জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নিবন্ধন অনুবিভাগের আইটি সিস্টেমের নিরাপত্তা যাচাইয়ে ‘আইটি অডিট’ এবং দুর্বলতা মূল্যায়ন ও অনুপ্রবেশ পরীক্ষা (ভিএপিটি) করার উদ্যোগ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সাইবার নিরাপত্তা জোরদার, সম্ভাব্য ঝুঁকি শনাক্ত এবং প্রয়োজনীয় প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, গত ১০ই জুন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালককে ভোটার নিবন্ধন সিস্টেমের নিরাপত্তা পরীক্ষা করার দায়িত্ব দেওয়া হয়। একইদিন জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের একজন সিস্টেম এনালিস্টের নেতৃত্বে নিরাপত্তা পর্যালোচনায় একটি কমিটি গঠন করা হয়।
এছাড়া এনআইডি সিস্টেমের আইটি অডিট করার জন্য গত ১৫ই জুন অডিট অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ। চিঠির বিষয়টি নিশ্চিত করে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, নির্দিষ্ট সময় পর পর আইটি অডিট করা প্রয়োজন। তবে তিনি ইসিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে কোনো আইটি অডিট হয়নি। এ কারণে আইটি অডিটের পাশাপাশি ভালনারেবিলিটি অ্যাসেসমেন্ট অ্যান্ড পেনিট্রেশন টেস্টিং (ভিএপিটি) করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এনআইডি তথ্যভান্ডারে নাগরিকদের ব্যক্তিগত ২৮ ধরনের ডেমোগ্রাফিক তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোটারদের ভোটকেন্দ্রের তথ্য জানাতে একটি বেসরকারি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে এসব তথ্য ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ ওঠে। ‘স্মার্ট ইলেকশন ম্যানেজমেন্ট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে ভোটকেন্দ্রের তথ্য দিতে গিয়ে নাগরিকদের গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়। কারণ ভোটকেন্দ্রের তথ্য দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় ছিল মাত্র চার ধরনের তথ্য, কিন্তু সেখানে ২৮ ধরনের তথ্য ব্যবহারের বিষয়টি সামনে আসে।
সূত্র জানায়, সংশ্লিষ্ট আইডি ও এপিআই ব্যবহার করে ইসির তথ্যভান্ডারে অস্বাভাবিক পরিমাণে প্রবেশের পর বিষয়টি নিয়ে নড়েচড়ে বসে কমিশন। গত ৬ই ফেব্রুয়ারি ছুটির দিনে ইসি সচিবের নেতৃত্বে এ নিয়ে বৈঠক হয়। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ২৮ ধরনের তথ্যের পরিবর্তে শুধু প্রয়োজনীয় চার ধরনের তথ্য ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে এর আগেই ওই অ্যাপে এক কোটির বেশি হিট হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নাগরিকের ছবি ও ব্যক্তিগত তথ্য কপি করা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়।
ইসির কর্মকর্তারা বলছেন, আইটি অডিটের মাধ্যমে এনআইডি সার্ভার ও অ্যাপ্লিকেশনের নিরাপত্তা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা এবং তথ্য ব্যবহারের পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাবে। কারা, কখন এবং কীভাবে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যভান্ডারে প্রবেশ করেছে—তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
