দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া কী

সহযোগীদের খবর

দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া কী

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া বেনজীরকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া কী’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচারসহ নানা দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরুর পর সপরিবার দেশ ছেড়েছিলেন পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। এরপর তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড নোটিশ জারি হয়। এবার সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হলেন তিনি।

দুর্নীতির মামলায় ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করে ১২ জুন বাংলাদেশকে জানায়। গতকাল রোববার সংসদে এ তথ্য জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এখন সরকারের সামনে বড় পরীক্ষা—দেশত্যাগের দুই বছরের বেশি সময় পর গ্রেপ্তার হওয়া পুলিশের সাবেক এই প্রভাবশালী শীর্ষ কর্মকর্তাকে কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনা যায়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংসদে বলেছেন, বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারের তারিখ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব প্রস্তুত করবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা আমিরাত কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে। পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো বা এনসিবি আবুধাবির এনসিবির সঙ্গে সমন্বয় করবে।

বেনজীর আহমেদ ১৯৮৮ সালে পুলিশে যোগ দেন। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার, র‍্যাবের মহাপরিচালক এবং সর্বশেষ পুলিশের মহাপরিদর্শক ছিলেন। ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিনি আইজিপি পদে দায়িত্ব পালন করেন। আওয়ামী লীগ সরকারের ঘনিষ্ঠ ও প্রভাবশালী পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার বাসিন্দা বেনজীর আহমেদ।

পুলিশের বিভিন্ন শীর্ষস্থানীয় পদে থাকা অবস্থায় দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার, জমি দখল, পাসপোর্ট জালিয়াতি, মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধসহ নানা অনিয়ম–দুর্নীতিতে জড়ানোর অভিযোগ আছে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে।

বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তার ‘বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য’ বলে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রেপ্তার বড় অগ্রগতি হলেও এটি শেষ ধাপ নয়। রেড নোটিশ কোনো আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা নয়; এটি সদস্যদেশগুলোর প্রতি কোনো পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও সাময়িকভাবে আটক করার অনুরোধ। তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন, আদালত, বাংলাদেশের পাঠানো নথিপত্রের গ্রহণযোগ্যতা এবং কূটনৈতিক তৎপরতার ওপর।

অনুসন্ধান শুরুর পর দেশত্যাগ

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ নিয়ে ২০২৪ সালের দিকে সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই বছরের ১৮ এপ্রিল তাঁর ও পরিবারের সদস্যদের সম্পদ অনুসন্ধানে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেয় দুর্নীতি দমন কমিশন। অনুসন্ধান শুরু হওয়ার ১৬ দিনের মাথায় ৪ মে তিনি সপরিবার দেশ ছাড়েন।

তখন অভিযোগ ওঠে, তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ভেতর থেকে সংকেত পেয়েই তিনি দেশ ছেড়েছেন। তাঁকে বিমানবন্দরে আটকানো হয়নি। পরে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজের বরাতে প্রকাশিত খবরে বলা হয়, ৪ মে রাতে রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে তিনি দেশ ছাড়েন। ওই সময় তাঁর পেছনে একজন পুলিশ কর্মকর্তাকেও দেখা যায়।

প্রশ্ন ওঠে, দুদক, গোয়েন্দা সংস্থা, পুলিশসহ রাষ্ট্রের নানা সংস্থার চোখ এড়িয়ে একজন সাবেক আইজিপি কীভাবে দেশ ছাড়লেন? নাকি তাঁকে চলে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল?

অবসরের পরও বেনজীর আহমেদ পুলিশি নিরাপত্তা পেতেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সেই সময়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, তাঁকে গাড়িসহ সাদাপোশাকের ছয়জন পুলিশ সদস্যের একটি দল নিরাপত্তা দিত। তিনি দুজন সশস্ত্র দেহরক্ষী পেতেন।

বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের সূত্রে তখন জানা যায়, দেশ ছাড়ার আগে বেনজীর আহমেদ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নেন। পরে দুদক তাঁর বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করে।

গ্রেপ্তার মানেই ফেরানো নয়

২০২৫ সালের এপ্রিলে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে ইন্টারপোল। সংস্থাটির সঙ্গে প্রতিটি সদস্যদেশের কেন্দ্রীয় যোগাযোগ ও সমন্বয়কারী সংস্থা হলো ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি)। বাংলাদেশে এটি পুলিশ সদর দপ্তরে অবস্থিত। এটি আন্তর্জাতিক অপরাধী ও পলাতক ব্যক্তিদের তথ্য আদান-প্রদান ও গ্রেপ্তারের বিষয়ে কাজ করে। এনসিবিতে অতীতে কাজ করেছেন এবং বর্তমানে কাজ করছেন, এমন পাঁচ কর্মকর্তার সঙ্গে গতকাল কথা হয় প্রথম আলোর। বেনজীরকে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁরা একটি ধারণা দিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, ইন্টারপোলের রেড নোটিশ নিয়ে সাধারণভাবে একটি ভুল ধারণা আছে যে এটি আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। বাস্তবে তা নয়। রেড নোটিশ হলো সদস্যদেশগুলোর প্রতি একটি অনুরোধ, যাতে কোনো পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত, অবস্থান নির্ধারণ এবং প্রয়োজনে সাময়িকভাবে আটক করা যায়। এর ভিত্তি হতে হয় সংশ্লিষ্ট দেশের আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বা বিচারিক আদেশ।

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুদকের মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। সেই পরোয়ানার ভিত্তিতে পুলিশ সদর দপ্তরের এনসিবি ইন্টারপোলের কাছে রেড নোটিশ জারির আবেদন করে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়। ওই নোটিশের ভিত্তিতেই দুবাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে বলে সরকার জানিয়েছে।

কিন্তু এখানেই ইন্টারপোলের মূল ভূমিকা প্রায় শেষ। এরপর বিষয়টি বাংলাদেশ সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মধ্যকার আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া। বাংলাদেশকে এখন বোঝাতে হবে—বেনজীর আহমেদ বাংলাদেশের নাগরিক, তাঁর বিরুদ্ধে আদালতের বৈধ পরোয়ানা আছে, তিনি কোন কোন মামলায় ‘ওয়ান্টেড’, এবং যে অপরাধে তাঁকে চাওয়া হচ্ছে, তা সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচ্য।

কূটনৈতিক যোগাযোগ গুরুত্বপূর্ণ

বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি হয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে। দুবাই পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ফেরানোর প্রক্রিয়া সম্পর্কে তৎকালীন পুলিশের মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ইন্টারপোলের কাজ ছিল রেড নোটিশ জারি করা এবং সংশ্লিষ্ট দেশের কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো। এখন বিষয়টি মূলত বাংলাদেশ সরকার ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের মধ্যকার প্রক্রিয়া।

বাহারুল আলম বলেন, রেড নোটিশের ভিত্তিতে দুবাই পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে। কিন্তু দেশে ফেরাতে হলে কূটনৈতিক চ্যানেলে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ অনুরোধ পাঠাতে হবে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রত্যর্পণ চুক্তি নেই। তাই মামলার পুরো প্রেক্ষাপট, আদালতের আদেশ, বেনজীর আহমেদ কেন বাংলাদেশে ‘ওয়ান্টেড’—এসব তথ্যসহ আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পাঠাতে হবে।

পুলিশের সাবেক এই মহাপরিদর্শক আরও বলেন, রেড নোটিশের ভিত্তিতে কাউকে গ্রেপ্তার করা গেলেও অনেক সময় তাঁকে ফেরানো যায় না। কেউ অন্য দেশের পাসপোর্ট ব্যবহার করেন, কেউ বাংলাদেশের নাগরিকত্ব অস্বীকার করেন। এ ধরনের জটিলতায় আগেও পলাতক আসামিদের ফেরানো সম্ভব হয়নি। তাই বেনজীর আহমেদকে ফেরাতে হলে যথাযথ নথিপত্র, পরিচয় নিশ্চিতকরণ এবং নিয়মিত কূটনৈতিক যোগাযোগ খুব গুরুত্বপূর্ণ।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, বেনজীর আহমেদকে ফেরানো গেলে এটি শুধু একজন পলাতক আসামিকে দেশে আনার ঘটনা হবে না; এটি হবে ক্ষমতার শীর্ষে থাকা একজন সাবেক পুলিশপ্রধানকে আইনের মুখোমুখি করার নজির। আর ফেরানো না গেলে আবারও প্রশ্ন উঠবে—অভিযুক্ত প্রভাবশালীরা কি শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়লেই বিচার এড়ানোর সুযোগ পান?

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘এবার অস্ত্র হাতেই মাঠে নামছে নারকোটিক্স’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সবকিছু ঠিক থাকলে কিছুদিনের মধ্যেই এবার অস্ত্র হাতেই মাঠে নামতে যাচ্ছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (নারকোটিক্স)। ইতোমধ্যে অভিযান সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ পর্ব শেষ হয়েছে। বর্তমানে সেনাবাহিনীর মাধ্যমে অস্ত্র কেনার প্রক্রিয়া চলছে। অস্ত্র হাতে আসা মাত্র নতুন উদ্যমে অভিযানে সক্রিয় হবেন তারা। তবে এবার শুধু মাদকসেবী কিংবা খুচরা বিক্রেতা নয়, আড়ালে থাকা গডফাদারদেরও ধরা হবে।

তবে যুগান্তরের কাছে বিশ্লেষকরা নানা সংশয় প্রকাশ করে বলছেন, এক্ষেত্রে সরকারের রাজনৈতিক সদিচ্ছা আরও স্পষ্ট হতে হবে। কেননা, সব সরকারের আমলেই মাদক গডফাদাররা রাজনৈতিক আশ্রয়-প্রশ্রয় পেয়ে থাকে। এমনকি তাদের এমপি বানাতেও দেখেছেন দেশবাসী, যা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশে বিদ্যমান মাদক পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। এমন বাস্তবতায় মাদকের বিরুদ্ধে কার্যকরভাবে দীর্ঘমেয়াদি লড়াইয়ের জন্য নারকোটিক্সকে ঢেলে সাজানো হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির সক্ষমতা বাড়াতে ডগ স্কোয়াড, সাইবার ও অর্থ পাচার ইউনিট, ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাবসহ জনবল কাঠামো বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মাদক মামলার বিচারে গতি আনতে গঠিত হচ্ছে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হাসান মারুফ বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে যুগান্তরকে বলেন, নারকোটিক্সের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এ জন্য অস্ত্র, সরঞ্জাম, জনবল বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণসহ নানা ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে অচিরেই এটি মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি শক্তিশালী সংস্থায় পরিণত হবে।

এদিকে নারকোটিক্সের সাবেক ও বর্তমানে কর্মরত কয়েকজন সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সবকিছু ঠিক থাকলেও কাজের কাজ কিছুই হবে না, যদি সর্ষের মধ্যে ভূত থাকে। অর্থাৎ সবার আগে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দেশকে ভালোবাসতে হবে। কারণ এ সেক্টরে কাঁচা টাকার ছড়াছড়ি। তাই বিপুল পরিমাণ কাঁচা টাকার লোভ অনেকে সামলাতে পারেন না। ফলে এক শ্রেণির দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তা-কর্মচারীর প্রত্যক্ষ এবং পরোক্ষ সহায়তায় মাদকের বিস্তার ঘটছে।

নিজের দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে নারকোটিক্সের সাবেক এক মহাপরিচালক যুগান্তরকে বলেন-অস্ত্র, সরঞ্জামসহ প্রয়োজনীয় আধুনিক সব সুবিধা দেওয়ার পরও অভিযানসংশ্লিষ্টরা সঠিক পথে না এলে ফলাফল শূন্য হতে পারে। অবৈধ অর্থ পকেটে ঢোকাবেন না স্বেচ্ছায় এমন প্রতিজ্ঞা না করলে বাইরে থেকে জোর করে কোনোভাবেই ঘুস বন্ধ করা যাবে না।

অস্ত্র হাতে মাঠে : মাদকের বিরুদ্ধে ঝুঁকিপূর্ণ অভিযান চালাতে গিয়ে নারকোটিক্সের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকে প্রায়শ হামলার শিকার হচ্ছেন। সম্প্রতি রাজধানীর মগবাজারে অভিযানে গিয়ে এক পরিদর্শক গুলিবিদ্ধ হন। এ ঘটনায় আহত হন আরও বেশ কয়েকজন। ঝুঁকি বিবেচনায় নারকোটিক্সের জন্য স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের অনুমোদন দেওয়া হয়।

কালের কণ্ঠ

‘তিন বিষয়ে তীব্র বিতর্কে সংসদ উত্তপ্ত’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নিখোঁজ ছাত্রশিবির নেতা জিসানকে উদ্ধার, জামায়াতের নারী এমপিদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য ও পুশ ইন আলোচনা স্থগিত করা নিয়ে সরকারের মন্ত্রী, বিরোধীদলীয় উপনেতা ও সংসদ সদস্যদের মধ্যে বাগবিতণ্ডায় জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশন উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। সংসদে তীব্র হট্টগোল ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে রুলিং দিয়ে স্পিকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন।

গতকাল রবিবার বিকেলে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদ অধিবেশন শুরু হয়। অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ নিয়ে অধিবেশনকক্ষে হট্টগোল সৃষ্টি হয়। স্পিকার মাইক বন্ধ করে দিলেও তর্কে জড়িয়ে পড়েন সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা।

স্পিকার বারবার থামানোর চেষ্টা করতে থাকেন। কিন্তু বিরোধীদলীয় সদস্যরা দাঁড়িয়ে হট্টগোল করতেই থাকেন। পরে স্পিকারের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং বিষয়টি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার রুলিং দেওয়া হয়।

সংসদ অধিবেশনে ৩০০ বিধিতে দেওয়া বিবৃতিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১১ জুন কুমিল্লা থেকে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ জিসান নিখোঁজ হয়েছেন বলে প্রচার করা হয়।

এ বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরিও করা হয়। বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে উদ্বেগ তৈরি হলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। তবে তদন্তে ভিন্ন তথ্য উঠে এসেছে। দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্রে এক নারীর সঙ্গে জিসানের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারীর সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন জিসান।

ফলে ওই নারী অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়লে তাঁকে জোর করে ভ্রূণ নষ্টের ওষুধ খাওয়ানো হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, গত ১২ জুন তাঁদের বিয়ের দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু বিয়েতে না বসার উদ্দেশ্যে ১১ জুন রাতে জিসান নিজে আত্মগোপন করেন। এরপর পুলিশ অনুসন্ধান করে তাঁকে কুমিল্লার লাকসাম এলাকা থেকে উদ্ধার করে। ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে জিসানসহ চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও ভ্রূণ হত্যার অভিযোগে মামলা করেন। মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে। এরই মধ্যে দুই আসামি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। প্রকৃত তথ্য জাতির সামনে তুলে ধরার স্বার্থেই বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই ফ্লোর নিয়ে তীব্র আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। এ সময় বিরোধী দলের অন্য সদস্যরাও দাঁড়িয়ে যান। বিরোধীদলীয় উপনেতা বলেন, ৩০০ বিধিতে দেওয়া বক্তব্যের সুযোগ ব্যবহার করে একটি রাজনৈতিক দলকে লক্ষ্য করে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। একটি বিচারাধীন ও বিতর্কিত বিষয়কে সংসদে এভাবে উপস্থাপন করা সংসদীয় ইতিহাসে বিরল ঘটনা। এতে সংসদের মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়তে পারে। তিনি জানতে চান, জিসান বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছেন, কেন সাংবাদিকদের তাঁর সঙ্গে কিংবা অভিযোগকারী নারীর সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না? তদন্ত সম্পন্ন হওয়ার আগেই কাউকে দোষী হিসেবে উপস্থাপন করা অনুচিত।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘ফেরানোর প্রস্তাব যাচ্ছে দুবাই’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদকে কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার। স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছাড়াও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং ইন্টারপোলের সঙ্গে যোগাযোগকারী পুলিশের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) পরবর্তী করণীয় ঠিক করেছে।

বেনজীরকে ফেরাতে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব তৈরি ও আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে কূটনৈতিক চ্যানেলে এই প্রস্তাব দুবাইয়ের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হবে।

সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং সংশ্লিষ্ট দলিলাদি তৈরি করবে দুদক। দুবাইয়ের আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের দিন থেকে ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যর্পণ প্রস্তাব পাঠাতে হবে। সংশ্লিষ্ট একাধিক পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এ তথ্য পাওয়া গেছে।

বাংলাদেশের কাছ থেকে সব নথিপত্র পাওয়ার পর বেনজীরকে পাঠানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন আমিরাতের আদালত। এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি ও গ্রেপ্তার এই ধাপ সম্পন্ন হয়েছে।

ইন্টারপোলের সঙ্গে সমন্বয়কারী এনসিবি শাখায় কাজের অভিজ্ঞতা আছে এমন একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা সমকালকে জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে তিনটি দেশের বন্দিবিনিময় চুক্তি আছে। দেশগুলো হলো– ভারত, থাইল্যান্ড ও দক্ষিণ আফ্রিকা। আরব আমিরাতের সঙ্গে এই ধরনের চুক্তি নেই। তবে বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তি না থাকলেও আরব আমিরাত থেকে অতীতে বিভিন্ন সময় আসামি বা বন্দি ফিরিয়ে আনার একাধিক নজির বাংলাদেশের রয়েছে। মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্টান্স (এমএলএ) বা পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে পলাতক অপরাধীকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিজ দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।

২০১৪ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশ ও আরব আমিরাতের মধ্যে তিনটি চুক্তি হয়। সেগুলো হলো– নিরাপত্তা সহযোগিতা, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি স্থানান্তর এবং ঢাকায় আরব আমিরাতের দূতাবাসের জন্য জমি হস্তান্তরের চুক্তি।

গতকাল রোববার জাতীয় সংসদে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে ৩০০ বিধিতে বিবৃতি দিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, আমিরাতের আইন অনুযায়ী কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে বেনজীরকে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ করা হবে। তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিবিরোধীসহ একাধিক মামলা বিচারাধীন। তাঁকে ফেরত আনতে কূটনৈতিক চ্যানেলে যোগাযোগ করে দ্রুত বাংলাদেশে নিয়ে আসা হবে।

তিনি আরও বলেন, এটি বাংলাদেশ পুলিশের ঐতিহাসিক সাফল্য। এর মাধ্যমে আমরা বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে বের হয়ে আসতে সক্ষম হবো। পাশাপাশি জাতিকে আশ্বস্ত করতে চাই, অপরাধী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। এটি দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা এবং বাংলাদেশের ইতিহাসে মাইলফলক হয়ে থাকবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দুর্নীতি মামলায় অভিযুক্ত পুলিশের আইজিপি বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করার জন্য পুলিশ সদরদপ্তরের ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরোর পক্ষে আবেদন করা হয়। এ আবেদনটি ২০২৫ সালে পাঠানো হয়েছিল। ইন্টারপোল ২০২৫ রেড নোটিশ জারি করে। ইন্টারপোল থেকে বেনজীরকে গ্রেপ্তারের জন্য আরব আমিরাতকে অনুরোধ করা হয়।

ইত্তেফাক

‘ভারতের অনুমোদন মেলেনি, আটকে গেল নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আমদানি’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, নেপাল থেকে বাংলাদেশে আরো ২০ মেগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুত্ আমদানির পরিকল্পনা আপাতত আটকে গেছে। আজ সোমবার থেকে বাংলাদেশে শুধু ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ রপ্তানি করবে নেপাল। যদিও ৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ রপ্তানির কথা ছিল। কিন্তু ভারতের অনুমোদন না মেলায় এ বাড়তি বিদ্যুত্ ঢাকায় আসছে না।

গতকাল রবিবার নেপালের জ্বালানি খাতের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

খবরে বলা হয়েছে, ভারতের কেন্দ্রীয় বিদ্যুত্ কর্তৃপক্ষ (সিইএ) বিদ্যুত্ পরিবহন লাইনের সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণ দেখিয়ে অনুমোদন আটকে দিয়েছে। তারা আরো জানান, এই অতিরিক্ত বিদ্যুত্ আমদানির জন্য নতুন করে একটি ত্রিপক্ষীয় চুক্তি সংশোধন বা স্বাক্ষর করতে হবে। একই সঙ্গে নেপাল-ভারত জ্বালানি সচিব পর্যায়ের যৌথ স্টিয়ারিং কমিটির সিদ্ধান্তের প্রয়োজন হবে।

সাধারণত বর্ষা মৌসুমে নেপাল তাদের উদ্বৃত্ত বিদ্যুত্ ভারত ও বাংলাদেশে রপ্তানি করে থাকে। তবে শীতকালে তারা নিজেরাই ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করে। ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক জেএসসি বৈঠকে বিদ্যমান ৪০ মেগাওয়াটের পাশাপাশি আরো ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ রপ্তানি বাড়ানোর বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছিল। ঐ বৈঠকে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়েছিল।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথোরিটি (এনইএ) ভারতের এনটিপিসি বিদ্যুত্ ব্যাপার নিগম লিমিটেডকে (এনভিভিএন) অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ জানায়। কিন্তু এনভিভিএন পরে জানায় যে, ভারত-বাংলাদেশ ১ হাজার মেগাওয়াট ক্ষমতার সঞ্চালন লাইনটিতে এই অতিরিক্ত বিদ্যুত্ পরিবহনের আর কোনো সুযোগ বা সক্ষমতা নেই।

এনইএর বিদ্যুত্ বাণিজ্য বিভাগের পরিচালক তর্ক বাহাদুর থাপা বলেন, এবার বাংলাদেশে কেবল ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুত্ই রপ্তানি করা হবে। অতিরিক্ত ২০ মেগাওয়াটের জন্য ত্রিপক্ষীয় চুক্তি চূড়ান্ত না হলেও, আগের নিয়মে আমরা ভারতের সিইএর কাছে এনভিভিএনের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু করেছিলাম। কিন্তু তারা জানিয়েছে যে সঞ্চালন লাইনে নতুন করে ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ নেওয়ার ক্ষমতা নেই।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘দেশজুড়ে অপরাধের বিস্তার’। খবরে বলা হয়, ৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দেশজুড়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবক্ষয় ঘটেছে। একের পর এক নৃশংস হত্যাকাণ্ড, প্রকাশ্য দিবালোকে ছিনতাই, বেপরোয়া চাঁদাবাজি, মাদক কারবার এবং বীভৎস ধর্ষণের ঘটনায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। কারামুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের আন্ডারওয়ার্ল্ড নিয়ন্ত্রণের মরণনেশায় রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চল এখন জনসাধারণের জন্য অনিরাপদ ও ভীতিকর হয়ে উঠেছে।

অভিযোগ উঠেছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার এবং চিহ্নিত অপরাধীদের গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দৃশ্যত ব্যর্থ। এমনকি চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করতে গিয়ে বা রাজনৈতিক আধিপত্যের জেরে প্রকাশ্যে খুনের শিকার হচ্ছেন খোদ রাজনৈতিক কর্মীরাও।

আন্ডারওয়ার্ল্ডে জেলমুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসীদের রক্তাক্ত লড়াই

রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দীর্ঘকাল কারাবাস শেষে একে একে জামিনে মুক্তি পেয়েছে ঢাকার আন্ডারওয়ার্ল্ডের একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসী। জেল থেকে বেরিয়েই এরা রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি ও ডিশ ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। ফলে দীর্ঘদিনের সুপ্ত আন্ডারওয়ার্ল্ড আবার উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে এবং শুরু হয়েছে একের পর এক নৃশংস ও রক্তাক্ত খুনোখুনি। খোদ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নমনীয়তা এবং অপরাধীদের দমনে দৃশ্যমান ব্যর্থতার কারণে ঢাকার বেশ কিছু এলাকা এখন সাধারণ মানুষের জন্য ‘মৃত্যুকূপ’ ও চরম আতঙ্কের জনপদে পরিণত হয়েছে।

আন্ডারওয়ার্ল্ডের রক্তাক্ত যুদ্ধ: সাম্প্রতিক সহিংসতা

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর কারাগার থেকে মুক্ত হওয়া সন্ত্রাসীরা মাঠে নামার পর রাজধানীতে নতুন করে গ্যাং-ওয়ার বা দলীয় কোন্দল মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে।

কাইল্ল্যা পলাশের ওপর প্রকাশ্য হামলা (রামপুরা) : গত শুক্রবার রাজধানীর রামপুরা এলাকায় প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হন এক সময়ের কুখ্যাত আন্ডারওয়ার্ল্ড ত্রাস ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্ল্যা পলাশ’। তিনি যুবদল নেতা মিজান হত্যাসহ অসংখ্য চাঞ্চল্যকর মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। দীর্ঘ ২৪ বছর কারাদণ্ড ভোগের পর মাত্র এক মাস আগে জামিনে মুক্তি পান পলাশ। জেল থেকে বেরিয়েই রামপুরা-খিলগাঁও এলাকার আধিপত্য ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে নামেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ‘কাইল্ল্যা মাসুদ’ গ্রুপ তাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এই সশস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন হত্যাকাণ্ড (ধানমন্ডি): সম্প্রতি ধানমন্ডি এলাকায় প্রতিপক্ষের গুলিতে নিহত হন আন্ডারওয়ার্ল্ডের আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটন। নিহতের পরিবারের দাবি, ধানমন্ডি ও মোহাম্মদপুর এলাকার ফুটপাথ, ডিশ ব্যবসা ও পরিবহন চাঁদাবাজির একক নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে কুখ্যাত ‘পিচ্চি হেলাল’ গ্রুপ পরিকল্পিতভাবে টিটনকে খুন করেছে।

বণিক বার্তা

‘আইন ভেঙে ঢাকার ভালো মাঠ পার্ক অভিজাত সোসাইটিকে দিচ্ছে রাজউক ও সিটি করপোরেশন’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ শেষে ২০২২ সালের ১৯ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা হয় রাজধানীর গুলশান ২ নম্বরে অবস্থিত শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ স্মৃতি পার্ক। এতে ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে ৮ কোটি টাকা।

কিন্তু উদ্বোধনের দুই বছর পর ২০২৪ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) পার্কটির পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব দেয় গুলশান ইয়ুথ ক্লাবকে। তবে এর আগে থেকেই পার্কের একটি বড় অংশ ক্লাবটির নিয়ন্ত্রণে ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে পুরো পার্কের নিয়ন্ত্রণ কার্যত ওই ক্লাবের হাতে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ক্লাবটি পার্কের মূল নকশায় পরিবর্তন এনে বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণ করেছে। শুধু তা-ই নয়, পার্কসংলগ্ন মাঠে খেলাধুলা করতে ঘণ্টাপ্রতি ১ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ৮ হাজার টাকা পর্যন্ত ফি দিতে হয়। সম্প্রতি পার্কটিতে ‘গুলশান সেন্ট্রাল পার্ক ও ক্রীড়া কমপ্লেক্স’ নাম লেখা নতুন সাইনবোর্ড টানানো হয়েছে।

অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয় গুলশানের শহীদ ডা. ফজলে রাব্বি পার্ক। উদ্বোধনের সময় এটিকে দেশের প্রথম ‘স্মার্ট পার্ক’ হিসেবে আখ্যা দেয়া হয়। তৎকালীন মেয়রও ঘোষণা করেছিলেন, শুধু গুলশান বা নিকেতন সোসাইটির জন্য এ পার্ক নয়, বরং উন্মুক্ত থাকবে সবার জন্যই। খেটে খাওয়া মানুষও এ পার্কে আসতে পারবে। কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। স্থানীয়দের দাবি, বর্তমানে পার্কটির নিয়ন্ত্রণ গুলশান ও নিকেতন সোসাইটির হাতে। পার্কটি খোলা কিংবা বন্ধও হয় এসব সংগঠনের নির্দেশে।

সম্প্রতি ডা. ফজলে রাব্বি পার্কে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকসহ বাকি দুটি ফটকই বন্ধ। নিরাপত্তকর্মীদের কাছে পার্কের ফটক বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, গুলশান সোসাইটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে পার্কটি দুপুর ১২টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বন্ধ রাখতে। কেন বন্ধ রাখতে হবে এর সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর নিরাপত্তাকর্মীরা দিতে পারেননি। তবে তারা বলেছেন, এ সময় বাইরের মানুষজন বেশি থাকে, তাদের প্রবেশ সীমিত করার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়ে থাকতে পারে। তাছাড়া এ সময় পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও গাছের পরিচর্যা করা হয় বলে জানান তারা।

নগর বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জনগণের টাকায় সংস্কার করে পার্কগুলোকে কোনো সংস্থা, সোসাইটি, প্রতিষ্ঠান কিংবা ক্লাবের কাছে হস্তান্তর করা সম্পূর্ণ বেআইনি সিদ্ধান্ত। সিটি করপোরেশন ও রাজউক আইন-বহির্ভূতভাবে এ কাজ করে যাচ্ছে উল্লেখ করে তারা বলেন, এসব পার্ক ও মাঠ ভাড়া দিয়ে ক্লাবগুলো বাণিজ্য করছে, ভূমির শ্রেণী পরিবর্তন করে অফিস নির্মাণ করছে। এগুলো সবই বেআইনি কার্যক্রম।

মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা শহরের পৌর এলাকাসহ দেশের সব পৌর এলাকার খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান ও প্রাকৃতিক জলাধার সংরক্ষণ আইন, ২০০০-এ বলা হয়েছে, ‘এ আইনের বিধান ব্যতীত, খেলার মাঠ, উন্মুক্ত স্থান, উদ্যান এবং প্রাকৃতিক জলাধার হিসাবে চিহ্নিত জায়গার শ্রেণী পরিবর্তন করা যাইবে না বা উক্তরূপ জায়গা অন্য কোনোভাবে ব্যবহার করা যাইবে না বা অনুরূপ ব্যবহারের জন্য ভাড়া, ইজারা বা অন্য কোনোভাবে হস্তান্তর করা যাইবে না। এ আইনের৷ ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, কোনো উদ্যানের মৌলিক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয় এইরূপে উহার বৃক্ষরাজি নিধনকে উদ্যানটির শ্রেণী পরিবর্তনরূপে গণ্য করা হইবে।’

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘টিআইএন বাধ্যবাধকতা: ব্যাংক হিসাব-সঞ্চয়ে ভাটা পড়ার ভয়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার কেরানীগঞ্জের একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী প্রতিদিনের আয় থেকে ২০০-৩০০ টাকা করে জমিয়ে মাস শেষে ব্যাংকে রাখেন। রাজশাহীর এক কৃষিশ্রমিক মৌসুম শেষে কয়েক হাজার টাকা সঞ্চয় করে হিসাব খুলতে চান। ময়মনসিংহের এক গৃহকর্মী মেয়ের পড়াশোনার জন্য ছোট একটি ডিপিএস করতে চান। তাঁদের কারও আয় করযোগ্য নয়। কর দেওয়ার বাধ্যবাধকতাও নেই। কিন্তু আগামী দিনে ব্যাংক হিসাব খুলতে গেলে তাঁদের সবারই ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) লাগবে।

২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে স্টুডেন্ট অ্যাকাউন্টসহ বিশেষ কিছু ক্ষেত্র ছাড়া সবার জন্য ব্যাংক হিসাব খোলার সময় টিআইএন সনদ জমা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, করের আওতা বাড়াতে এবং অর্থনীতিকে আরও আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে আনতে এ উদ্যোগ প্রয়োজন। ব্যাংক হিসাবের সঙ্গে টিআইএন সংযুক্ত হলে আয় ও সম্পদের তথ্য বিশ্লেষণ সহজ হবে, করফাঁকি শনাক্ত করাও কার্যকর হবে।

বিশ্ব ব্যাংকের ‘গ্লোবাল ফিনডেক্স ডেটাবেজ ২০২৫’ অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখনো ৫৭ শতাংশ মানুষ আনুষ্ঠানিক আর্থিক ব্যবস্থার বাইরে। মাত্র ৪৩ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের আর্থিক হিসাব রয়েছে। বিশ্ব গড় যেখানে ৭৩ থেকে ৭৯ শতাংশ, সেখানে বাংলাদেশ এখনো অনেক পিছিয়ে। ফলে সরকার যখন আরও বেশি মানুষকে ব্যাংকিং ব্যবস্থায় আনার চেষ্টা করছে, তখন নতুন এই শর্ত নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

দেশের প্রায় ১৭ কোটি ৭০ লাখ মানুষের মধ্যে দরিদ্র ও নিম্ন আয়ের মানুষের সংখ্যা প্রায় ১১ কোটি। তাদের বড় অংশের কোনো করযোগ্য আয় নেই। কিন্তু নিরাপত্তা, ভবিষ্যৎ সঞ্চয় কিংবা জরুরি প্রয়োজনে তাদের একটি বড় অংশ ব্যাংকের দ্বারস্থ হয়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ দেশে নো-ফ্রিলস ব্যাংক হিসাবের (দরিদ্রদের জন্য বিশেষ হিসাব) সংখ্যা ৩ কোটি ৪২ লাখ ছাড়িয়েছে। এসব হিসাবে জমা হয়েছে ৭ হাজার ২৬০ কোটি টাকার বেশি। অর্থাৎ নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাংকিং ব্যবস্থার প্রতি আস্থা ধীরে ধীরে বাড়ছে। কিন্তু নতুন প্রস্তাব সেই যাত্রাপথকে জটিল করে তুলবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আবদুল মজিদ আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ব্যাংকিং ব্যবস্থায় প্রবেশ সহজ ও অবাধ হলে মানুষের আর্থিক কর্মকাণ্ডও ধীরে ধীরে আনুষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে চলে আসে। তাই প্রকৃত করফাঁকিদাতা ও উচ্চ আয়ের ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার পরিবর্তে নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠীর ওপর অতিরিক্ত প্রশাসনিক শর্ত আরোপ করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও আসতে পারে।’

দেশ রূপান্তর

দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘বঙ্গবাজারে কিস্তির সঙ্গে সাতগুণ বাড়তি চাঁদা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ঢাকার ঐতিহ্যবাহী মার্কেট বঙ্গবাজার; শুধু ঢাকায় নয়, সারা দেশেই এটি একনামে পরিচিত। আগুনের বিভীষিকা একদিনেই নিঃস্ব করে দেয় এ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের। ২০২৩ সালের এপ্রিলে আগুনে পুড়ে যায় এ মার্কেটের প্রায় ৩ হাজার দোকান, মালামাল ও নগদ পুঁজি। সে সময় সব হারিয়ে প্রায় নিঃস্ব হয় ব্যবসায়ীরা। তাদের দুর্দশা দেখে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়। এমনকি ভিক্ষুক বা তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর মানুষরাও টাকা নিয়ে এ মার্কেটের ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ান।

আগুনের সেই ক্ষত তিন বছর পরও কাটিয়ে উঠতে পারেনি ব্যবসায়ীরা। কেউ কেউ নিঃস্ব হয়ে চলে গেছে গ্রামে। আবার কেউ জীবনসংগ্রামে ঘুরে দাঁড়াতে লড়াই করে যাচ্ছে এখনো। এখন পুড়ে যাওয়া মার্কেটের জায়গায় উঠছে বহুতল ভবন। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্মাণ করছে আধুনিক বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স। ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৯৬১ জন ব্যবসায়ীকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে দোকান। ধারদেনা করে দোকানের কিস্তির টাকাও দেওয়া শুরু করেছে ব্যবসায়ীরা।

অভিযোগ উঠেছে, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের প্রক্রিয়ার এ কিস্তির সঙ্গে নীরবে আদায় করা হচ্ছে চাঁদা। তৃতীয় কিস্তির টাকা জমা দেওয়ার জন্য সবাইকে বাড়তি ১০ হাজার করে টাকা চাঁদা দিতে হচ্ছে। গত কিস্তির তুলনায় এ কিস্তিতে প্রায় ৭ গুণ বেশি চাঁদা দিতে হচ্ছে। দ্বিতীয় কিস্তির সময় ব্যবসায়ীরা চাঁদা দিয়েছিল ১ হাজার ৫০০ টাকা করে। জানা গেছে, চাঁদার অর্থের একাংশ সিটি করপোরেশনের অসাধু কর্মকর্তাদের কাছেও পৌঁছাচ্ছে, যা পুরো প্রক্রিয়াকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলেছে।

যে ব্যবসায়ীদের পুড়ে যাওয়া দোকান দেখে ভিক্ষুক-হিজড়াদের মায়া হয়েছিল সেই ব্যবসায়ীদের পকেট কাটছেন মালিক সমিতির নেতারা ও সিটি করপোরেশনের অসাধু কর্মকর্তারা। উপায়ান্তর না পেয়ে চাঁদার বাড়তি টাকা দিয়েই দোকানের সালামি (কিস্তি) পরিশোধ করছে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।

জানা গেছে, গত ৫ মে ডিএসসিসি থেকে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স দোকান মালিক সমিতির সভাপতি/সাধারণ সম্পাদককে একটি চিঠি দেওয়া হয়। চিঠিতে ক্ষতিগ্রস্ত ২ হাজার ৯৬১ জন সদস্যকে তৃতীয় কিস্তির ৩ লাখ টাকা অগ্রিম সালামি পরিশোধের কথা জানানো হয়। একই সঙ্গে জারা দ্বিতীয় কিস্তি দেয়নি তাদের ৬ লাখ টাকা দিতে বলা হয়। সে অনুযায়ী সমিতির পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পে-অর্ডারের মাধ্যমে সালামির টাকা জমা দিতে বলা হয়েছে। সম্প্রতি কয়েকজন ভুক্তভোগীকে সঙ্গে নিয়ে সমিতির অফিসে যান এ প্রতিবেদক। বঙ্গবাজারের সপ্তম তলার সমিতির অফিসে গিয়ে দেখা গেছে, পে-অর্ডারের স্লিপ জমা দিচ্ছে ব্যবসায়ীরা। চারটি টেবিলে এসব সিøপ গ্রহণের কাজ করছে সমিতির নিয়োগ করা ব্যক্তিরা।

বঙ্গ ইউনিটের দায়িত্বপ্রাপ্ত রাসেল দোকানিদের পে-অর্ডারের সিøপ গ্রহণ করে রেজিস্ট্রার খাতায় লিপিবদ্ধ করেন। এরপর আরেকটি বই বের করে ১০ হাজার টাকার একটি রশিদ ধরিয়ে দেন। পরিচয় গোপন রেখে রাসেলের কাছে এ ১০ হাজার টাকা নেওয়ার কারণ জানতে চাইলে মুচকি হেসে তিনি বলেন, ‘এটা সবাই জানে। নতুন করে বলার কিছু নেই।’ এ টাকা বেতন-ভাতা ও অফিস খরচ বাবদ ব্যয় করা হবে বলে রশিদের নিচে উল্লেখ আছে।

একইভাবে গুলিস্তান, মহানগর ও আদর্শ ইউনিটের টেবিলেও পে-অর্ডারের সঙ্গে নেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা করে। এ ব্যাপারে কেউ কোনো প্রশ্ন করছে না। যারা মৃদু স্বরে জিজ্ঞেস করে তাদের সমিতির খরচের দোহাই দেওয়া হয়। কেউ ‘সিস্টেম’ মেনে, কেউবা বাধ্য হয়ে দিচ্ছে চাঁদার এ বাড়তি টাকা।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

‘বেনজীরের যত অপরাধ’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইন্টারপোলের সহযোগিতায় দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত ও পলাতক পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়ায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার সব অপকর্ম। একসময়ের প্রতাপশালী এ কর্মকর্তাকে দেশে আনা হলে কোন কোন মামলায় বিচারের মুখোমুখি করা হবে সেই প্রশ্নও ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। বিশেষ করে ক্ষমতার অপব্যবহার করে অঢেল সম্পদের মালিক হওয়া, শাপলা চত্বরের ঘটনা, সারা দেশে বিচারবহির্ভূত হত্যা ও অসংখ্য গুমের ঘটনার মতো মানবাধিকারবিরোধী অপরাধের নেপথ্যের চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও তাকে ঠিক কবে দেশে আনা হবে সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য দিতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা। তবে দ্রুত সময়ের মধ্যেই তাকে দেশে আনার কথা জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

পুলিশ সদর দপ্তর সূত্র জানিয়েছে, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ২৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ১৭টি বৈষম্যবিরোধী হত্যা ও হত্যাচেষ্টা মামলা, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ৬টি মামলা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) ৩টি মামলা রয়েছে। ৩টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন ট্রাইব্যুনাল। বৈষম্যবিরোধী মামলাগুলোর মধ্যে বেশির ভাগই রাজধানী ঢাকায় দায়ের হয়েছে। এই ১৭টি মামলার কোনোটিরই তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। ঢাকার বাইরেও কয়েকটি জেলায় তার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। জুলাইয়ের এসব মামলার বেশির ভাগেরই প্রধান আসামি জুলাই আন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পুলিশ সদর দপ্তরের অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন্স) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, দুদকের মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়েছিল। সেটির ভিত্তিতেই দুবাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে। দেশে আনার পর তাকে দুদকের মামলাতেই আদালতে হাজির করা হবে।


এরপর পর্যায়ক্রমে অন্য মামলায় শ্যোন অ্যারেস্ট দেখানো হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুদক ৬টি মামলা করেছে। এর মধ্যে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে একটি মামলায় আনুষ্ঠানিক বিচার চলছে এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ বাকি ৫টি মামলার তদন্ত চলছে। ১১ কোটি ৩৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে করা মামলার বিচার শুরু হয়েছে। দুদকের চার মামলাতেই বেনজীর পরিবারের বিরুদ্ধে ৭৪ কোটি ১৩ লাখ ৩৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগ আনা হয়েছে। এদিকে ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিল শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে শেখ হাসিনার সরাসরি নির্দেশে গণহত্যার ছক বেনজীর তৈরি করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় ২০২৪ সালের ২৭ নভেম্বর শাপলা চত্বরের ঘটনায় শেখ হাসিনাসহ ৫০ জনকে আসামি করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে হেফাজতে ইসলামের পক্ষ থেকে অভিযোগ দাখিল করা হয়। এ মামলায় বেনজীরের বিরুদ্ধে পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল। অন্যদিকে র‌্যাবের টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন (টিএফআই) সেলে গুম এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগের মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন। এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ মোট ১৭ জন আসামির মধ্যে বেনজীর আহমেদ অন্যতম। তিনি বর্তমানে এ মামলায় পলাতক হিসেবে চিহ্নিত।

দেশবিদেশে সম্পদের পাহাড় : পুলিশের সাবেক প্রধান গুম ও বিচাবহির্ভূত হত্যাকাে র মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকেননি। নামে-বেনামে দেশেবিদেশে শত শত কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলেন। অবৈধ আয়ের উৎস ও মালিকানা গোপন করতে বেনজীর আহমেদ বিভিন্ন ব্যাংক, ব্যবসা ও যৌথ মূলধনি প্রতিষ্ঠানে অর্থ বিনিয়োগ এবং স্থানান্তর করেন। গোপালগঞ্জ সদরে ৬২১ একর জমির ওপর গড়ে তোলেন সাভানা ইকো রিসোর্ট অ্যান্ড ন্যাচারাল পার্ক। অভিযোগ রয়েছে, এলাকার বেশ কয়েকটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারকে ভয় দেখিয়ে ও জোর করে এসব জমি বিক্রি করতে বাধ্য করা হয়। আর নির্মাণকাজে ব্যবহার করা হয় পুলিশ সদস্যদের। গাজীপুরের কালীগঞ্জেও হিন্দু ও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের জমি কম দামে কেনা এবং ভয় দেখানোর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেখানে ভাওয়াল রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা নামে একটি রিসোর্টে মালিকানা রয়েছে তার। ২০২৩ সালের ৫ মার্চ এক দিনেই ঢাকার গুলশানের র‌্যাংকন আইকন টাওয়ারে চারটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন