গ্রাহকদের ব্যাপক আমানত প্রত্যাহারের মুখে বড় ধরনের তারল্য সংকটে পড়েছে ইসলামী ব্যাংক। উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে ইসলামী ব্যাংককে আড়াই হাজার কোটি টাকার বিশেষ ধার বা তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। অবশ্য ব্যাংকটি ১০ হাজার কোটি টাকা চেয়ে আবেদন করে। রোববার বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সহায়তার এ অর্থের মধ্যে দুই হাজার কোটি টাকা নগদ অর্থ হিসেবে দেয়া হয়েছে বলে জানান সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। এ ছাড়া, আন্তঃব্যাংক লেনদেনের গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম রিয়েল টাইম গ্রস সেটেলমেন্ট (আরটিজিএস) সেবা সচল রাখতে আরও ৫০০ কোটি টাকা সহায়তা দেয়া হয়েছে।
দেশের বৃহত্তম বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ইসলামী ব্যাংকে সম্প্রতি আবারও অস্থিরতা ও গভীর তারল্য সংকট দেখা দেয়। ব্যাংকটির শীর্ষ নেতৃত্বে আকস্মিক পরিবর্তন এবং নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর মো. খুরশীদ আলমের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে আস্থাহীনতা তৈরি হয়। এর প্রভাবে এক সপ্তাহে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা তুলে নেন গ্রাহকরা। ফলে গত সপ্তাহে ১০ হাজার কোটি টাকার তারল্য সহায়তা চেয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে আবেদন করে ব্যাংকটি। প্রথম ধাপে আড়াই হাজার কোটি টাকার সহায়তা দেয়া হলো।
আমানত প্রত্যাহারের চাপ বাড়তে থাকায় ব্যাংকটির তারল্য ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়। বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী ব্যাংকটির ক্যাশ রিজার্ভ রেশিও (সিআরআর) উদ্বৃত্ত থাকার কথা থাকলেও তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একই সঙ্গে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সংরক্ষিত ব্যাংকটির চলতি হিসাবের (কারেন্ট অ্যাকাউন্ট) ব্যালেন্সও চাপে পড়ে।
গত শুক্রবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে গভর্নর মোস্তাকুর রহমান ইসলামী ব্যাংকে তারল্য সহায়তা দেয়ার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, আমানতকারীদের আতঙ্কের কিছু নেই। ইসলামী ব্যাংকের সংকট দ্রুত কেটে যাবে। আমানতকারীদের টাকা তুলতে সমস্যা হবে না।
