দিল্লিতে উপদেষ্টাকে হেনস্তা, সম্পর্কে অস্বস্তি, প্রতিবাদ

সহযোগীদের খবর

দিল্লিতে উপদেষ্টাকে হেনস্তা, সম্পর্কে অস্বস্তি, প্রতিবাদ

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘দিল্লিতে উপদেষ্টাকে হেনস্তা, সম্পর্কে অস্বস্তি, প্রতিবাদ’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর তথ্যবিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমানের দিল্লি সফরের বিষয়টি অন্তত দুই দিন আগেই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছিল বাংলাদেশ। এরপরও গত রোববার দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে প্রায় আড়াই ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়। পরে উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হলেও তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে ঢাকায় ফিরে আসেন।

পূর্বনির্ধারিত সফরে গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ার ঘটনায় গতকাল সোমবার ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে তলব করা হয়। এ সময় দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাকে অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ জানানো হয়।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক ইতিবাচক পথে এগোনোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাতে নতুন করে অস্বস্তি তৈরি করেছে। সীমান্তে বিএসএফের ‘পুশ ইন’ চেষ্টার পর এবার প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে দিল্লি বিমানবন্দরে অপেক্ষায় রাখার ঘটনা দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেলতে পারে।

সরকারের দায়িত্বশীল একাধিক সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে জানায়, দিল্লিতে ভারত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা জোট আইওআরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের দুই দিনের বৈঠকে যোগ দেওয়ার কথা ছিল জাহেদ উর রহমানের। ওই বৈঠকের ফাঁকে ভারতের রাজনৈতিক ও সরকারি পর্যায়ে তাঁর কয়েকটি বৈঠকের সূচিও নির্ধারিত ছিল।

সূত্রগুলো জানায়, আগামী দু-এক মাসের মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফরের আয়োজন করা যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনার জন্য ওই বৈঠকগুলো ঠিক হয়েছিল। ফলে দিল্লি বিমানবন্দরের ঘটনাকে শুধু ইমিগ্রেশন-সংক্রান্ত জটিলতা হিসেবে দেখছে না ঢাকার কূটনৈতিক মহল।

ভারতের গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, দিল্লি বিমানবন্দরে যাচাই (স্ক্রিনিং) প্রক্রিয়ার সময় জাহেদ উর রহমানের নাম নজরদারি তালিকায় উঠে আসার পর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষায় রাখা হয়।

ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনারকে তলব

ঢাকায় ভারতের ভারপ্রাপ্ত হাইকমিশনার পাওয়ানকুমার বাধেকে গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তলব করে। এদিন রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় তাঁকে ডেকে পাঠান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (দক্ষিণ এশিয়া অনুবিভাগ) ইশরাত জাহান। তলবের সময় প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার সঙ্গে গত রোববার দিল্লির বিমানবন্দরে যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে, তাতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, দিল্লির ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত। এর আগে তিনি ঘটনাটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত’ ও ‘দুঃখজনক’ অভিহিত করে বলেছিলেন, এ বিষয়ে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামও সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে বলেন, দিল্লি বিমানবন্দরে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার সঙ্গে যা হয়েছে, তা কোনোভাবেই প্রত্যাশিত নয়।

উপদেষ্টার সফর নিয়ে চিঠি ও ফোনালাপ

গত শুক্রবার দুপুরে বাংলাদেশ হাইকমিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়ে জানায় যে আইওআরের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

সূত্র জানায়, ওই দিন বিকেলে বাংলাদেশের হাইকমিশনার এম রিয়াজ হামিদুল্লাহ ফোনে কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র বি শ্যামের সঙ্গে। তখন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জাহেদ উর রহমান বাংলাদেশ সরকারের প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদাপ্রাপ্ত ব্যক্তি। এ সময় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে জানান আরও একাধিক উপমন্ত্রী–প্রতিমন্ত্রীও আইওআরের বৈঠকে প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন।

প্রসঙ্গত, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা সবুজ পাসপোর্টধারী ছিলেন। ঢাকায় সময়ের স্বল্পতার কারণে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তাঁকে দিল্লি ভ্রমণের জন্য সার্ক ভিসা অব্যাহতি স্টিকার দিয়েছিল।

যা ঘটেছিল ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে

গত রোববার বিকেল পাঁচটার পর প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ঢাকা থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার ফ্লাইটে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান। বিমানবন্দরে নামার পর তাঁকে অভ্যর্থনা জানিয়ে ইমিগ্রেশন ডেস্কে নিয়ে যান দিল্লিতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ।

একপর্যায়ে হাইকমিশনার লক্ষ করেন, ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টার ব্যক্তিগত বৃত্তান্ত কম্পিউটার স্ক্রিনে খুব মনোযোগ দিয়ে পরীক্ষা করছেন, কিন্তু কিছু বলছেন না। প্রায় ১৫ মিনিট কেটে যাওয়ার পর বাংলাদেশের হাইকমিশনার তাঁর কাছে জানতে চান, ‘কোনো সমস্যা আছে কি?’ কিন্তু নীরব থাকেন ওই কর্মকর্তা।

