দীর্ঘ এক যুগ পর বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রত্যাবর্তন। প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ লাতিন আমেরিকার দল ইকুয়েডর। যারা বিশ্বকাপে খেলছে পঞ্চমবারের মতো। দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের বাছাইপর্বে শীর্ষে থাকা বিশ্্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার পরেই ছিল ইকুয়েডর। যারা টানা দুই বছর আর ১৯ ম্যাচ হার দেখেনি। সেই ইকুয়েডরের অপরাজিত থাকার রেকর্ডে ইতি টানলো আইভরি কোস্ট। ফিলাডেলফিয়ার ফিন্যান্সিয়াল ফিল্ডে গতকাল শ্বাসরুদ্ধকর লড়াইয়ে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়ে এবারের বিশ্বকাপ যাত্রা শুরু করলো আফ্রিকার দেশটি। ম্যাচের ৯০ মিনিটের মাথায় বদলি হিসেবে নামা আমাদ দিয়ালোর গোল আইভরিয়ানদের দারুণ সূচনা এনে দিয়েছে। সবশেষ ২০১৪ বিশ্বকাপে জাপানকে ২-১ গোলে হারায় আইভরি কোস্ট।
ম্যাচের শুরুতে দাপট দেখায় ইকুয়েডর। তাদের আক্রমণভাগ আইভরি কোস্টের রক্ষণভাগকে বেশ কয়েকবার পরীক্ষায় ফেলে। প্রথমার্ধে জন ইয়েবোয়াহ ও অ্যালান মিন্দার নেয়া জোরালো শট গোলরক্ষককে পরাস্ত করলেও ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। বিরতির পর এলি ওয়াহির শট পোস্টে আঘাত করলে গোলবঞ্চিত হয় আইভরি কোস্ট। ৫৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড তারকা আমাদ দিয়ালো। ৬৭ মিনিটে ইকুয়েডর তারকা এনার ভ্যালেন্সিয়ার শটটিও গোলপোস্টের বাধা পায়। ম্যাচের ফল যখন গোলশূন্য ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই মোড় ঘুরিয়ে দেন আমাদ দিয়ালো। নির্ধারিত সময়ের ঠিক শেষ মুহূর্তে ডান প্রান্ত দিয়ে উইলফ্রেড সিঙ্গোর কাছ থেকে পাওয়া বল বাঁ পায়ের বাঁকানো শটে ইকুয়েডরের জালে প্রবেশ করান।
এই গোলের মাধ্যমেই ইকুয়েডরের টানা ১৯ ম্যাচের অপরাজিত যাত্রার অবসান ঘটে। স্ট্যাটস ফুট’-এর তথ্য অনুযায়ী, ২৩ বছর ১১ মাস বয়সে গোল করে আমাদ দিয়ালো আইভরি কোস্টের বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতার রেকর্ড গড়েছেন। এর আগে ২০০৬ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ২৪ বছর ৮ মাস বয়সে গোল করে রেকর্ডটি নিজের দখলে রেখেছিলেন স্ট্রাইকার বাকারি কোনে। আইভরি কোস্টের আবিদজানে জন্মগ্রহণ করা আমাদ দিয়ালো শৈশবেই ইতালিতে পাড়ি জমান। ফুটবল ক্যারিয়ারের শুরুতে জাল নথিপত্র ব্যবহারের বিতর্কে জড়ালেও, আইনি সহায়তা ও প্রতিভার জোরে তিনি আটালান্টার যুব দলে নিজের জায়গা পোক্ত করেন। আটালান্টার হয়ে অভিষেক ম্যাচেই গোল করে নজর কাড়া এই ফরোয়ার্ডকে ২০২১ সালে ৩৭ মিলিয়ন পাউন্ডে দলে ভেড়ায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। এরপর তিনি স্কটল্যান্ডের রেঞ্জার্স ও সান্ডারল্যান্ডে ধারে খেলার সুযোগ পান।
বর্তমানে গ্রুপ ‘ই’-এর পয়েন্ট টেবিলে জার্মানি (৩ পয়েন্ট, গোল ব্যবধান +৬) গোল ব্যবধানে শীর্ষে রয়েছে। সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে আইভরি কোস্ট। ইকুয়েডরের জন্য পরের ম্যাচগুলো এখন বাঁচা-মরার লড়াই। ২০শে জুন টরন্টোতে জার্মানির মুখোমুখি হবে আইভরি কোস্ট, আর ২১শে জুন ইকুয়েডর লড়বে কুরাসাওয়ের বিপক্ষে।
