যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ঐতিহাসিক ‘শান্তি চুক্তি’ স্বাক্ষরের আগমুহূর্তে নিজেদের ম্যাচ খেলতে লস অ্যানজেলেসে পৌঁছেছে ইরান ফুটবল দল। তবে মাঠের লড়াই শুরুর আগেই রাজনৈতিক জটিলতা, মার্কিন ভিসা প্রত্যাখ্যান ও দীর্ঘ ভ্রমণ সংক্রান্ত হয়রানি দলের খেলোয়াড়দের মানসিকতায় চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ইরানি স্ট্রাইকার মেহদি তারেমি বিশ্বকাপের সেই ‘সুন্দর অভিজ্ঞতা’ পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ তুলেছেন।
একটি যুদ্ধরত দেশকে আতিথেয়তা দিচ্ছে আয়োজক দেশ যুক্তরাষ্ট্র। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ ইতিহাসে দেখা যাচ্ছে এমন কিছু। মার্কিন ভিসা ও নিরাপত্তা জটিলতার কারণে ইরান দলকে মেক্সিকোর টিজুয়ানায় বেস ক্যাম্প করতে হয়। সেখান থেকে খেলা শুরুর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে ক্যালিফোর্নিয়ায় পৌঁছায় ‘টিম মেল্লি’। দলের হেড কোচ আমির ঘালিনোই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমেরিকার এমন বৈরী আচরণ ফুটবলের মূল ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করে। জয় বা হার যা-ই হোক, এই মানসিক চাপ সামলানো কঠিন।’ ফুটবল ও রাজনীতি আলাদা রাখার ফিফার নীতির কথা স্মরণ করিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা এখানে কোনো রাজনীতি করতে আসিনি, ফুটবল খেলতে এসেছি। সব ইরানি নাগরিকের প্রতি আমাদের সম্মান রয়েছে, আমরা শুধু দেশের কথা ভাবছি।’
দলের তারকা স্ট্রাইকার মেহেদি তারেমিও উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ধরনের উত্তেজনা বিশ্বকাপের আনন্দ এবং ফিফার শান্তির বার্তাকে ম্লান করে দেয়। এবার সেই সুন্দর অভিজ্ঞতা আমরা পাচ্ছি না।’ মার্কিন নীতির কারণে সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানসহ বেশ কিছু কর্মকর্তার প্রবেশাধিকার বঞ্চিত হওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। সেসব উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘আমরা ফুটবলের মাধ্যমে মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে এসেছি, কাউকে আঘাত করতে নয়।’
গ্রুপ ‘জি’-এর উদ্বোধনী ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি ইরান। ক্যালিফোর্নিয়ার বিশাল ইরানি অভিবাসী জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ স্টেডিয়ামে দলের সমর্থনে উপস্থিত ছিলেন। বর্তমান ইরান সরকারের বিরোধিতাকারীরা হোটেলের বাইরে বিক্ষোভও করেছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হোটেল ও স্টেডিয়াম এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা বাহিনী, স্নাইপার ডগ ও ড্রোন। এদিকে আমিরাতের শাসকের সঙ্গে ছবি তোলায় সরকারের রোষানলে পড়ে স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েছেন তারকা ফুটবলার সরদার আজমুন। দলের অন্যতম সেরা এই তারকার অনুপস্থিতি এবং সরকারের সঙ্গে তার মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্বের বিষয়ে জানতে চাইলে কোচ আমির ঘালিনোই বেশ বিচক্ষণতার সঙ্গে উত্তর দেন। তিনি বলেন, ‘সরদার আজমুন একজন চমৎকার খেলোয়াড় এবং জাতীয় দলের জন্য তিনি অনেক কিছু করেছেন। তিনি আমাদের সঙ্গে নেই এবং আমরা সত্যিই আশা করেছিলাম তিনি থাকবেন। তবে এটিই ফুটবল, দুঃখিত।’
