ছুটির দিনে তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম অফিস প্রধানমন্ত্রীর

শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সম্প্রীতি বিষয়ে পৃথক বৈঠক

ছুটির দিনে তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথম অফিস প্রধানমন্ত্রীর

ফন্ট সাইজ:

দায়িত্ব নেয়ার পর তেজগাঁওয়ে নিজের কার্যালয়ে প্রথম অফিস করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সরকারি ছুটির দিন গতকাল সকালে তিনি তেজগাঁওয়ের কার্যালয়ে যান। শুরুতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের পর নির্ধারিত কর্মসূচিতে অংশ নেন। এছাড়া, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, ও সামাজিক এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি সংক্রান্ত পৃৃথক বৈঠকেও অংশ নেন তিনি।

সকালে কার্যালয়ে পৌঁছেই প্রধানমন্ত্রী একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা রোপণ করেন। পরে কুশল বিনিময় করেন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে। কার্যালয়ে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।

প্রধানমন্ত্রী তার চেম্বারে বসে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন। এই সময়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও প্রযুক্তি বিষয়ক মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম, সচিব আব্দুন নাসের খান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

গত ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। পরের দিন প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে তার দপ্তরে দু’দিন অফিস করেন।

প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়ে মূল ভবনের প্রবেশের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সরকারের সময়ে দায়িত্বপালনকারী কর্মচারীদের দেখে নিজেই নাম ধরে ডাকেন। তাদের কুশলাদি জিজ্ঞেস করেন। এসময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা (অব.) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম শামছুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বলেন, ১৯ বছরে আগের যখন ম্যাডাম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, সেই সময়কার কর্মচারীদের কয়েকজনকে দেখে প্রধানমন্ত্রী নাম ধরে ডাকেন এবং তাদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের পরিবারের খোঁজখবর নেন। এটা একটা স্মরণীয় ঘটনা। তিনি বলেন, আজকে (শনিবার) প্রধানমন্ত্রী অফিসে এসে প্রথমে বাগানে বৃক্ষরোপণ করেন। এরপর তিনি কার্যালয়ে প্রবেশ করার সময়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একপাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দিয়ে শুভেচ্ছা জানান। এসময়ে প্রধানমন্ত্রী দূর থেকে কর্মচারী সারিতে দাঁড়িয়ে থাকা একজন কর্মচারীকে দেখে তাকে নাম ধরে ডাকেন। ওই কর্মচারী তৎক্ষণাৎ নিরাপত্তা ব্যবস্থা অতিক্রম করে দৌড়ে আসেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে। করমর্দন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী তার পরিবারের খোঁজখবর নেন। এসময়ে আরও কয়েকজন কর্মচারীকে নাম ধরে ডেকে তাদের সঙ্গে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

অতিরিক্ত প্রেস সচিব বলেন, ম্যাডামের সময়ে কাজ করেছেন এমন কিছু কর্মচারী যারা ১৯ বছর আগে নবীন ছিলেন, এখন তার চুল পাক ধরেছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী তাদেরকে চিনতে ভুল করেননি। নিজেই নাম ধরে তাদেরকে ডেকে কথা বলেছেন। ওই সব কর্মচারীরা যেমন আবেগ-আপ্লুত হয়েছেন তেমনি অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিস্মিত হয়েছেন।
এরপরে প্রধানমন্ত্রী রেড ব্লকে প্রবেশ করেন যেখান প্রধানমন্ত্রী চেম্বার বা কক্ষ। প্রধানমন্ত্রী সেখানে দিনের কর্মসূচি অনুযায়ী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক ভাষা দিবস উপলক্ষে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন।
শিক্ষাব্যবস্থা ও কর্মসংস্থান নিয়ে বৈঠক: শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দমুখর ও কর্মমুখী করে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা সমপ্রসারণের বিষয়ে গতকাল তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ এ তথ্য জানিয়েছেন। বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ধর্মীয় ও সামাজিক সমপ্রীতি বিষয়ক বৈঠক: ওদিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ধর্মীয় ও সামাজিক সমপ্রীতি সুদৃঢ়করণ বিষয়ক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সিরাজুল ইসলাম

৪ মাস আগে

অসাধারণ। জনগণের উচিত এই প্রধান মন্ত্রীর অনুগত থাকা ও যত্ন নেওয়া।

মন্তব্য করুন