এর কিছুক্ষণ পর ওই কর্মকর্তা জাহেদ উর রহমানের জন্মস্থান কোথায়, এর আগে ভারত সফর করেছিলেন কি না, তা জানতে চান। এরপর ডেস্ক থেকে উঠে ওই কর্মকর্তা ভেতরে যান। ফিরে এসে তিনি জাহেদ উর রহমানের আঙুলের ছাপ এবং আইরিশ স্ক্যান নেন।

কিছুক্ষণ পর ইমিগ্রেশন কর্মকর্তা প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাকে বলেন, আপনি সোফায় গিয়ে বসুন। কিছুটা সময় লাগবে।

দিল্লি বিমানবন্দরে নামার পর এমন কালক্ষেপণ দেখে বাংলাদেশের হাইকমিশনার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। কয়েক দফা তাঁদের মধ্যে ফোনে কথা হয়। একপর্যায়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশের হাইকমিশনারকে জানানো হয়, ভারতের ইমিগ্রেশন বিভাগের নথিতে জাহেদ উর রহমানকে বারড বা ওয়াচলিস্টে দেখানো হচ্ছে। এমন অবমাননাকর পরিস্থিতির পর ঢাকায় সর্বোচ্চ রাজনৈতিক মহলে যোগাযোগ করেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা। ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগ করে উপদেষ্টা দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন।

তখন বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকর্তারা ভারতীয় ইমিগ্রেশন থেকে পাসপোর্ট ফেরত দেওয়ার কথা বলেন। তখন ভারতীয় কর্মকর্তারা জানান, জাহেদ উর রহমানের ছাড়পত্র হয়ে গেছে এবং তিনি প্রবেশ করতে পারেন। দিল্লির বিমানবন্দরের এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশের যাত্রীরা।

সংসদে বিবৃতির দাবি জামায়াতের

জাহেদ উর রহমানকে দিল্লিতে প্রবেশে বাধা দেওয়ার ঘটনায় জাতীয় সংসদে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দাবি করেছেন জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সাইফুল আলম খান। গতকাল পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টাকে ভারতে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তিনি যতটুকু জেনেছেন, যথাযথ কূটনৈতিক চিঠি দেওয়ার পরও তথ্য উপদেষ্টাকে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী বিমানবন্দরে দুই ঘণ্টা বসিয়ে রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া হলেও তথ্য উপদেষ্টা ফিরে এসেছেন। তিনি জানতে চান, এ ক্ষেত্রে কূটনৈতিক ব্যর্থতা কী? এ বিষয়ে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি ৩০০ বিধিতে জাতীয় সংসদে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর বিবৃতি দাবি করেন।

তবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, বিষয়টি পয়েন্ট অব অর্ডার নয়; এ বিষয়ে নোটিশ দেওয়া হলে তা বিবেচনা করা হবে।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘ইসির কেনাকাটায় হরিলুট’। প্রতিবেদনে বলা হয়, নির্বাচন কমিশনে তথ্যপ্রযুক্তি সরঞ্জাম কেনাকাটায় ভয়াবহ দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে। আইডিইএ-২ প্রকল্পের আওতায় ভোটার তালিকা হালনাগাদ ও এনআইডি সার্ভারের জন্য কেনা কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রাংশের বড় অংশই কাগজে আছে, বাস্তবে নেই। যা সরবরাহ করা হয়েছে তাও নিম্নমানের ও রিফার্বিশড (ব্যবহৃত)। এমন জালিয়াতির সুযোগ করে দিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নগদ টাকা ও দামি মোবাইল ফোন ঘুস হিসাবে নিয়েছেন ইসির কয়েকজন কর্মকর্তা। সম্প্রতি একটি তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। তদন্তে ধরা পড়ার পর অভিযুক্ত পাঁচজন ঘুসের টাকা ও মোবাইল ফেরতও দিয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে কমিশন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, তথ্যপ্রযুক্তি ও আইটি যন্ত্রাংশ কেনাকাটা এবং এনআইডি (জাতীয় পরিচয়পত্র) তথ্যভান্ডার রক্ষণাবেক্ষণকে কেন্দ্র করে নির্বাচন কমিশনে একাধিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। যারা টেন্ডার কারসাজি, নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ক্রয় এবং গুদাম থেকে যন্ত্রাংশ নিয়ে বাইরে বিক্রি করে দেওয়াসহ নানা অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িত। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই এসব জালিয়াতির ঘটনা ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যায়।

জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, অনিয়মের ঘটনায় জড়িত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ইসির কর্মকর্তাদের অপরাধের মাত্রা আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে, সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর ইনহ্যান্সিং একসেস টু সার্ভিসেস (আইডিইএ-২) প্রকল্পের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী যুগান্তরকে বলেন, ওই ঘটনায় জড়িত প্রকল্পের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা স্থগিত করা হয়েছে। কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।

জানা গেছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য জরুরি ভিত্তিতে আইডিইএ-২ প্রকল্পের আওতায় আইটি যন্ত্রাংশ ও আনুষঙ্গিক মালামাল কেনা হয়। জিডি-৩৬.১ এবং জিডি-৫৭ প্যাকেজের মালামাল কেনা ও ব্যবহারে অনিয়ম পেয়েছে এ প্রকল্পের উপপ্রকল্প পরিচালক মেজর মো. তারেক আজিজের নেতৃত্বাধীন সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি। যদিও কমিটিতে ইসির নিজস্ব কর্মকর্তাদের কেউ ছিলেন না।

ঘটনা-১: প্যাকেজ জিডি ৩৬.১ এর আওতায় ভোটার তালিকার সার্ভারের জন্য আট ধরনের এক হাজার ৪০২ পিস যন্ত্রাংশ এবং ইসির কর্মকর্তাদের ল্যাপটপের জন্য পাঁচ ধরনের তিন হাজার ৫০ পিস নতুন ও অরিজিনাল যন্ত্রাংশ কেনার জন্য টেন্ডার হয়। চার কোটি ৪৩ লাখ ৫১ হাজার টাকায় ওইসব যন্ত্রাংশ সরবরাহের কাজ পায় ‘টিমওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড সল্যুশন’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সার্ভারের জন্য ডেল ব্র্যান্ডের ২০০ পিস টাইপ-১ মাদারবোর্ড সরবরাহের কথা থাকলেও বাস্তবে ৫৮ পিস পেয়েছে তদন্ত কমিটি। বাকি ১৪২ পিস মাদারবোর্ডের হদিস নেই। যেসব মাদারবোর্ড পাওয়া গেছে সেগুলোও নতুন নয়, রিফার্বিশড। ৮০০ পিস হার্ডডিস্ক সরবরাহের কথা থাকলেও তদন্ত কমিটি ৪৪৫ পিস পেয়েছে। সেগুলোও রিফার্বিশড। ১০০ পিস প্রসেসরের স্থলে পেয়েছে ৫১ পিস। তাও স্থানীয় প্যাকেটজাত করা এবং কুলিং ফ্যান নেই। একইভাবে ল্যাপটপের জন্য এক হাজার ২০০ এসএসডি’র স্থলে পেয়েছে ২০৪টি। ৪০০ পিস র‌্যাম সরবরাহের কথা থাকলেও কমিটি এক পিসও পায়নি। ল্যাপটপের অ্যাডাপ্টার ২৫০ পিসের স্থলে ১২ পিস পেয়েছে কমিটি।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. তারেক রহমানসহ প্রকল্পের কিছু কর্মকর্তা-কর্মচারী এই জালিয়াতিতে জড়িত। অন্যরা হলেন-আইডিইএ-২ প্রকল্পের হার্ডওয়্যার কনসালটেন্ট কে. এম মাসুদুর রহমান কামাল, সহকারী প্রোগ্রামার মো. সুজন হোসেন, সহকারী প্রোগ্রামার মো. মাজেদুর রহমান ও ডাটা এন্ট্রি অপারেটর মো. ফজলে রাব্বী।

এতে আরও বলা হয়, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চুক্তি অনুযায়ী সব মালামাল সরবরাহ করেনি। কিছু মালামাল সরবরাহ করেছে। বাকি মালামালের বিনিময়ে ১৮ লাখ টাকা উপঢৌকন দিয়েছেন। সুজন হোসেন তদন্ত কমিটিকে দেওয়া জবানবন্দিতে জানান, ১৮ লাখ টাকা থেকে তার সহযোগী মাজেদুর রহমানকে ৮ লাখ টাকা এবং আরেক সহযোগী ফজলে রাব্বীকে দুই লাখ টাকা দিয়েছেন। যদিও একপর্যায়ে তিনজনই কমিটির কাছে সব টাকা ফেরত দিয়েছেন।

কালের কণ্ঠ

‘আবাসনে অর্থনীতি পুনরুদ্ধার’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারে আবাসন খাতে গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও বিশ্লেষকরা। এই খাতের বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব রয়েছে।

একটি ফ্ল্যাট বা বাড়ির পেছনে ব্যয় হওয়া অর্থ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে দুই শতাধিক সংযুক্ত শিল্প খাতে ছড়িয়ে পড়ে। বিপুল কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এ খাতের জুড়ি নেই। মূলধনের সঞ্চালন ঘটিয়ে বিশ্বজুড়ে এটি মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, জিডিপিতে প্রায় ১৫ শতাংশ অবদান রাখা এই খাতের সংকট বাড়লে অর্থনীতিকেই বিপর্যয়ের মুখে ঠেলে দিতে পারে।

সঠিক পরিকল্পনা ও সরকারি নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা গেলে এই খাত দক্ষ পেশাজীবীদের জন্য ব্যাপক নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করবে।

অর্থনীতি বিশ্লেষক ও ফিন্যানশিয়াল এক্সিলেন্স লিমিটেডের চেয়ারম্যান মামুন রশীদ কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আবাসন খাত যেকোনো দেশের অর্থনীতিতেই ‘রিয়েল সেক্টর’ বা প্রকৃত উৎপাদনশীল খাত হিসেবে বিবেচিত। সামষ্টিক অর্থনীতির স্পন্দন বা গতি-প্রকৃতি বুঝতে মূলত আবাসনের চাহিদা, জোগান এবং ফ্ল্যাট বিক্রির গ্রাফের ওপর নির্ভর করা হয়। দেশে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা ও স্থবিরতার কারণে ফ্ল্যাট বিক্রি এখন তলানিতে নেমে এসেছে।

