‘আমি মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরিনি’

ফন্ট সাইজ:

আদ্‌-দ্বীন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেছেন, আমি কেন মন্ত্রীর পেছনে টাকা নিয়ে ঘুরবো? এমন কিছু করিনি। স্বাস্থ্যমন্ত্রী যদি দাবি করে থাকেন যে, আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল তার পেছনে কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, তাহলে সেই অভিযোগের প্রমাণ তাকেই দিতে হবে। আর হাসপাতালের নিবন্ধন বাতিলের বিষয়ে আমরা মঙ্গলবার আপিল করবো। গতকাল বিকালে আদ্‌-দ্বীন হাসপতালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমনটাই জানিয়েছেন তিনি। এর আগে গত ১৩ই জুন নরসিংদীর মনোহরদীতে এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছিলেন- ‘সরকারি সুবিধা পেতে এখন আর কাউকে ঘুষ দিতে হয় না।

আমাদের প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ সবাইকে দুর্নীতির ঊর্ধ্বে থাকতে হবে। আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল কোটি কোটি টাকা নিয়ে ঘুরেছে, কিন্তু লাইসেন্স বাতিল করে দিয়েছি।’ এমন বক্তব্যের পরই সোমবার বিকালে সংবাদ সম্মেলনের ডাক দেয় আদ্‌-দ্বীন হাসপাতাল। তবে গত ২৭শে মে হাসপাতালটিতে ৬ শিশু মৃত্যুর পরও এতদিন গণমাধ্যমের সামনে আসেননি মহিউদ্দিন। গতকালই এই প্রসঙ্গে নিজে সরাসরি কথা বলেছেন। আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেছেন, ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় যে তদন্ত প্রতিবেদন দিয়েছে, তাতে ঠিক কী কারণে মৃত্যু হয়েছে, তার সুস্পষ্ট তথ্য ছিল না। মৃত শিশুদের ময়নাতদন্ত হয়নি।

ঠিক কী কারণে তাদের মৃত্যু হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনেও সুস্পষ্ট করা হয়নি। আমরাও বের করতে পারিনি। শেখ মহিউদ্দিন বলেন, লাইসেন্স বাতিলের সঙ্গে একটি রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী আমরা বুয়েটের ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে সংস্কার শুরু করেছি। মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদনে সুস্পষ্ট কারণ না থাকলেও যেসব বিষয়ে বলা হয়েছে তা সংস্কার শুরু হয়েছে। অক্সিজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইড ও কার্বন মনোঅক্সাইড যন্ত্র কেনা হয়েছে। আমরা বের করার চেষ্টা করছি যে, শিশু ওয়ার্ড সিলগালা করা হয়েছে, সেটিও ঠিক করতে চাবি চাওয়া হয়েছে। সবমিলিয়ে এক সপ্তাহেই সংস্কার করা যাবে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের রিপোর্টে ওয়ার্ডে অক্সিজেন-এর মাত্রা কম থাকা ও কার্বন ডাই-অক্সাইড এর মাত্রা বেশি থাকায় শিশু মৃত্যুর কারণ উল্লেখের বিষয়ে তিনি বলেন, স্বভাবতই হাসপাতালের ভেতরে অক্সিজেন-এর মাত্রা কম থাকে এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড এর মাত্রা বেশি থাকে বাহিরের পরিবেশ থেকে।
তাই, সে অনুযায়ী আমাদের হাসপাতালের ভেতরেও অক্সিজেন-এর পরিমাণ কম ছিল।

কিন্তু সেটা মৃত্যুর কারণ হতে পারে না বলে বিশেষজ্ঞরা আমাদের জানিয়েছেন। একজন বয়স্ক মানুষের থেকে শিশুরা কম অক্সিজেনের মধ্যে টিকে থাকতে পারে। আবার কার্বন ডাই-অক্সাইড-এর ক্ষেত্রেও বয়স্কদের তুলনায় বাচ্চারা বেশি কার্বন ডাই-অক্সাইড এর মধ্যে টিকে থাকে। তাই মৃত্যুর কারণ এটা না হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। যেহেতু পোস্টমর্টেম হয়নি তাই, মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বের করা সম্ভব হয়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন