২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শুরুতেই টেলিভিশন সম্প্রচারে একের পর এক রেকর্ড গড়ে উঠেছে। আয়োজক তিন দেশ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচগুলো মিলিয়ে একযোগে ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি দর্শক টিভিতে খেলা উপভোগ করেছেন বলে জানিয়েছে ফিফা।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে স্বাগতিকদের জয় দেশটির ফুটবল ইতিহাসে টেলিভিশনে সবচেয়ে বেশি দেখা বিশ্বকাপ ম্যাচে পরিণত হয়েছে। ইংরেজি ভাষার সম্প্রচারকারী ফক্স এবং স্প্যানিশ ভাষার তেলেমুন্ডো মিলিয়ে ম্যাচটি গড়ে ২ কোটি ৭৫ লাখ দর্শক দেখেছেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বলেছেন, আমরা সত্যিকার অর্থেই একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্রের প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি দেখা ফিফা বিশ্বকাপ ম্যাচে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে কানাডা, মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী ম্যাচগুলো মিলিয়ে ৫ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ খেলা দেখেছেন। এটি প্রমাণ করে ফুটবল কীভাবে বিশ্বকে একত্রিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, এটি শুধু সংখ্যার গল্প নয়। এটি বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের কোটি কোটি মানুষের ফুটবলের মাধ্যমে একত্র হওয়ার গল্প। স্টেডিয়ামের পরিবেশ, দর্শকদের আবেগ এবং উচ্ছ্বাস এই বিশ্বকাপকে বিশেষ করে তুলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচটি শুধু সামগ্রিক দর্শকসংখ্যার রেকর্ডই গড়েনি। ফক্সের সম্প্রচারে এটি ইংরেজি ভাষায় সম্প্রচারিত ইতিহাসের সবচেয়ে বেশি দেখা পুরুষ বিশ্বকাপ ম্যাচে পরিণত হয়েছে। একই সঙ্গে টুর্নামেন্টের ইতিহাসে যুক্তরাষ্ট্র জাতীয় দলের সবচেয়ে বেশি স্ট্রিম হওয়া ইংরেজি ভাষার ম্যাচও এটি।
অন্যদিকে তেলেমুন্ডো জানিয়েছে, এটি স্প্যানিশ ভাষার টেলিভিশনে সম্প্রচারিত যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বেশি দেখা বিশ্বকাপ ম্যাচ। পাশাপাশি মেক্সিকোকে ছাড়া অন্য কোনো দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ম্যাচগুলোর মধ্যে এটিই সবচেয়ে বেশি দেখা স্প্যানিশ ভাষার সম্প্রচার।
মেক্সিকোর উদ্বোধনী ম্যাচও নতুন রেকর্ড গড়েছে। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মেক্সিকোর জয়ে গড়ে ২ কোটি ৩৪ লাখ দর্শক খেলা দেখেছেন। ফলে এটি একবিংশ শতকে মেক্সিকোর সবচেয়ে বেশি দেখা বিশ্বকাপ ম্যাচে পরিণত হয়েছে। ম্যাচটি দেশটির টেলিভিশন বাজারে ৭২ দশমিক ১ শতাংশ অংশীদারিত্ব অর্জন করে। অর্থাৎ মেক্সিকোর প্রতি চারজন টিভি দর্শকের মধ্যে প্রায় তিনজনই তখন জাতীয় দলের খেলা দেখছিলেন।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রেও ম্যাচটি ব্যাপক সাড়া ফেলে। সেখানে প্রায় ২ কোটি দর্শক ম্যাচটি দেখেছেন, যা স্প্যানিশ ভাষায় সম্প্রচারিত কোনো বিশ্বকাপ উদ্বোধনী ম্যাচের জন্য নতুন রেকর্ড।
কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচও উল্লেখযোগ্য দর্শক টেনেছে। বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে কানাডার ম্যাচটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষার সম্প্রচারে গড়ে ৩১ লাখ দর্শক দেখেছেন। ফলে এটি একবিংশ শতকে কানাডা পুরুষ জাতীয় দলের অংশগ্রহণে তৃতীয় সর্বাধিক দেখা বিশ্বকাপ ম্যাচে পরিণত হয়েছে। ফিফার মতে, টুর্নামেন্ট শুরুর পর থেকেই স্টেডিয়ামে ১০ লাখের বেশি দর্শক সরাসরি খেলা দেখেছেন। টেলিভিশন ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে রেকর্ডসংখ্যক দর্শকের উপস্থিতি প্রমাণ করছে, ২০২৬ বিশ্বকাপ মাঠের ভেতরের পাশাপাশি মাঠের বাইরেও ইতিহাস গড়ছে।
