পারতো না।

গ্যারেথ সাউথগেটের অধীনে ফলাফল ভালো এলেও খেলার ধরন ছিল তুলনামূলক রক্ষণাত্মক। কিন্তু এবার ভিন্ন। এই ম্যাচে এক মুহূর্তের জন্যও চোখ সরানো যায়নি। প্রথমার্ধে টুখেলের ক্ষোভ, দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝড়Ñ সব মিলিয়ে নাটকীয় ফুটবল। ম্যাচ শেষে টিভি বিশ্লেষক ইয়ুর্গেন ক্লপ বলেন,‘ এটা ছিল ঝুঁকি নিয়ে খেলা ফুটবল। তবে ইংল্যান্ড সমর্থকেরা এটা উপভোগ করেছে।’ তবে প্রশ্ন রয়ে যায় শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে এমন দুর্বল রক্ষণ নিয়ে কী হবে? বিশ্বমানের আক্রমণভাগ যদি এই ধরনের আলগা ডিফেন্সের মুখোমুখি হয়, তাহলে টুখেলের জন্য সেটা বড় সতর্কবার্তাও দিয়েছেন স্বদেশি এই বিশ্লেষক। এজরি কনসাকে মার্ক গেহির বদলে খেলানো নিয়ে বিতর্ক ছিল, এবং এই ম্যাচে তিনি নিজের জায়গা আরও শক্ত করতে পারেননি বলে মনে করেন ক্লপ। তার মতে ইংল্যান্ড দুইবার এগিয়ে যাওয়ার পরও দুর্বল রক্ষণে ক্রোয়েশিয়া ম্যাচে ফিরেছিল। টুখেলের দল নির্বাচনে সাহস ছিল। মরগান রজার্সের বদলে জুড বেলিংহ্যামকে খেলানো এবং বুকায়ো সাকার ফিটনেস ধরে রাখতে ননি মাদুয়েকেকে শুরু করানো সফল সিদ্ধান্ত হয়েছে। বেলিংহ্যাম মিডফিল্ডে ছিলেন শক্তির উৎস। তার দৌড়, বল নিয়ন্ত্রণ এবং গোল ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়’। হ্যারি কেইনও নিজের মান ধরে রেখেছেন বলে মনে করেন এই ধারাভাষ্যকার। তার প্রথম পেনাল্টি বাঁচিয়ে দিলেও গোলকিপার লাইন ছেড়ে এগিয়ে আসায় পুনরায় নেয়ার সুযোগ পান আর দ্বিতীয়বার তিনি ভুল করেননি। এখন ইংল্যান্ডের হয়ে তার গোল ১১৫ ম্যাচে ৮১টি। তবে সবকিছু নিখুঁত ছিল না।’

টুখেল শুরু থেকেই বলেছেন- তার লক্ষ্য “জার্সিতে দ্বিতীয় তারকা” যোগ করা, অর্থাৎ আরেকটি বিশ্বকাপ জেতা। এবং তার কোচিং দর্শনও পরিষ্কার রক্ষণে লুকিয়ে না থেকে আক্রমণ করে জেতা। ৭২ মিনিটে তার বদলি সিদ্ধান্ত সেটাই দেখিয়েছে। ডেকলান রাইসের বদলে আক্রমণাত্মক মরগান রজার্স, অ্যান্থনি গর্ডনের বদলে রাশফোর্ড, পরে সাকা- এগুলো ছিল ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের নয়, ব্যবধান বাড়ানোর সিদ্ধান্ত।’ সাবেক ইংল্যান্ড ফরোয়ার্ড ওয়েইন রুনি বলেন, ‘এই বদলিগুলো আমার দারুণ লেগেছে। টুখেল সাহসী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। বসে থেকে ক্রোয়েশিয়াকে সুযোগ দিলে ম্যাচ কঠিন হয়ে যেত।’ সাবেক গোলরক্ষক পল রবিনসনও টুখেলের বদলিতে বেজায় খুশি হয়ে বলেন, ‘বেঞ্চ থেকে যারা এসেছে তারা ম্যাচে প্রভাব ফেলেছে এবং কোচকে ভাবার সুযোগ দিয়েছে।’

আর জো হার্ট বলেন, ‘টুখেল যেন বলেছিলেন- আমরা ওদের চেপে ধরব। দল সেটা করেছে।’ ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ যাত্রার শুরুটা কিছুটা অনিশ্চিত ছিল। কিন্তু যখন তারা ছন্দ পেয়েছে, তখন আবার সেই শব্দটাই সামনে এসেছে- মজা। এখন টুখেলের লক্ষ্য মঙ্গলবার বোস্টনে ঘানার বিপক্ষে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন