বৃটিশ সশস্ত্র বাহিনী ইংলিশ চ্যানেলে একটি রাশিয়ান ‘শ্যাডো ফ্লিট’ তেলের ট্যাঙ্কার আটক করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার। রোববার ভোরে পরিচালিত ছয় ঘণ্টাব্যাপী এই অভিযানে রয়েল মেরিন কমান্ডো এবং ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সির বিশেষ প্রশিক্ষিত আইন প্রয়োগকারী কর্মকর্তারা জাহাজটিতে উঠে পড়েন। অভিযানে রয়েল এয়ার ফোর্সের (আরএএফ) সহায়তাও নেয়া হয়। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ‘স্মির্তোস’ নামের ওই জাহাজটিকে ইংল্যান্ডের দক্ষিণ উপকূলের কাছে আটকে রাখা হবে এবং তদন্ত চলাকালীন নজরদারিতে রাখা হবে। প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ের স্টারমার বলেন, এই সফল অভিযান রাশিয়ার ওপর আরেকটি বড় আঘাত। এটি পুতিনের ইউক্রেন যুদ্ধকে অর্থায়নকারী শক্তিগুলোর জন্য একটি স্পষ্ট বার্তা- আমরা তাদের লুকিয়ে থাকতে দেব না। প্রতিরক্ষামন্ত্রী ড্যান জার্ভিস বলেন, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ চালাতে তাদের শ্যাডো ফ্লিটের ওপর নির্ভর করে, আর আমাদের এই অভিযান পুতিনের অবৈধ যুদ্ধের ওপর একটি বড় আঘাত। এই অভিযানে অংশ নেয় মেরিটাইম এয়ার গ্রুপের বিমান, আরএএফের পি-৮ বিমান, পাশাপাশি এইচএমএস সাদারল্যান্ড এবং এইচএমএস লেডব্রি যুদ্ধজাহাজ। রাশিয়া দীর্ঘদিন ধরে ‘শ্যাডো ফ্লিট’ নামে একটি ট্যাঙ্কার নেটওয়ার্ক ব্যবহার করছে, যেখানে জাহাজগুলোর মালিকানা অস্পষ্ট রাখা হয়। যেন আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল রপ্তানি করা যায়।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই শ্যাডো ফ্লিটের মাধ্যমে রাশিয়ার নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত তেলের প্রায় ৭৫ শতাংশ পরিবহন করা হয়। এই নেটওয়ার্কে ৭০০টিরও বেশি জাহাজ রয়েছে, যা ক্রেমলিনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সহায়তা হিসেবে কাজ করছে। বৃটেন ইতিমধ্যে ৫০০টিরও বেশি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।
