কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে আর্জেন্টিনার ৩-০ ব্যবধানের জয় ছাপিয়ে ফুটবল বিশ্ব এখন বুঁদ কেবল একটি নামেই-লিওনেল মেসি। আলজেরিয়াকে একাই চূর্ণ করে বিশ্বকাপে জার্মানির মিরোস্লাভ ক্লোসার সর্বোচ্চ ১৬ গোলের কীর্তিতে ভাগ বসিয়েছেন আলবিসেলেস্তে অধিনায়ক। এর মধ্যে একটি কাকতালীয় ঘটনাও ঘটে গেছে!
ঠিক ২০ বছর আগে, ২০০৬ সালের এই ১৬ই জুনে (স্থানীয় সময়) সার্বিয়া ও মন্টেনেগ্রোর বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজের প্রথম গোলটি করেন দীর্ঘকেশী এক তরুণ। দুই দশক পর, সেই একই দিনে আর্জেন্টিনার সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হিসেবে খাতা খোলা মেসি বনে গেলেন দলটির ইতিহাসের বয়োজ্যেষ্ঠ গোলদাতাও। সময়ের আবর্তে গতি কিছুটা কমলেও, তার ক্ষুরধার মস্তিষ্ক আর শূন্যস্থান খুঁজে নেয়ার ক্ষমতা যে এখনো কতটা নিখুঁত, তা হাড়ে-হাড়ে টের পেয়েছে আলজেরিয়ার রক্ষণভাগ।
ম্যাচ শেষে ‘প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’-এর ট্রফি হাতে স্বভাবসুলভ বিনয়ী মেসি ব্যক্তিগত এই অর্জনকে কিছুটা আড়াল করতেই চাইলেন। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সত্যি বলতে, রেকর্ডটি আমার কাছে মুখ্য নয়। ক্লোসা কিংবা রোনালদোর মতো কিংবদন্তিদের পাশে থাকাটা অবশ্যই সম্মানের। কিলিয়ান এমবাপ্পেও আজ দুটি গোল করেছে। দিনশেষে এগুলো কেবলই পরিসংখ্যান, এর বেশি কিছু নয়।
তবে মেসি মুখে যা-ই বলুন না কেন, তার তীব্র প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব সতীর্থদের অজানা নয়। যদিও প্রিয় বন্ধু রদ্রিগো ডি পল হেসে উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “আমি কসম খেয়ে বলছি, ও এসবের (রেকর্ডের) কোনো তোয়াক্কাই করে না। মাঝেমাঝে আমরা যখন একসঙ্গে বসে মাতে (আর্জেন্টাইন চা) খাই, তখন ওকে বলি-‘বন্ধু, তুমি আর মাত্র এক বা দুই গোল দূরে আছো।’ ও সত্যি অবাক হয়ে তাকায়, যেন কিছুই জানে না!”
বিশ্বকাপে নিজের প্রথম হ্যাটট্রিক তুলে নিয়ে ম্যাচের ৮০তম মিনিটে যখন মেসি মাঠ ছাড়ছেন, তখন ৭০ হাজার দর্শকের করতালিতে মুখরিত স্টেডিয়াম। কোচ লিওনেল স্কালোনির আবেগপ্রবণতার কথা তো আর অজানা নয় কারো। এই রাতেও আবেগ ধরে রাখতে পারেননি তিনি। কেঁদেই ফেললেন। ম্যাচ শেষে অশ্রুসিক্ত চোখে স্কালোনি বলেন, ‘আমার কোনো ভাষা নেই, যা-ই বলব তা-ই কম হয়ে যাবে। গত ২০ বছর ধরে ও এটিই করে আসছে।’ মেসির লড়াকু মানসিকতা নিয়ে স্কালোনি আরও বলেন, ‘সে মাঠের একটা বলের আশাও সহজে ছাড়ে না। এটিই আমাদের খেলার ধরন। জয় ছাড়াও মেসির লড়াকু মানসিকতা আমাদের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’ ডি পলের ভাষায়, ‘ও একটা দানব। সবচেয়ে বড় কথা, ও এখন চাপমুক্ত হয়ে খেলাটা উপভোগ করছে এবং ওর এই আনন্দ পুরো দলের মাঝে ছড়িয়ে পড়ছে।’
