দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর আঞ্চলিক জোট আসিয়ানের সাথে অংশীদারিত্ব গভীর করার প্রচেষ্টায় তুরস্ককে জোরালো সমর্থন জানিয়েছে মালয়েশিয়া। সম্প্রতি আঙ্কারায় নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত আদলান মোহাম্মদ শাফি তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের কাছে নিজের পরিচয়পত্র পেশ করার সময় এই আনুষ্ঠানিক সমর্থন ব্যক্ত করেন।
সংবাদ সংস্থা বারনামা জানিয়েছে, তুরস্কের প্রেসিডেন্সিয়াল কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে রাষ্ট্রদূত আদলান মোহাম্মদ শাফি মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের পক্ষ থেকে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ানকে উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন পৌঁছে দেন। তিনি বলেছেন, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সাথে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক সম্পৃক্ততা, কৌশলগত দৃষ্টিভঙ্গি এবং জনগণের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে তুরস্ক আসিয়ান অঞ্চলের জন্য একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে তুরস্কের সাথে দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক বন্ধুত্ব ও কৌশলগত অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। রাষ্ট্রদূত জানিয়েছে, বিশেষ করে শিক্ষা, প্রতিরক্ষা এবং ক্রমবর্ধমান হালাল শিল্প খাতে দুই দেশের নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
বারনামা আরও লিখেছে, আঙ্কারায় অবস্থিত মালয়েশীয় দূতাবাসের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, মালয়েশিয়া ও তুরস্ক পারস্পরিক বিশ্বাস, শ্রদ্ধা এবং শান্তি ও সমৃদ্ধি অর্জনের অভিন্ন লক্ষ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ কূটনৈতিক সম্পর্ক উপভোগ করছে। রাষ্ট্রদূত আদলান শাফি উল্লেখ করেন, প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান এবং প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের মধ্যে বিদ্যমান গভীর ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও অভিন্ন ভিশনকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন খাতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও নিবিড় করা সম্ভব।
নতুন রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান আশা প্রকাশ করেন যে, দুই দেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত হবে। তিনি দৃঢ় আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, দুই দেশের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় থাকলে অদূর ভবিষ্যতে ১০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বাণিজ্যের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
