বিপাকে রাশিয়া

বিপাকে রাশিয়া

ফন্ট সাইজ:

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ চার বছর ছাড়িয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই সংঘাত টিকিয়ে রাখতে মস্কো সরকার বিশাল আর্থিক প্রণোদনা ঘোষণা করলেও নতুন সৈন্য সংগ্রহে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা যাচ্ছে।

নতুন বিজ্ঞাপন প্রচারণায় তরুণ পুরুষদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে চোখধাঁধানো প্রস্তাব- প্রায় ৮০ হাজার ডলারের সমমূল্যের বোনাস এবং ১ লাখ ৪০ হাজার ডলার পর্যন্ত ঋণ মওকুফ।
রাস্তার বিলবোর্ড থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম- সব জায়গাতেই “নায়ক হওয়ার সুযোগ” এবং দ্রুত নাগরিকত্বের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সেনা নিয়োগের চেষ্টা চলছে। তবে এই বিশাল আর্থিক প্রণোদনাও পর্যাপ্ত কার্যকর হচ্ছে না।

রাশিয়ার অর্থনীতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ জানিস ক্লুগে জানান, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে সেনা নিয়োগ গত বছরের তুলনায় প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।

ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট ফর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (আইআইএসএস)-এর সিনিয়র ফেলো নাইজেল গোল্ড-ডেভিস বলেন, রুবল দিয়ে যুদ্ধ করা যায় না।
তার মতে, ইতিহাসে এই প্রথম রাশিয়া নাগরিকদের বাধ্য না করে অর্থের বিনিময়ে যুদ্ধক্ষেত্রে

পাঠাচ্ছে, যা অর্থনীতির ওপর চাপ তৈরি করছে এবং জনবল সংকটকে আরও তীব্র করছে।
বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া এখন এমন এক পরিস্থিতিতে পৌঁছেছে যেখানে তারা যত সৈন্য হারাচ্ছে, তার চেয়ে কম সংখ্যক নতুন সৈন্য নিয়োগ দিতে পারছে। ফলে ক্রেমলিনকে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে নতুন ও কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হতে পারে।

শ্রম সংকট-অর্থনৈতিক চাপ বাড়ছে

যুদ্ধের কারণে শুধু সেনাবাহিনী নয়, রাশিয়ার পুরো অর্থনীতিতেই শ্রম সংকট দেখা দিয়েছে। কারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চললেও দক্ষ কর্মীর অভাবে উৎপাদন বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা খাত ইতিমধ্যেই সর্বোচ্চ ক্ষমতায় কাজ করছে, ফলে অতিরিক্ত সামরিক উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। একই সঙ্গে শ্রমিকের ঘাটতি বেসামরিক অর্থনীতিতেও চাপ সৃষ্টি করছে।

নাইজেল গোল্ড-ডেভিস বলেন, এটি এখন ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুতর শ্রম সংকটগুলোর একটি। শ্রমিক ছাড়া অর্থনীতি ও যুদ্ধ- দুটিই চালানো কঠিন।
অনুমান অনুযায়ী, যুদ্ধের কারণে প্রায় পাঁচ লাখ রুশ সেনা নিহত হয়েছে এবং কয়েক লাখ মানুষ দেশ ছেড়েছে বাধ্যতামূলক নিয়োগ এড়াতে।

মুদ্রাস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি
যুদ্ধ অর্থনীতির প্রভাব সাধারণ নাগরিকদের জীবনেও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। খাদ্যের দাম গত বছরের তুলনায় ১৮ শতাংশের বেশি বেড়েছে, ইউটিলিটি বিল ও করও বৃদ্ধি পেয়েছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় জ্বালানি সংকট এবং বিমান চলাচলে বিলম্ব দেখা দিচ্ছে।
যদিও রাশিয়ার সরকারি হিসাবে মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ৫.৫ শতাংশ বলা হচ্ছে, বাস্তবে জনগণের মধ্যে অর্থনৈতিক চাপ ও অসন্তোষ বাড়ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।

রাশিয়ার সামনে কঠিন সিদ্ধান্ত
বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রেমলিন এখন এক গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়ে। হয় যুদ্ধের জন্য সমাজ ও অর্থনীতির ওপর চাপ আরও বাড়াতে হবে, নয়তো যুদ্ধের লক্ষ্য সীমিত করতে হবে।
তবে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া আপাতত যুদ্ধের লক্ষ্য কমানোর বদলে আরও কঠোর নিয়োগ ও দমনমূলক নীতির দিকে যেতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থনীতি, জনবল সংকট এবং সামাজিক চাপ একসঙ্গে মিলে ক্রেমলিনের জন্য দীর্ঘমেয়াদে বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন