আনচেলোত্তির ‘ভুল’ একাদশ ও নেইমার-বিচ্ছিন্নতার গুঞ্জন

আনচেলোত্তির ‘ভুল’ একাদশ ও নেইমার-বিচ্ছিন্নতার গুঞ্জন

ফন্ট সাইজ:

উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের শুরুতেই বড়সড় ধাক্কা খেয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। নিউ জার্সিতে মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলের হতাশাজনক ড্রয়ের পর থেকে সমালোচনা যেন থামছেই না। একদিকে কোচ কার্লো আনচেলোত্তির রণকৌশল নিয়ে ব্রাজিলের গণমাধ্যমে উঠেছে সমালোচনার ঝড়। অন্যদিকে মাঠের বাইরে চোটাক্রান্ত নেইমার জুনিয়রকে ঘিরে তৈরি হচ্ছে নতুন আলোচনা। মাঠের বাইরে থাকা অবস্থায় সতীর্থদের কাছে যেন পাত্তাই পাচ্ছেন না দলের সর্বকালের সেরা গোলদাতা।

মরক্কোর বিপক্ষে প্রথমার্ধের বিবর্ণ পারফরম্যান্স দেখে ক্ষুব্ধ ব্রাজিলের ফুটবল বিশ্লেষকেরা। ২০১৪ বিশ্বকাপে জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের বিপর্যয়ের পর এটিই ব্রাজিলের সবচেয়ে বাজে ৪৫ মিনিট বলে মন্তব্য করেছেন ব্যান্ডনিউজ রেডিওর ফাবিও ফ্রাঙ্কা। সবচেয়ে বড় তোপের মুখে পড়েছেন অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার ক্যাসেমিরো। ব্রাজিলিয়ান ওয়েবসাইট ইউওএল-এর কলামিস্ট পাওলো ভিনিসিউস কোয়েলিও কাসেমিরোর মন্থর গতিকে কটাক্ষ করে লিখেছেন, মাঝমাঠে তাকে দেখে মনে হয়েছে ‘পাহাড়ি সরু রাস্তায় যেন কোনো পুরনো ট্রাক চলছে।’

ও এস্তাদো দে সাও পাওলো পত্রিকার মাওরো বেতিং সরাসরি কোচকে দায়ী করে বলেন, ‘এই বাজে পারফরম্যান্সের সিংহভাগ দায় আনচেলোত্তির ভুল শুরুর একাদশের।’ সাবেক তারকা ফিলিপ মেলোও ইবানেজ ও ইগো থিয়াগোকে খেলানোর সিদ্ধান্তকে ভুল বলে আখ্যা দিয়েছেন।

কে ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি ফুটবলার কাকা আর্জেন্টিনার উদাহরণ দিয়ে প্রেরণা জোগাচ্ছেন অনুজদের। এসি মিলান ও রিয়াল মাদ্রিদের এই সাবেক মিডফিল্ডার ইএসপিএনকে বলেন, ‘প্রথম ম্যাচেই কোনো দল বিশ্বকাপ জিতে যায় না। সামপ্রতিক উদাহরণই তো আছে আমাদের সামনে। আর্জেন্টিনা (২০২২ আসরে) প্রথম ম্যাচ হারার পরও বিশ্বকাপ জেতে। বিশ্বকাপের মতো আসরের নানা বাস্তবতা বোঝাতে এটিই যথেষ্ট।’

এদিকে, ম্যাচে এক মিনিটও না খেলে সংবাদমাধ্যমের শতভাগ আলো কাড়েন নেইমার। তবে ডাগআউটের সেই রাজকীয় উপস্থিতির উল্টো পিঠে লুকিয়ে আছে এক চরম বৈপরীত্য। সমপ্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, হাইড্রেশন ব্রেকের সময় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও ব্রুনো গিমারায়েসকে ডেকে কিছু পরামর্শ দিতে যাচ্ছিলেন নেইমার। তখন তার সতীর্থদের আচরণ ছিল বেশ শীতল। গিমারায়েসকে হাত ধরে টেনেও তার মনোযোগ পাননি নেইমার। এবং পাশে থাকা ভিনি পুরো বিষয়টি এড়িয়ে যান। শেষ পর্যন্ত একা একাই সরে যেতে হয় নেইমারকে। তবে কি সত্যিই দলের ভেতর সান্তোস তারকার প্রভাব কমে আসছে? নাকি তরুণ প্রজন্মের সাথে তার দূরত্ব বাড়ছে?

২৪ বছরের খরা কাটিয়ে ‘হেক্সা’ জয়ের মিশন ব্রাজিলের। আগামী শনিবার সকালে হাইতির বিপক্ষে মাঠে নামবে সেলেসাওরা। এরপর ২৪শে জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন