ভারতের তামিলনাড়ুর তিরুভাল্লুর জেলায় তিন বছরের এক শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার হয়ে মারা গেছে। এই ভয়াবহ ঘটনার পর নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান অপরাধ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ তৈরি হয়েছে রাজ্যে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত বিহারের এক অভিবাসী শ্রমিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিশুটির পরিবারও বিহারের বাসিন্দা। তারা গুম্মিডিপুন্ডির সিপকট শিল্প এলাকায় বসবাস করছিল। একটি ঝোপে ভেতর থেকে শিশুটিকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়া হলেও সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় সে মারা যায়। পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিশুটি অভিযুক্ত ব্যক্তিকে চিনত। সে বিস্কুটের লোভ দেখিয়ে তাকে বাড়ি থেকে ফুসলিয়ে নিয়ে যায় এবং ধর্ষণ করে। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেয়। এই অপরাধের জেরে ক্ষুব্ধ জনতা জড়িত থাকার সন্দেহে আরও কয়েকজনকে মারধর করে। তবে পুলিশ একাধিক ব্যক্তির জড়িত থাকার দাবি নাকচ করে দিয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, এটি দলগত ধর্ষণের ঘটনা নয়। এর সাথে কেবল একজনই জড়িত।
এলাকার বাসিন্দা ইন্দুমাথি জানান, শিশুটি তার বাড়ির কাছে খেলছিল। এক নারী ঝোপের দিকে গেলে শিশুটিকে সেখানে নিথরভাবে পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি শিশুটিকে পরিষ্কার করার সময় বুঝতে পারেন যে তার অবস্থা অত্যন্ত গুরুতর। পুলিশ শুরুতে ‘শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ’ আইনে মামলা দায়ের করে। শিশুটির মৃত্যুর পর এখন এর সাথে হত্যার ধারা যুক্ত করা হবে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতজুড়ে শিশুদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ৭৭ হাজারেরও বেশি অপরাধের ঘটনা রেকর্ড করা হয়। এর মধ্যে ৬৭ হাজারের বেশি বা ৩৮.২ ভাগ মামলাই কঠোর ‘শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ’ (পিওসিএসও) আইনের অধীনে নিবন্ধিত। এই সাম্প্রতিক ট্র্যাজেডি নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ নিয়ন্ত্রণে সরকারের প্রচেষ্টা এবং ভুক্তভোগীদের দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিকে আরও বেশি জবাবদিহিতার মুখোমুখি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
