দেশে দ্রুত নগরায়ণ, বহুতল ভবন নির্মাণ ও শিল্পায়নের বাস্তবতায় লিফটকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ এলিভেটর, এস্কেলেটর অ্যান্ড লিফট ইম্পোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বেলিয়া)। একই সঙ্গে লিফট খাতে বিদ্যমান শুল্ক ও কর কাঠামো যৌক্তিক করার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। ব্যবসায়ী নেতাদের দাবি, গত দুই বছরে লিফট আমদানির ওপর শুল্কহার প্রায় ১১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৪৬ শতাংশে পৌঁছেছে। এর ফলে আবাসন খাতসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পে ব্যয় বেড়েছে এবং শেষ পর্যন্ত এর চাপ পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর। বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরে বেলিয়া। সংগঠনের নেতারা বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের চূড়ান্ত বাজেটে তাদের দাবিগুলো বিবেচনায় নেওয়া না হলে লিফট খাত আরও সংকটে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়ার সভাপতি মো. শফিউল আলম উজ্জ্বল বলেন, বর্তমান সময়ে লিফট কোনো বিলাসী পণ্য নয়; বরং এটি আধুনিক নগরায়ণ ও টেকসই অবকাঠামো উন্নয়নের অপরিহার্য উপাদান। অথচ ২০২৩ সালে লিফটকে মূলধনী যন্ত্রপাতির তালিকা থেকে বাদ দিয়ে বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে শুল্ক বাড়ানোয় আমদানিকারক ও ব্যবহারকারী উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। তিনি বলেন, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে, অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যবসা সংকুচিত করতে বাধ্য হয়েছে এবং কর্মসংস্থানও কমেছে। ফ্ল্যাট নির্মাণ ব্যয় বাড়ার কারণে প্রতি বর্গফুটের মূল্যও বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে মধ্যবিত্ত মানুষের নিজস্ব আবাসনের স্বপ্ন আরও দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, উচ্চ শুল্কের কারণে অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের কিংবা পুনর্নির্মিত (রিকন্ডিশনড) লিফট ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে, যা জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে বেলিয়ার পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে লিফট ও এস্কেলেটরকে পুনরায় মূলধনী যন্ত্রপাতি ঘোষণা, লোড ফ্যাক্টর প্রতি কেজি ৩ ডলার থেকে কমিয়ে ১.৫০ ডলার নির্ধারণ, স্থানীয় উৎপাদনের নামে কাঁচামালের অপব্যবহার বন্ধে নজরদারি বৃদ্ধি, বন্দর পর্যায়ে খালাস প্রক্রিয়া সহজীকরণ এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরাপদ লিফট আমদানিতে শুল্ক-কর কাঠামোর সংস্কার।
বেলিয়ার সাধারণ সম্পাদক ইয়াদুল হক বলেন, বাজেট ঘোষণার আগেও সরকারকে বিষয়গুলো জানানো হয়েছিল। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। তিনি আশা প্রকাশ করে বলেন, চূড়ান্ত বাজেটে সরকার তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো বিবেচনায় নেবে।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আব্দুর রাজ্জাক বলেন, পরিকল্পিত নগরায়ণ ও স্মার্ট সিটি গঠনের জন্য নিরাপদ ও মানসম্মত লিফট ব্যবস্থার বিকল্প নেই। কিন্তু শুল্ক বৃদ্ধির কারণে গত তিন বছরে একটি ছোট লিফটের দাম প্রায় ১৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাব সরাসরি আবাসন খাতে পড়ছে।
বেলিয়ার উপদেষ্টা এমদাদ উর রহমান বলেন, প্রায় ৩৫ বছর ধরে লিফট মূলধনী যন্ত্রপাতি হিসেবে স্বীকৃত ছিল। কিন্তু হঠাৎ করে এটিকে বিলাসী পণ্যের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার যৌক্তিকতা খাতসংশ্লিষ্টরা খুঁজে পাচ্ছেন না। তিনি বলেন, দেশে ভূমির সংকটের কারণে হাসপাতাল, শিল্পকারখানা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক ভবন সবই এখন উঁচু ভবননির্ভর। সেখানে লিফট কোনোভাবেই বিলাসী পণ্য হতে পারে না।
