হরমুজ প্রণালি দিয়ে ইরানি জাহাজ চলাচলা শুরু করেছে। তেহরানের সাথে হওয়া চুক্তির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণার পর, অন্তত তিনটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকার এবং দুটি কার্গো জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, চুক্তি ঘোষণার পরপরই জাহাজগুলো এই কৌশলগত জলপথ অতিক্রম করে। অন্যদিকে আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজ জানায়, ইরানি বন্দরগুলোর দিকে রওনা হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে একটি বিশাল অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকারও রয়েছে। বিশ্বের তেল এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) চালানের একটি বড় অংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়।
ফলে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান চুক্তির পর এই জলপথে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করার লক্ষণগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিশ্ব। এই চুক্তি ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে তেলের দাম নাটকীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের পর প্রথম দৃশ্যমান ফলাফল হিসেবে দেখা হচ্ছে এই জাহাজ চলাচলকে। এটিকে অগ্রগতির বড় লক্ষণ হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ইরানিদের কাছে এই সমঝোতা স্মারক নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রথম শর্তই ছিল তাদের ওপর থেকে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা। এদিকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক নিয়ে ইরানের সাধারণ জনগণের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাধারণ মানুষের মনে এক ধরনের গভীর অবিশ্বাস রয়েছে। তারা এই চুক্তিতে থাকা প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের বাস্তব ও দৃশ্যমান প্রমাণ দাবি করছেন।
ইরানি জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া তাদের জন্য একটি ইতিবাচক লক্ষণ হতে পারে। ইরানের আয়ের মূল উৎস হলো তেল। ফলে আন্তর্জাতিক জলসীমার উদ্দেশ্যে হরমুজ প্রণালি দিয়ে এসব তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করার অর্থ হলো দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রা আসবে এবং তারা অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে।
