শুরুর গেরো কি খুলবে আর্জেন্টিনার

শুরুর গেরো কি খুলবে আর্জেন্টিনার

ফন্ট সাইজ:

উদ্বোধনী ম্যাচে বারবার হোঁচট খাওয়ার এক অদ্ভুত ইতিহাস রয়েছে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার। অতীতে বিশ্বকাপে ৬ বার নিজেদের প্রথম ম্যাচে হারের তেতো স্বাদ পেয়েছে তারা। এই ইতিহাসকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণের মনেও একই শঙ্কা। তার মতে আর্জেন্টাইনদের জন্য প্রথম ম্যাচটি সবসময় এক অত্যন্ত বড় মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষা। যুক্তরাষ্ট্রের মাটির এই লড়াইয়ে কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে আলজেরিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের উদ্বোধনী ম্যাচকে ঘিরে মাঠের লড়াইয়ের আগেই শুরু হয়েছে স্নায়ুযুদ্ধ। তপু মনে করেন, অতীতের সেই স্মৃতিগুলো এবারও আলবিসেলেস্তেদের জন্য ভয়ের কারণ হতে পারে।

সুইডেন, পশ্চিম জার্মানি, পোল্যান্ড কিংবা বেলজিয়ামের কাছে হেরে যাওয়া ছাড়াও সবশেষ ৯০-এ ক্যামেরুন ও ২০২২-এ সৌদি আরবের বিপক্ষে ঐতিহাসিক অঘটনগুলোর এখনো জ্বলজ্বলে। বিশ্বচ্যাম্পিয়ানেদের প্রথম ম্যাচ নিয়ে তপু বলেন, ‘প্রথম ম্যাচেই সব শেষ হয়ে যেতে পারে, এমন শঙ্কা কিন্তু উড়িয়ে দেয়া যায় না। অতীতে দিয়েগো ম্যারাডোনা বা লিওনেল মেসির দল প্রথম ম্যাচে হেরেও ঘুরে দাঁড়িয়েছিল, তবে প্রতিবার এমন অঘটন সামলে ফাইনালে যাওয়া সম্ভব নয়। নিজেদের দল বা ডিফেন্সকে শুরু থেকেই পুরোপুরি মনোযোগী থাকতে হবে, কারণ ইতিহাস বলে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ানদের আসরের শুরুতেই বিদায় নেয়ার ঘটনা কম নয়।’

তপু মনে করেন আর্জেন্টিনার এবারের আরেক ভয়ের নাম ইনজুরি। বিশেষ করে রক্ষণভাগের শক্তি ও চোটের গভীর আশঙ্কা নিয়ে আর্জেন্টিনার দুর্বলতাগুলোর কথা মনে করিয়ে দেন তপু। মেসির সতীর্থ নাউয়েল মলিনা ও নিকোলাস তালিয়াফিকো পুরো ক্লাব ফুটবলে দারুণ খেললেও বর্তমানে তারা পুরোপুরি ফিট নন। দলের নির্ভরযোগ্য সেন্টার ব্যাক পজিশনে লিসান্দ্রো মার্টিনেস ও ক্রিশ্চিয়ান রোমেরো জুটি ভরসা জোগালেও লিসান্দ্রোর ফিটনেস নিয়ে প্রশ্ন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। তপু বলেন, ‘লিসান্দ্রো পুরোপুরি ফিট না থাকলে নিকোলাস ওতামেন্দিকে খেলতে হবে। ডিফেন্ডারদের ১ মিনিট থেকে ৯০ মিনিট পর্যন্ত শতভাগ মনোযোগী থাকতে হবে। কারণ গোল হজম না করলে ম্যাচ জেতা সহজ হয়।’ আক্রমণভাগে লাওতারো মার্টিনেস ভালো ফর্মে থাকলেও হুলিয়ান আলভারেজের ইনজুরি সমস্যা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। এই সমস্যাগুলোর সমাধান করা লিওনেল স্কালোনির আলবিসেলেস্তেদের জন্য বেশ কঠিন পরীক্ষা হতে যাচ্ছে।

অন্যদিকে আফ্রিকার দল প্রতিপক্ষ আলজেরিয়াকে হালকাভাবে নেয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন তপু. অতীতে (২০০৭) একটি প্রীতি ম্যাচে আফ্রিকার এই শক্তিশালী দলটি আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ৩ গোল দিয়েছিল। মেসি জোড়া গোল করে ম্যাচ জেতালেও আলজেরিয়ার সেই লড়াই বিপদের বড় সংকেত। তপু বলেন, ‘বর্তমান আলজেরিয়া দল অনেক বেশি শক্তিশালী। তাদের অধিকাংশ খেলোয়াড় ইউরোপের শীর্ষ লীগে খেলেন এবং তারা জানে কীভাবে মেসিকে থামাতে হবে।’ আলজেরিয়ার ফরোয়ার্ড রিয়াদ মাহরেজ এবং ডিফেন্সে রায়ান আইত-নুরি সম্প্রতি ইউরোপে বিশ্বমানের পারফর্ম করছেন। মরক্কো যেমন শক্তিশালী ব্রাজিলের বিপক্ষে ড্র করে দারুণ শুরু করেছে। ঠিক তেমনি আলজেরিয়াও যেকোনো দলকে স্তব্ধ করতে পারে। তপু বলেন, ‘শারীরিকভাবে শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে খেলতে হলে ওয়ার্ক রেট ও বল কন্ট্রোল বেশি থাকতে হবে।’

গোলপোস্টের নিচে এমিলিয়ানো মার্টিনেস আর্জেন্টিনার সবচেয়ে বড় শক্তি। তিনি কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জিতেছেন, সম্প্রতি অ্যাস্টন ভিলার হয়ে কনফারেন্স লীগ জিতে অসাধারণ এবং চোখধাঁধানো পারফর্ম করেছেন। তপু বলেন, ‘মার্টিনেস বিশ্ব ফুটবলে নিজেকে দুর্দান্তভাবে প্রমাণ করেছেন। তিনি এমন একজন খেলোয়াড়, যিনি পুরো দলকে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস দেন।’ তবে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন হিসেবে খেলার যে আলাদা চাপ থাকে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন তপু. অতীতে বিশ্বকাপ জেতার পর ব্রাজিল, ইতালি, স্পেন কিংবা জার্মানির মতো বড় দলগুলো প্রথম রাউন্ড থেকেই ছিটকে গিয়েছিল। তপু বলেন, ‘ইতিহাসে দেখা গেছে, চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর অনেক দলই পরের বার প্রথম রাউন্ড থেকে বাদ পড়েছে। ফ্রান্স সেই ধারা ভাঙলেও আর্জেন্টিনাকে এ বিষয়ে অনেক সতর্ক থাকতে হবে।’ এমি মার্টিনেসের অতিমানবীয় গোলকিপিং আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে রক্ষণভাগের চাপ অনেকটাই লাঘব করবে বলে মনে করেন তিনি।

গ্রুপ ‘জে’-তে আর্জেন্টিনার জন্য প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। কানসাস ও ডালাস স্টেডিয়ামের এই গ্রুপে প্রতিপক্ষ আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া এবং জর্ডান. এই তিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই পূর্ণ জয় চান তপু। তিনি মনে করেন, ৩৮ বছর বয়সী মেসির ওপর অতিরিক্ত ভরসা করা দলের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে। তপু বলেন, ‘মেসিকে অবশ্যই বাকি খেলোয়াড়দের সাহায্য করতে হবে। প্রতিপক্ষ সবসময় মেসিকে কড়া পাহারায় রাখবে। তবে মেসি ভালো করেই জানেন কীভাবে ফাঁদ থেকে বের হতে হয়।’ মেসির পাশে থাকা রদ্রিগো ডি পল, এনজো ফার্নান্দেস এবং অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারদের দায়িত্ব বেশি হবে বলে মনে করেন তিনি। তপু সবশেষে বলেন, ‘প্রথম ম্যাচ জিতলে টুর্নামেন্টের পরের পথ অনেক সহজ হয়ে যায়। তাই জয় দিয়ে শুরু করাই হবে আলবিসেলেস্তেদের একমাত্র প্রধান লক্ষ্য।’

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন