বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মাঠে নামছে জর্ডান। যে দেশটি বছরের পর বছর এশিয়ার বড় শক্তিগুলোর আড়ালে থেকেছে, সেই দেশই এখন ফুটবলের সবচেয়ে বড় যজ্ঞে। আগামীকাল সকাল ১০টায় সান্তা ক্লারার বে অ্যারেনায় অস্ট্রিয়ার মুখোমুখি হবে জর্ডান। অস্ট্রিয়ার গল্পও কম আবেগের নয়। দীর্ঘ ২৮ বছর বিশ্বকাপের বাইরে ছিল ইউরোপের দলটি। অবশেষে নতুন প্রজন্মকে সঙ্গে নিয়ে তারা ফিরেছে বিশ্বমঞ্চে। তাই এই ম্যাচ শুধু জর্ডানের অভিষেক নয়, অস্ট্রিয়ার প্রত্যাবর্তনেরও ঘোষণা। কাগজে-কলমে ফেভারিট অস্ট্রিয়া। ইউরোপের শক্তিশালী দলটি অভিজ্ঞতা, মান ও গভীরতায় এগিয়ে। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ২৪ নম্বরে থাকা অস্ট্রিয়া নিজেদের শেষ পাঁচ ম্যাচে অপরাজিত। চারটিতেই জয়, অন্যটি ড্র। ডেভিড আলাবা, মার্সেল সাবিটজারদের মতো তারকায় ভরা দলটির লক্ষ্য গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে আরও দূরে যাওয়া। অন্যদিকে, ৬৪ নম্বরে থাকা জর্ডান শেষ পাঁচ ম্যাচে জয়হীন।
তিন হারের বিপরীতে ড্র করতে পেরেছে দুটি। কিন্তু জর্ডান আজ পরিসংখ্যানের গল্প শুনতে আসেনি। তারা এসেছে স্বপ্নের গল্প লিখতে। অধিনায়ক মুসা আল তামারি ও তার সতীর্থরা জানেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচের অনুভূতি জীবনে একবারই আসে। সেই মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখার সুযোগও একবারই পাওয়া যায়। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি তাই জর্ডানের কাছে তিন পয়েন্টের লড়াইয়ের চেয়েও বেশি কিছু। এটি তাদের অস্তিত্ব জানান দেওয়ার উপলক্ষ, ইতিহাসে নিজের নাম লেখানোর সুযোগ।
ডাগআউটের লড়াই
মরোক্কান কোচ জামাল সেলামির জাদুতে বিশ্বকাপের টিকিট পায় জর্ডান। সেলামির অধীনে ২৭ ম্যাচে ১১ জয় ও ৮ ড্র করে দলটি। তার প্রিয় ফরমেশন ৩-৪-৩। ডাগআউটে সেলামির প্রতিদ্বন্দ্বী রালফ রাংনিক। জার্মান এই হেভিওয়েট কোচ ৪৫ ম্যাচে ২৭ জয় এনে দেন অস্ট্রিয়াকে। হাইপ্রেসিং ফুটবলের জন্য বিখ্যাত রাংনিকের প্রিয় ফরমেশন ৪-২-৩-১।
নজরে থাকবেন যারা জর্ডানের বড় তারকা মুসা আল তামারি।
গতি, ড্রিবল আর কাউন্টার অ্যাটাকে তিনি দলের প্রধান অস্ত্র। ফিনিশিংয়ে ভরসা যোগাচ্ছেন ইয়াজান আল নাইমাত। এছাড়া মিডফিল্ডার নিজার আল রাসদানও তুরুপের তাস হয়ে উঠতে পারেন। অস্ট্রিয়ার সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় ডেভিড আলাবা। নেতৃত্ব ও রক্ষণ দুটোই সামলানোর দায়িত্ব তার। মাঝমাঠের প্রাণভোমরা মার্সেল সাবিটজার। সঙ্গে কনার্ড লাইমারের গতি এগিয়ে রাখবে অস্ট্রিয়াকে।
