ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেইনসে আয়োজিত বিশ্ব নেতাদের জি৭ শীর্ষ সম্মেলন শেষ হয়েছে। সম্মেলনের এক ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে ফের আলোচনায় এসেছে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির মধ্যকার রসায়ন। তাদের এই রসায়ন ইন্টারনেট দুনিয়ায় আবারও ‘মেলোডি’ ট্রেন্ডকে ফিরিয়ে এনেছে। ভিডিওতে দেখা যায় শীর্ষ সম্মেলনের একটি গ্রুপ ছবির জন্য লাইনে দাঁড়ানোর ঠিক আগ মুহূর্তে দুই নেতা একে অপরকে অভিবাদন জানান এবং করমর্দন করেন। ভিডিওর অডিও খুব একটা স্পষ্ট না হলেও, বোঝা যায় প্রধানমন্ত্রী মোদি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তাদের জনপ্রিয়তার প্রসঙ্গটি মেলোনির কাছে তোলেন।
এর জবাবে ইতালির প্রধানমন্ত্রী হাসিমুখে বলেন, “হ্যাঁ, আমরা ইনস্টাগ্রামের সবচেয়ে বিখ্যাত জুটি’।
‘মেলোডি’ ও চকলেট উপহার: এই ঘটনার মাত্র এক মাস আগে রোম সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী মোদি মেলোনিকে ভারতের একটি জনপ্রিয় চকলেট ‘পার্লে মেলোডি’ উপহার দিয়েছিলেন, যা ইন্টারনেটে তাদের নামের মিশ্রণে তৈরি ‘মেলোডি’ হ্যাশট্যাগের প্রতিফলন ছিল। মেলোনি সেই উপহারের ভিডিও নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করে লিখেছিলেন, উপহারের জন্য ধন্যবাদ। ভিডিওতে দেখা যায়, চকলেটের প্যাকেট হাতে দুই নেতাই এই ইন্টারনেট ট্রেন্ড নিয়ে বেশ হাসাহাসি করছেন।
যেভাবে শুরু মেলোডি ট্রেন্ড: জর্জিয়া মেলোনি এবং নরেন্দ্র মোদির নামের প্রথম অংশ মিলিয়ে তৈরি ‘মেলোডি’ শব্দটি মূলত ২০২৩ সালের একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর ইন্টারনেট কৌতুক হিসেবে শুরু হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তাদের মধ্যকার আন্তরিক ও স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্তগুলোর ভিডিও এবং মিম কোটি কোটি ভিউ হয়। মেলোনি নিজে ২০২৪ সালে মোদির সাথে একটি সেলফি পোস্ট করে লিখেছিলেন, হাই ফ্রেন্ডস, ফ্রম হ্যাশট্যাগ মেলোডি। এরপর ২০২৫ সালের জি৭ সম্মেলনেও তিনি একটি সেলফি ভিডিও পোস্ট করে ক্যাপশন দিয়েছিলেন, হ্যালো, ফ্রম দ্য মেলোডি টিম।
মিষ্টি রসায়নের মোড়কে কূটনীতি: প্রধানমন্ত্রী মোদি ও মেলোনির এই চমৎকার রসায়ন কেবল ছবি তোলার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি দুই দেশের পররাষ্ট্রনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ভারত-মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর (আইএমইসি) বাস্তবায়নে ইতালি এখন ভারতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক অংশীদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বর্তমানে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ১৬৭৭ কোটি ডলার ছাড়িয়ে গেছে। গত মাসেও প্রধানমন্ত্রী মোদির পাঁচ দেশ সফরের শেষ অংশে মেলোনির আমন্ত্রণে এক নৈশভোজে অংশ নেন। সেখানে আইকনিক কলোসিয়াম পরিদর্শনের পাশাপাশি দুই নেতা বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক ও বৈশ্বিক বিষয়ে গভীর আলোচনায় অংশ নেন।
