টেক্সাসের মাঠে কাউবয় টুপি মাথায় দিয়ে যখন অনুশীলনে নেমেছিলেন, অনেকেই ভেবেছিলেন লোকটা বিশ্বকাপ ট্রিপে এসে স্রেফ মজা করছেন। চেলসি আর ওয়েস্ট হ্যামের চাকরি হারিয়ে পটারের ক্যারিয়ার তখন খাদের কিনারায়। নিন্দুকেরা তো বলেই দিয়েছিলেন, এটিই কোচ হিসেবে তার শেষ সুযোগ। তবে মেক্সিকোর মাঠে তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে পটার বুঝিয়ে দিলেন, কাউবয় সেজে তিনি আসলে শিকারেরই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন!
মেক্সিকোর এস্তাদিও মন্টেরিতে তিউনিসিয়ার জালে যখন একের পর এক গোল জড়ালো, তখন সমালোচকদের মুখ বন্ধ হতে বাধ্য হলো। ৫-১ গোলের এক বিধ্বংসী জয়ে পটারের সুইডেন প্রমাণ করল, তারা এখানে কেবল হাওয়া বদলাতে আসেনি। লিভারপুলের ১২৫ মিলিয়ন পাউন্ডের স্ট্রাইকার আলেকজান্ডার ইসাক এবং আর্সেনালের ভিক্টর ইয়োকেরেসের রসায়ন যেন পটারের রণকৌশলের সেরা বিজ্ঞাপন। একে অপরকে দিয়ে গোল করালেন, করলেন নিজেরাও।
সুইডেনের এই নতুন রূপান্তরের নেপথ্য কারিগর পটার স্বয়ং। ওস্টারসুন্ডস এফকে-কে চতুর্থ স্তর থেকে শীর্ষ লীগে তোলার সেই সোনালী দিনগুলোর স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে পটার বলেন, ‘আমি এখন নিজেকে মনে-প্রাণে একজন সুইডিশই ভাবি। মাঠের বাইরে নর্ডিক সাহিত্য পড়া আর পরিবার নিয়ে সুইডেনের প্রকৃতিতে হারিয়ে যাওয়া-সবকিছুই আমাকে মানসিকভাবে চাঙ্গা করেছে।’
গত অক্টোবরে যখন পটার দায়িত্ব নেন, তখন পূর্বসূরি জন ডাহল টমাসনের রেখে যাওয়া ধ্বংসস্তূপে দাঁড়িয়ে সুইডেনের সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন শেষ হয়ে যায়। তবে উয়েফা ন্যাশনস লীগের র্যাঙ্কিং কল্যাণে প্লে-অফে ইউক্রেন ও পোল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপের টিকিট কাটে তারা।
১৯৩৮ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই সুইডেনের সবচেয়ে বড় জয়। ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপে যখন সুইডেন রানার্স-আপ হয়, তখনও ডাগআউটে ছিলেন আরেক ইংলিশ কোচ জর্জ রেনর। এবার পটারের হাত ধরে কি তবে সেই ৫৪ বছরের পুরনো ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটবে?