স্বাভাবিক কারণেই আমাদের মতো জমি স্বল্পতার দেশে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তরা মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে ফ্ল্যাটের দিকেই ঝুঁকছেন। কিন্তু বাজারে নির্মাণসামগ্রী ও জমির দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ফ্ল্যাটের দাম সাধারণ মানুষের সাধ্যের বাইরে চলে গেছে। এর ওপর ব্যাংকঋণ পাওয়াও এখন অনেক কঠিন।’

অর্থনীতির চাকা সচল করতে এই খাতে প্রণোদনার পরামর্শ দিয়ে তিনি বলেন, ‘সবকিছু মিলিয়ে ফ্ল্যাট বিক্রি কমে যাওয়ার এই নেতিবাচক প্রভাব সরাসরি দেশের আবাসন খাতকে আঘাত করছে, যা জাতীয় অর্থনীতির গতিকে শ্লথ করে দিচ্ছে। এই গভীর মন্দাবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য আবাসন খাত তথা আবাসনসংশ্লিষ্ট নির্মাণশিল্পকে এই মুহূর্তে বিশেষ নীতি সহায়তা ও প্রণোদনা দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।’

খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি আবাসন ও রিয়েল এস্টেট খাত এখন চরম মন্দার মুখে। জ্বালানি ও নির্মাণ উপকরণের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহার ও ডলারের অস্থিরতায় ফ্ল্যাট বিক্রি ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে প্রায় ৫০ শতাংশ। এ অবস্থার মধ্যেই ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে রডের ওপর সুনির্দিষ্ট ভ্যাট বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে, যা এই খাতকে আরো দুর্বল করে দিতে পারে।

রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) তথ্যানুযায়ী, কয়েক বছর আগেও পুরো শিল্প খাতে মাসিক ফ্ল্যাট বিক্রি আগে যেখানে প্রায় এক হাজারটি ছিল, এখন তা কমে ৫০০-তে নেমে এসেছে। সবচেয়ে বড় ধাক্কা খেয়েছে বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের বাজার। বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টের বিক্রি ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ কমেছে।

রিহ্যাব সভাপতি আলী আফজাল বলেন, বর্তমানে নিবন্ধন ব্যয় ১৩ শতাংশের ওপর থাকায় ফ্ল্যাট ও জমি কেনাবেচা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশে আবাসন খাতে নিবন্ধন ব্যয় সর্বোচ্চ। নিবন্ধন ব্যয় কমিয়ে ৭ শতাংশ করার প্রস্তাব দিয়েছিল রিহ্যাব। কিন্তু প্রস্তাবিত বাজেটে তার প্রতিফলন দেখা যায়নি।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘প্রিপেইড মিটার রিচার্জ নিয়ে দুর্ভোগে ৫৫ লাখ গ্রাহক’। খবরে বলা হয়, বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার রিচার্জ করা নিয়ে গ্রাহকরা ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েছেন। সবচেয়ে বড় জটিলতা দেখা দিয়েছে রিচার্জ করার সময় পাওয়া টোকেনের লম্বা সংখ্যা নিয়ে। মিটারে টাকা রিচার্জ করার সময় ২০ ডিজিটের বদলে ২০০ থেকে ৩০০ সংখ্যার টোকেন নম্বর আসছে। এত বড় সংখ্যা প্রবেশ করাতে গিয়ে বারবার ভুল হওয়ায় মিটার লক হয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে বিদ্যুৎ সংযোগ। সমস্যা সমাধানের জন্য ছুটতে হচ্ছে বিদ্যুৎ অফিসে। অনেককে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, কোথাও কোথাও পুরো দিন বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে।

এর পাশাপাশি রিচার্জের পর আগের ব্যালান্স যোগ না হওয়া, বিভিন্ন খাতে অতিরিক্ত অর্থ কেটে নেওয়া এবং সার্ভার জটিলতার অভিযোগও করছেন গ্রাহকরা।

বর্তমানে দেশে প্রায় পাঁচ কোটি গ্রাহককে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি, ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি), ঢাকা ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো), ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি এবং নর্দার্ন ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এর মধ্যে প্রিপেইড মিটারের গ্রাহক প্রায় ৫৫ লাখ।

সারাদেশে ভোগান্তি

শহর থেকে গ্রামের প্রিপেইড মিটারের বিভিন্ন পর্যায়ের গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলেছেন সমকালের ১৪ জন জেলা প্রতিনিধি। তাদের কাছে প্রিপেইড মিটার নিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভোগান্তির কথা তুলে ধরেছেন গ্রাহকরা।

ইত্তেফাক

‘বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমার স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত জনগোষ্ঠীর ওপর চাপ কমার সুস্পষ্ট ইঙ্গিত নেই বলে মন্তব্য করেছেন নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও মজুরিসংকট এবং সঞ্চয়ের অবক্ষয়—এই তিন ধরনের চাপের মধ্যেই নিম্ন-মধ্যবিত্তদের থাকতে হবে। রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে গতকাল সোমবার এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। ‘জাতীয় বাজেট ২০২৬-২৭ :অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জন্য কী আছে?’ শীর্ষক এ ব্রিফিংয়ে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন তিনি। ব্রিফিং সঞ্চালনা করেন নাগরিক প্ল্যাটফরমের কোর গ্রুপ সদস্য এবং সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক ড. মুস্তাফিজুর রহমান। এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধূরী, সিপিডির অতিরিক্ত পরিচালক তৌফিকুল ইসলাম খান প্রমুখ।

ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, সামাজিক সুরক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত থাকলেও বাজেটে বড় অঙ্কের থোক বরাদ্দ উদ্বেগের কারণ। তার মতে, এতে আর্থিক শৃঙ্খলা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। অনেক সময় প্রকৃত অর্থায়নের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়। তিনি বলেন, পরিচালন ব্যয় এখনো অত্যন্ত বেশি। ফলে রাজস্ব উদ্বৃত্ত থেকে উন্নয়ন কর্মসূচির অর্থায়ন খুবই সীমিত। রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হলে সরকার কোথায় ব্যয় সমন্বয় করবে, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। ভর্তুকি কমানো হলে তার প্রভাব পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর ওপর পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করেন তিনি। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ না করা হলে গরিব বা অসুবিধাগ্রস্ত মানুষের জীবনমানের সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে না।

কর ব্যবস্থার বিষয়ে ড. দেবপ্রিয় বলেন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হলেও মাসে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা আয় করা মানুষের ওপর চাপ আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে না। ভবিষ্যতে রাজস্ব আহরণের বড় অংশ ভ্যাট থেকে আনার পরিকল্পনা রয়েছে, যা আয়ের স্তর নির্বিশেষে জনগণের ওপর করের চাপ সৃষ্টি করবে। তিনি বলেন, এলপিজি সিলিন্ডার, রেস্তোরাঁয় খাওয়া, নির্মাণসামগ্রী এবং বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের মাধ্যমে ভ্যাটের প্রভাব সাধারণ মানুষের ওপর পড়বে। ফলে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের জীবনযাত্রার ব্যয় আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কিছু সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন তিনি। টিআইএন ও বিআইএন নিবন্ধন সম্প্রসারণ, কর ব্যবস্থার ডিজিটালাইজেশন, কর ফাঁকি রোধে পদক্ষেপ এবং ব্যবসাবান্ধব কিছু কর সংস্কারকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। ড. দেবপ্রিয় বলেন, বাজেটে বিনিয়োগ ও ব্যবসা সহজীকরণের বিভিন্ন উদ্যোগ রয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল পেতে হলে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে শুল্ক ও করে যেসব পরিবর্তন আনা হয়েছে, সেগুলো কিছু কিছু বিনিয়োগবান্ধব। তবে আর্থিক খাত, জ্বালানি খাত ও প্রশাসনে যেসব সংস্কার দরকার, সেগুলো না করা হলে শুধু শুল্ক ও কর পরিবর্তন করে সাধারণ মানুষের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হবে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সামগ্রিকভাবে বাজেটে সামাজিক সুরক্ষার কিছু উদ্যোগ থাকলেও নিম্ন-মধ্যবিত্ত মানুষের জন্য তা যথেষ্ট নয়। ফলে মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান ও মজুরির অনিশ্চয়তা এবং সঞ্চয় হারানোর ত্রিমুখী চাপ থেকে তারা দ্রুত মুক্তি পাবে বলে মনে হয় না।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধাবসান’। খবরে বলা হয়, দীর্ঘ ১০৬ দিনের রক্তক্ষয়ী ও বিধ্বংসী সঙ্ঘাতের পর অবশেষে যুদ্ধাবসানের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। ২০২৬ সালের ১৫ জুন প্রকাশিত আলজাজিরার এক লাইভ আপডেট প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, দুই দেশই একটি সমঝোতা স্মারক বা ‘মেমোরেন্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং’ চূড়ান্ত করেছে। ইরানের পক্ষ থেকে এটিকে সব ফ্রন্টে, বিশেষ করে লেবাননে যুদ্ধাবসানের একটি চুক্তি হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার নতুন আশার আলো দেখালেও এর স্থায়িত্ব ও কৌশলগত শর্তাবলি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। চলতি সপ্তাহের আগামী শুক্রবার সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এ চুক্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছে।

প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, এই সমঝোতা স্মারকের মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যকার সামরিক বৈরিতার অবসান ঘটবে এবং ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ও দেশটির ওপর আরোপিত অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পথ সুগম হবে। তবে চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো কুয়াশাচ্ছন্ন।

তেহরান থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি তৌহিদ আসাদি জানান, ইরান এই চুক্তিকে নিজেদের একটি বড় বিজয় হিসেবে প্রচার করছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই নিশ্চিত করেছেন লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি এই সমঝোতায় স্পষ্টভাবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা তেহরানের অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। এ ছাড়া অতীতে এবং সাম্প্রতিক যুদ্ধে (জুন ২০২৫ এবং পরবর্তী সময়ে) হওয়া ক্ষয়ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ এবং ইরানের অবরুদ্ধ অর্থ ছাড়ের দাবিও এই চুক্তির অংশ।

তবে ওয়াশিংটন থেকে আলজাজিরার প্রতিনিধি অ্যালান ফিশার জানান, মার্কিন প্রশাসন বিষয়টিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন দাবি করছে যে, তারা ওবামা আমলের চেয়েও অনেক ভালো একটি চুক্তি করতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট করেছেন ইরানকে কোনো নগদ অর্থ দেয়া হচ্ছে না। এই পরস্পরবিরোধী বয়ানের কারণে চুক্তির ভেতরের সুনির্দিষ্ট মেকানিজম বা পদ্ধতিগুলো এখনো সাধারণ মানুষের কাছে স্পষ্ট নয়।

হরমুজ প্রণালী: শুল্ক বিতর্ক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

এই যুদ্ধের অন্যতম বড় অর্থনৈতিক ধাক্কা ছিল হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া। বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারের জন্য অন্যতম লাইফলাইন হিসেবে পরিচিত এই প্রণালীটি চালুর বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ট্রুথ সোশ্যালে লিখেছেন, ‘জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে চলাচল শুরু করেছে, যার মধ্যে অনেকগুলোই তেল বোঝাই।’ তিনি একে ‘সাউদার্ন হাইওয়ে’ হিসেবে উল্লেখ করে নিরাপদ পথ বলে দাবি করেন।

তবে হরমুজ প্রণালী ব্যবহারের শর্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। ইরান ও ওমান যৌথভাবে ঘোষণা করেছে এই প্রণালী দিয়ে চলাচলকারী বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর কাছ থেকে ‘পরিষেবা শুল্ক’ নেয়া হবে। ইসমাইল বাঘাই জানান, আন্তর্জাতিক আইনানুযায়ী জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষা এবং এই জলপথের পরিবেশ ও সার্বিক সুরক্ষায় ইরান-ওমান যে বিপুল অর্থ ব্যয় করবে, তার জন্য এই ফি আদায় অত্যন্ত যৌক্তিক।

আজকের পত্রিকা

‘ফার্মেসিতেই মান হারাচ্ছে ওষুধ’-এটি দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, গরম থেকে বাঁচতে মানুষ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, ফ্যানসহ নানা উপায় বেছে নিলেও জীবন রক্ষাকারী ওষুধের ক্ষেত্রে সেটা মানা হয় না বেশির ভাগ ফার্মেসিতে। আর সঠিক ব্যবস্থাপনা না থাকায় ওষুধের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে। সেই ওষুধ সেবন করে চিকিৎসায় সুফল পাচ্ছে না রোগীরা।

ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের এক হিসাবে দেখা গেছে, দেশে সোয়া দুই লাখের বেশি ফার্মেসি রয়েছে। কিন্তু এর কতগুলোতে ওষুধ সঠিক তাপমাত্রায় সংরক্ষণ করা হয়, তার হিসাব নেই তাদের কাছে। তবে ওষুধ নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থার মতে, বেশির ভাগ ফার্মেসিতেই সঠিক তাপমাত্রায় ওষুধ সংরক্ষণ করা হয় না।

সম্প্রতি আজকের পত্রিকার সরেজমিনেও বিষয়টি উঠে এসেছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কলাবাগান, মহাখালীর পাশাপাশি ঢাকার বাইরে পিরোজপুর সদর হাসপাতাল সড়ক, ক্লাব রোড এবং কুমিল্লার কোটবাড়ি ও শহরের কান্দিরপাড় এলাকায় অন্তত ৫০টি ওষুধের দোকান পর্যবেক্ষণ করেছে আজকের পত্রিকা। এতে দেখা গেছে, ৫০টির মধ্যে ৪৬টিতেই শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নেই।

জানতে চাইলে পিরোজপুরের বাজার রোডে ফার্মেসি প্রিন্স মেডিকেল হলের কর্মচারী আলী হোসেন বলেন, ২ থেকে ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে রাখার বাধ্যবাধকতা থাকা ওষুধ সংরক্ষণের জন্য তাঁদের ফ্রিজ রয়েছে। তবে বাকি ওষুধগুলো শুধু সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখা হয়।

ওষুধ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রার সামান্য হেরফেরেও ওষুধের কার্যকারিতা নষ্ট হয়। দেশের বাজারের ৯০ শতাংশ ওষুধ ১৫ থেকে ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ঠান্ডা, শুকনো ও আলোহীন স্থানে সংরক্ষণের নিয়ম। অথচ অনেক ফার্মেসিতে কোনো শীতাতপ নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা নেই।

প্রসঙ্গত, আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকালে পাবনার ঈশ্বরদীতে ছিল দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা, ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। বাতাসে আর্দ্রতা ছিল ৯৪ শতাংশ। আর গরমকালে তাপমাত্রা কোথাও কোথাও ৪০ ডিগ্রিও ছাড়ায়।

গত জানুয়ারিতে প্রকাশিত ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের বার্ষিক প্রতিবেদনে (২০২৪-২৫) বলা হয়, দেশে ২৫১টি অ্যালোপ্যাথিক, ২৫৪টি ইউনানী, ১৬৬টি আয়ুর্বেদিক, ৫৪টি হোমিওপ্যাথিক এবং ৪৪টি হারবাল ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ওষুধ উৎপাদন করে।

অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দেশে বর্তমানে অ্যালোপ্যাথিক ওষুধের অনুমোদিত ও নিবন্ধিত ৩ হাজার ৫৯৯টি জেনেরিকের ৪১ হাজার ১৫৮টি ওষুধ রয়েছে; যেগুলোর অধিকাংশ সংরক্ষণ করতে হয় ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায়। আর দেশে মোট নিবন্ধিত ফার্মেসি ২ লাখ ৩৫ হাজার ৫২১টি। এগুলোর মধ্যে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৪০০টি মডেল ফার্মেসি এবং ৩২ হাজার মডেল মেডিসিন শপ ছিল।

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘বেনজীরকে ফেরানো কঠিন’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে দুবাইয়ে গ্রেপ্তারের পর দেশ-বিদেশে বইছে আলোচনার ঝড়। তাকে কোন প্রক্রিয়ায় দেশে আনা হবে, তা নিয়ে সরকারের শীর্ষ মহলে চলছে আলোচনা। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আলাদাভাবে গতকাল বিশেষ বৈঠকও করেছে। তবে পুলিশের বর্তমান ও সাবেক কর্মকর্তাদের আশঙ্কা যতই উদ্যোগ নেওয়া হোক না কেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানো কঠিন হবে। তাকে কিছু বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে আগামী সপ্তাহে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে একটি বিশেষ টিম দুবাই যাবে। গ্রেপ্তারের পর বেনজীরের কাছ থেকে দুটি দেশের পাসপোর্ট পেয়েছে বলে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে। তবে কোন দেশের পাসপোর্ট, তা জানা যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা দেশ রূপান্তরকে জানান, বেনজীর আহমেদ শুধু একজন পলাতক আসামিই নন, তিনি একসময় বাংলাদেশের পুলিশপ্রধান ছিলেন। এর আগে র‌্যাবের মহাপরিচালক ও ডিএমপির কমিশনারের দায়িত্ব পালন করেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠার পর তিনি দেশ ছাড়েন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফেরানো গেলে এটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, দুদক ও সরকারের জন্য বড় প্রতীকী সাফল্য হবে। তবে বেনজীরকে ফেরাতে হলে গ্রেপ্তারের দিন থেকে এক মাসের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে বাংলাদেশকে। এর মধ্যে না পাঠালে আমিরাতের আদালতে বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল হবে।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলেছেন, প্রত্যর্পণ অনুরোধে মামলার শক্ত ভিত্তি দেখাতে হবে কোন অপরাধে তাকে চাওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের কোন আইনে অভিযোগ, আমিরাতের আইনে তার সমতুল্য অপরাধ কী, বিচারপ্রক্রিয়ার বর্তমান অবস্থা কী, তার বিরুদ্ধে আদালতের কী আদেশ আছে সবকিছু উপস্থাপন করতে হবে। একই সঙ্গে কূটনৈতিক পর্যায়েও সক্রিয় হতে হবে। কারণ, প্রত্যর্পণ শেষ পর্যন্ত আইনি ও কূটনৈতিক দুই ধরনের প্রক্রিয়ায় হয়। আদালত নথি গ্রহণযোগ্য মনে করলেই প্রশাসনিক অনুমোদন, হস্তান্তরের সময়সূচি ও নিরাপদে দেশে আনার ব্যবস্থা হবে। বাংলাদেশকে প্রমাণ করতে হবে, বেনজীরের বিরুদ্ধে মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসার নয়। এটি দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ, জালিয়াতি, অর্থপাচার বা সংশ্লিষ্ট অপরাধের বিচারিক প্রক্রিয়া। একই সঙ্গে দেখাতে হবে, বাংলাদেশে তিনি ন্যায়বিচার পাবেন। তাহলেই হয়তো তাকে দেশে আনা কিছুটা সহজ হতে পারে।

ফেরত আনা কঠিন হবে: পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা দেশ রূপান্তরকে বলেন, বেনজীরের গ্রেপ্তার অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য বড় অগ্রগতি। তবে এটি শেষ ধাপ নয়, পুলিশের রেড নোটিসে কোনো ব্যক্তি শনাক্ত বা গ্রেপ্তার হতে পারেন কিন্তু তাকে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো নির্ভর করে যে দেশে তিনি আটক হয়েছেন, সেই দেশের আইন, আদালত, প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত চুক্তি, কূটনৈতিক তৎপরতা ও মামলার নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতার ওপর। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা অনেক কঠিন হবে। এমনও হতে পারে তাকে আনাই যাবে না। কারণ, হিসেবে তারা বলেন ‘বেনজীর আহমেদ দুটি দেশের নাগরিক বলে আমরা তথ্য পেয়েছি। তাছাড়া দুবাইয়ে তার সহায়-সম্পদ আছে। ওই দেশের এক নাগরিকের সঙ্গে তার ব্যবসা আছে। হুট করে তাকে আনা যাবে না। আজ (গতকাল) আমাদের কাছে তথ্য এসেছে, বেনজীর আহমেদ মামলা পরিচালনার জন্য আইনজীবি নিয়োগ দেবেন। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসানকে গ্রেপ্তারের পর দুবাই সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেওয়া হয়। পুলিশের একটি টিম ওই দেশে গিয়ে আলোচনাও করে। কিন্তু তাকে আনা যায়নি। জিসানের ওই দেশে ব্যবসা ও বেশকিছু সহায়-সম্পদ আছে। এসব দিক দুবাই কর্তৃপক্ষ বেশি আমলে নিচ্ছে।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘জালিয়াতি দুর্নীতির নথি যাচ্ছে দুবাইয়ে’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে কোন উপায়ে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে সেটিই এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। ইতোমধ্যে বেনজীরকে ফেরানোর নথিপত্র প্রস্তুতে কাজ শুরু করেছে সরকার। দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব তৈরির কাজ চলছে। প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রস্তাবে শুধু দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদকের) দায়ের করা পাসপোর্ট জালিয়াতি ও দুর্নীতির ৬টি মামলার নথিপত্র যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের কাছ থেকে সব নথিপত্র পাওয়ার পর বেনজীরকে পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন আমিরাতের আদালত। নথিপত্রের জটিলতায় যাতে বেনজীরের দেশে ফেরা আটকে না যায় সে বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। নথি প্রস্তুত হয়ে গেলে সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অধিশাখায় পাঠানো হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাবে সেগুলো যুক্ত করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। পরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এটি আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। গতকাল সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য জানিয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র জানায়, প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাওয়ার পর আমিরাতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রথমে নথিপত্র যাচাই করবে। সে দেশের আদালত দেখবেন, যে অপরাধের অভিযোগে বাংলাদেশ বেনজীর আহমেদকে ফেরত চাইছে, সেই ধরনের অপরাধ আমিরাতের আইনেও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না। নথিগুলো দেখার পর যদি দুবাই মনে করে- বাংলাদেশে বেনজীরের ন্যায্য বিচার হবে এবং তাকে ফেরত দেওয়া উচিত-তাহলেই বেনজীরকে ফেরানো সম্ভব হবে।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে বৈষম্যবিরোধী ১৭টি, দুদকে ৬টি ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) ৩টি পরোয়ানা রয়েছে। দুদকের ৬টি মামলার মধ্যে একটিতে পরোয়ানা জারি হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের অভিযোগগুলোর মধ্যে গুম কমিশনের দেওয়া অভিযোগ, শাপলা চত্বরে গণহত্যাসহ সারা দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যার মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তবে তাকে দেশে ফেরাতে যে প্রত্যর্পণের প্রস্তাব দুবাইয়ে পাঠানো হবে সেখানে শুধু দুদকের দায়ের করা দুর্নীতি ও জালিয়াতির নথিপত্র পাঠানো হবে। সঙ্গে দুদকের যে মামলায় পরোয়ানা জারি হয়েছে সেটি যুক্ত করা হবে। ইতোমধ্যে পরোয়ানার কপি আরবিতে ট্রান্সলেট করা হয়েছে। মামলার নথিগুলো প্রস্তুত হয়ে গেলে-সেগুলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রাজনৈতিক অধিশাখায় পাঠানো হবে। রাজনৈতিক অধিশাখা কাগজগুলো যাচাইবাছাই করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠাবে। সেখান থেকে দুবাইয়ের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাবের চিঠি পাঠানো হবে।

একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, বুধবার বা বৃহস্পতিবার দুবাইয়ে চিঠি পাঠানো হতে পারে। তবে বুধবারই চিঠি পাঠানোর সম্ভাবনা বেশি। প্রত্যর্পণের প্রস্তাবে বৈষম্যবিরোধী মামলা ও ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানা যুক্ত করার বিষয়ে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, বৈষম্যবিরোধী মামলায় ঢালাও আসামি করার প্রবণতা আলোচনায় রয়েছে। এই নথি দিলে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনে মামলাগুলো করা হয়েছে বলে বিবেচনায় নিতে পারে দুবাই। একই সঙ্গে ট্রাইব্যুনালে অতীতের (শেখ হাসিনার আমলের) রায় নিয়েও বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। এজন্য ট্রাইব্যুনালে পরোয়ানাগুলোও দেওয়া হবে না। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, সরকার চাইছে বেনজীরের ফেরার পথে যেন কোনো তথ্য প্রতিবন্ধকতা তৈরি করতে না পারে। সেজন্য পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) শাখার একটি টিম দুদকের সঙ্গে নথি প্রস্তুতিতে সহযোগিতা করছে।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী বলেন, ৩০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ (্এক্সাডেশন) অনুরোধ পাঠাতে হবে। যা দ্রুতই পাঠানো হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই বিষয়টি উল্লেখ করলে সচিব বলেন, চুক্তি নেই, তবে আমরা পারস্পরিক আইনি সহায়তার (মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট-এমএলএআর) মাধ্যমে আমরা কার্যক্রম এগিয়ে নেব। এ প্রক্রিয়া দুই দেশের সরকার ও তদন্ত সংস্থা একে অপরের সঙ্গে তথ্য, প্রমাণ এবং পলাতক আসামির প্রত্যর্পণসংক্রান্ত আইনি সহায়তা প্রদান করে থাকে। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, বেনজীরকে ফেরাতে এখন পুলিশের তেমন কোনো কাজ নেই। এনসিবি শাখা থেকে রেড নোটিস জারি করার পরই আমাদের কাজ শেষ। এখন দুদক নথিপত্র প্রস্তুত করবে। বাকিটা স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দেখবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন