অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণে বড় বাধা ভঙ্গুর ব্যাংক খাত

সহযোগীদের খবর

অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণে বড় বাধা ভঙ্গুর ব্যাংক খাত

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো

‘অর্থনীতির লক্ষ্য পূরণে বড় বাধা ভঙ্গুর ব্যাংক খাত’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করে সাড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের উচ্চাভিলাষী এক বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি আরও বলেছেন, এখন থেকে দেশের অর্থনীতি হবে বিনিয়োগনির্ভর। কেননা, সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য হচ্ছে ২০৩৪ সালের মধ্যে অর্থনীতির আকার এক ট্রিলিয়ন ডলার করা, যা এখন আছে এর ঠিক অর্ধেক।

তবে এর কোনো লক্ষ্যই পূরণ হবে না, যদি দেশের ব্যাংক খাত গভীর সংকটে ও ভঙ্গুর অবস্থায় থাকে। কেননা, বাংলাদেশের অর্থনীতি পুরোপুরিই ব্যাংক খাতনির্ভর। ব্যাংক খাতের সম্পদ দেশের মোট জিডিপির ৫০ শতাংশ। এই সম্পদের ৮৫ শতাংশই ঋণ ও বিনিয়োগ। এমনকি সরকারও নির্ভর করে ব্যাংক খাতের ওপর। এবার অর্থমন্ত্রী যে বাজেট ঘাটতি করেছেন, তার ৪৬ শতাংশ অর্থই আসবে ব্যাংক খাত থেকে।

দেশের এই ব্যাংক খাতের করুণ চিত্র অর্থমন্ত্রীই বাজেটে তুলে ধরেছেন। যেমন: ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ ৬ লাখ ৪৪ হাজার কোটি টাকা বা ৩৫ দশমিক ৭৩ শতাংশ। মূলধন পর্যাপ্ততার হার ঋণাত্মক ২ দশমিক ৬৪ শতাংশে নেমে এসেছে। বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধিও কমে হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ। অবশ্য বাজেট পেশের সময় এই হার আরও কমে হয়েছে ৪ দশমিক ৭৫ শতাংশ, যা দেশের ইতিহাসে সর্বনিম্ন। আর এখন মোট জিডিপিতে বেসরকারি ঋণ মাত্র ২১ দশমিক ৫৩ শতাংশ, যা গত এক যুগের মধ্যে সর্বনিম্ন।

এর মধ্যে আবার ইসলামী ব্যাংককে কেন্দ্র করে ব্যাংক খাতে নতুন করে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় ব্যাংক খাতকে ঠিক করার কাজটি এখনই না করলে অর্থমন্ত্রীর কথা অনুযায়ী প্রথম বছর অর্থনীতির পুনরুদ্ধার এবং পরের তিন বছরে উত্তরণ সম্ভব হবে না।

দুর্বল ব্যাংকে ক্ষতি সবার

১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে জাপানের ব্যাংকগুলো শেয়ার ও জমিতে অতিরিক্ত ঋণ দিয়েছিল। এর মূল্য কমে গেলে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে গেলে বিনিয়োগ কমে যায়। এতে জাপানে দীর্ঘ অর্থনৈতিক স্থবিরতা দেখা দেয়, এখনো যাকে বলা হয় হারানো দশক বা ‘লস্ট ডিকেড’।

বিভিন্ন গবেষণায়ও দেখা গেছে, ব্যাংক খাতের সংকট আসলে একটি দেশের পুরো অর্থনীতিকে বিপর্যস্ত করে দিতে পারে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) দুই অর্থনীতিবিদ লুক লেভেন ও ফাবিয়ান ভ্যালেন্সিয়া ১৯৭০ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে বিশ্বের ১৫১টি ব্যাংকিং সংকট নিয়ে একটি গবেষণা করেছিলেন। ২০১৮ সালে প্রকাশিত সেই গবেষণায় বলা হয়, কোনো দেশে মোট ঋণের ২০ শতাংশের বেশি খেলাপি হয়ে গেলে বা ব্যাংক খাত বাঁচাতে সরকারের ব্যয় জিডিপির ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলে সেটি গুরুতর সংকটের লক্ষণ। এর সঙ্গে যদি আমানত স্থগিত করা, ব্যাংক জাতীয়করণ, বিশেষ তারল্য সহায়তা বা সরকারি গ্যারান্টির মতো পদক্ষেপ নিতে হয়, তাহলে সেটিকে পদ্ধতিগত ব্যাংকিং সংকট হিসেবে বিবেচনা করা যায়। এই ব্যাংকিং সংকটের সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় সাধারণ মানুষ ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের। ফলে কর্মসংস্থান কমে যায় এবং অর্থনৈতিক বৈষম্য বাড়তে পারে।

লেভেন ও ভ্যালেন্সিয়ার গবেষণায় আরও দেখা গেছে, একটি ব্যাংকিং সংকট শুরু হওয়ার পর গড়ে প্রতিবছর জিডিপির প্রায় ৭ শতাংশ সমপরিমাণ উৎপাদন ক্ষতি হয়। আবার ব্যাংকিং সংকট মোকাবিলার খরচও বিশাল। সংকট সামাল দিতে সরকারকে গড়ে জিডিপির ৮ দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় করতে হয়েছে। একই সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো গড়ে মোট আমানতের প্রায় ১৭ শতাংশ সমপরিমাণ তারল্য সহায়তা দিয়েছে।

বাংলাদেশেও একই চিত্র

গুরুতর সংকটের যে সংজ্ঞা গবেষকেরা দিয়েছেন, তার প্রতিটিই বাংলাদেশে ঘটছে। সরকারি হিসাবেই এখন বাংলাদেশে খেলাপি ঋণের হার ৩৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। দুর্বল ব্যাংকগুলোকে টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংককে বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিতে হচ্ছে।

আওয়ামী লীগ আমল থেকে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় পর্যন্ত টাকা ছাপিয়ে ১২টি ব্যাংককে ৬৮ হাজার ২৫০ কোটি টাকা ধার দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ আমলের সর্বশেষ গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের সময় দেওয়া হয় ১৭ হাজার ২৫০ কোটি টাকা এবং সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান এইচ মনসুরের সময় দেওয়া হয় ৫১ হাজার কোটি টাকা। এই ঋণ তিন মাসের জন্য দেওয়া হয়েছিল। তবে বছর পার হয়ে গেলেও তা পরিশোধ করা হয়নি। আর পাঁচ ইসলামি ধারার ব্যাংক একীভূত করার জন্য সরকারকে আরও দিতে হবে ২০ হাজার কোটি টাকা। এই পাঁচ ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ঠিক করা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। আর বাজেটে অর্থমন্ত্রী জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরেই ব্যাংক খাতের মূলধন-সংকট কাটাতে ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।

ব্যাংক খাতে নতুন সংকট

আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ব্যাংক খাতের সংস্কারে বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল অন্তর্বর্তী সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংক। এর প্রভাব ছিল মিশ্র। এর মধ্যে পাঁচটি দুর্বল ব্যাংককে একীভূত করে একটি সরকারি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। এর সফলতা নিয়ে এখনো সংশয় রয়েছে। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের পরিস্থিতি উন্নতির দিকেই ছিল। বাড়ছিল আমানত। সহায়তা দিতে হলেও তা ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। কিন্তু নির্বাচনের পর পরিস্থিতি পাল্টে যেতে শুরু করেছে।

প্রতিষ্ঠার পর ইসলামী ব্যাংক রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ব্যাংক হিসেবে পরিচিত ছিল। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় জামায়াতমুক্ত করার অংশ হিসেবে এর মালিকানা দখলে নেওয়া হয়। রাষ্ট্রের সরাসরি সহায়তায় মালিকানা দখলে নেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী এস আলম। এরপর তিনি কৌশল করে একে একে সাতটি ব্যাংক দখল করেন। তারপর নামে-বেনামে বিপুল পরিমাণ ঋণ নিলে ব্যাংকগুলো চরম আর্থিক সংকটে পড়ে।

নির্বাচনের পর সরকার ব্যাংক রেজোল্যুশন আইন পাস করার সময় পুরোনো মালিকদের কাছে ব্যাংক ফেরত দেওয়ার ধারা যুক্ত করলে বিভ্রান্তি ও এর উদ্দেশ্য নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে ব্যাংকটির শীর্ষ পদে পদত্যাগ ও নতুন নিয়োগকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। একই সঙ্গে ব্যাংকটি নিয়ে আবার রাজনৈতিক টানাপোড়েনও শুরু হয়েছে। জামায়াতে ইসলামী প্রকাশ্যে একটি পক্ষ নিয়েছে। জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নির্বাচনের সময় ইসলামী ব্যাংকের অর্থ ব্যবহারের অভিযোগ তুলেছেন। এতে আস্থা হারিয়ে অনেক গ্রাহক যেমন আমানত তুলে নিচ্ছেন, তেমনি চাপে ফেলার কৌশলের অংশ হিসেবেও অর্থ উত্তোলন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ইসলামী ব্যাংক কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছে নতুন করে ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থ সহায়তা চেয়েছে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর গত শুক্রবার বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে আশ্বস্ত করেছেন যে ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা অর্থ পাবেন। এ জন্য তারল্য সহায়তা দেওয়ার কথাও বলেছেন তিনি।

তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, তারল্য সহায়তা দিয়ে সাময়িক সংকট মেটানো গেলেও প্রয়োজন চূড়ান্ত সমাধান। এ জন্য সবার আগে রাজনীতি থেকে ব্যাংককে দূরে রাখতে হবে। অর্থমন্ত্রী বাজেটে বলেছেন, ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা হবে। এখন তা কার্যকর করাই হবে তাঁর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

কেন ব্যবস্থা নিতে হবে

বিশ্বব্যাংক ২০২৫ সালে বাংলাদেশের ব্যাংক খাত নিয়ে আলাদা বিশ্লেষণ রিপোর্ট প্রকাশ করেছিল। সেই বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশের রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক হচ্ছে দেশের ব্যাংক খাতের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অংশ। এসব সরকারি ব্যাংক দেশের মোট ব্যাংক খাতের সম্পদের প্রায় ২৭ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে, যা জিডিপির প্রায় ১২ শতাংশ। সুতরাং এসব ব্যাংকের স্থিতিশীলতা পুরো আর্থিক খাতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সর্বশেষ হিসাবে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হার ৪৬ শতাংশ।

বেসরকারি খাতের মধ্যে ১১টি ব্যাংক ছিল চরম দুর্দশায়। এর মধ্যে কয়েকটির পরিস্থিতি ভালো হলেও বেশির ভাগই এখনো খারাপ অবস্থায়। সরকারি ব্যাংকের মধ্যে জনতা ব্যাংককে টিকিয়ে রেখেছে সরকার। একসময়ের সরকারি মালিকানাধীন সবচেয়ে ভালো ব্যাংক বেসিক ব্যাংক আর কখনোই ঘুরে দাঁড়াতে পারবে, তা কেউ মনে করেন না।

অন্যদিকে দেশের সবচেয়ে বড় বেসরকারি খাতের ব্যাংক ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ একাই মোট ব্যাংকিং খাতের ৮ দশমিক ৭ শতাংশ সম্পদ নিয়ন্ত্রণ করে। এই সম্পদ জিডিপির প্রায় ৪ দশমিক ৪ শতাংশের সমান। সুতরাং এই দুই ধরনের ব্যাংককে দ্রুত ঠিক করতে না পারলে অর্থনীতির ঝুঁকি আরও বাড়বে। তাতে সংকট পুরো ব্যাংক খাতে ছড়িয়ে পড়বে। এমন আশঙ্কার কথা এরই মধ্যে জানিয়েছে ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স বাংলাদেশ (এবিবি)।

যত দেরি, তত বেশি সংকট

আইএমএফের সাবেক ব্যাংকিং বিশেষজ্ঞ ডেভিড হোলশার এবং সুইডেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাবেক গভর্নর স্টেফান ইংভেস ২০ বছর আগে এক গবেষণায় দেখিয়েছিলেন, ব্যাংকিং সংকট যত দ্রুত শনাক্ত করা যায় এবং সমস্যাগ্রস্ত ব্যাংকের বিরুদ্ধে যত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সংকট মোকাবিলার ব্যয় তত কম হয়। দেরি হলে ক্ষতি বাড়ে এবং শেষ পর্যন্ত সরকারের ব্যয়ও বেড়ে যায়।

বিশ্বব্যাংক সেই গবেষণার কথা উল্লেখ করে ২০২৫ সালের রিপোর্টে বলেছে, হস্তক্ষেপে বিলম্ব হলে আর্থিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটবে এবং সমাধানের ব্যয় বেড়ে যাবে। কারণ, গভীর সংকটে পড়া ব্যাংক খুব কম ক্ষেত্রেই নিজের শক্তিতে ঘুরে দাঁড়াতে পারে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ মোস্তফা কে মুজেরী এ নিয়ে প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য ব্যাংক খাত অপরিহার্য। এ জন্য ব্যাংক খাত ঠিক না হলে অর্থনীতিও ঠিক হবে না। এই সমস্যার যত দ্রুত সমাধান করা যাবে, অর্থনীতির জন্য ততই ভালো হবে। সমস্যা দিনে দিনে ঘনীভূত হচ্ছে, যা পুরো খাতের জন্য অশনিসংকেত।

মোস্তফা কে মুজেরী আরও বলেন, ব্যাংক খাত স্থিতিশীল করতে সংস্কারের বিকল্প নেই। সেই সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে। এতে কোনো রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ করা যাবে না। ব্যাংক খাতের এই পরিণতির পেছনে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ দায়ী। টেকসই সমাধানের জন্য দক্ষ, যোগ্য ও নির্মোহ ব্যক্তিদের দিয়ে ব্যাংক সংস্কার কমিশন গঠন করতে হবে। সে অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। বাংলাদেশ ব্যাংককে পেশাদার ও নিরপেক্ষ আচরণ করে দ্রুত সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ নিতে হবে।

ব্যাংক সংস্কার কমিশন কবে হবে

নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপির দেওয়া অনেক প্রতিশ্রুতি ভোটারদের আকৃষ্ট করেছে। ইশতেহারে দেওয়া কিছু প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে। এমনকি নতুন বাজেটেও এর প্রতিফলন আছে। তবে ব্যাংক খাত নিয়ে সংস্কার কমিশন গঠনের কথা ইশতেহারে থাকলেও বাজেটে এর কোনো উল্লেখ নেই। অর্থমন্ত্রী আর্থিক খাতের সংস্কার নিয়ে সামান্য কিছু কথা বলেছেন, তবে ব্যাংক সংস্কারের কোনো কাঠামো বা সময়সীমার উল্লেখ করেননি। ইশতেহারে বলা ছিল, বিশেষজ্ঞ অর্থনীতিবিদ ও গবেষক, অভিজ্ঞ ব্যাংকার, করপোরেট নেতা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি অর্থনৈতিক সংস্কার কমিশন গঠন করা হবে। এ ছাড়া ইশতেহারে বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা ও ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ বিলুপ্ত করে রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক পরিচালনা ও তদারকির ভার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে ন্যস্ত করার কথাও বলা ছিল।

বাংলাদেশে সর্বশেষ ব্যাংক সংস্কার কমিটি বা কমিশন গঠন হয়েছিল ৩০ বছর আগে, ১৯৯৬ সালে। অর্থনীতিবিদ ও সাবেক উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এর প্রধান ছিলেন। এরপর বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় একের পর এক ঋণ কেলেঙ্কারি ঘটলে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণায় ব্যাংক কমিশনের ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। এরপর ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে আবারও ব্যাংক কমিশন গঠনের কথা বলেন পরবর্তী অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। কিন্তু প্রভাবশালী গোষ্ঠীর বাধায় সেই কমিশন আর হয়নি। তাতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে।

যা করতে হবে

বিশ্বব্যাংক তাদের রিপোর্টে ব্যাংক খাত সংস্কারের অংশ হিসেবে ১০ ধরনের সুপারিশ করেছিল। যেমন: ব্যাংক পুনর্গঠন কাঠামো শক্তিশালী করা, আমানত সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা, ব্যাংকে সুশাসন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার করা, রাষ্ট্রমালিকানাধীন ব্যাংক সংস্কার, শক্তিশালী খেলাপি ঋণ ব্যবস্থাপনা কাঠামো গড়ে তোলা, পূর্ণাঙ্গ দেউলিয়াত্ব ও অবসায়ন আইন প্রণয়ন, ব্যাংকিং বিধিবিধানের কঠোর প্রয়োগ ও তদারকি জোরদার করা, জরুরি তারল্য সহায়তা কাঠামো গড়ে তোলা, আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চা অনুসরণ করা এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের স্বাধীনতা জোরদার করা।

এখন নতুন সরকার সংস্কার কমিশন গঠন করবে, নাকি পিছিয়ে যাবে—সেটাই দেখার বিষয়।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রধান শিরোনাম ‘রাজস্ব আদায়ের কঠিন অঙ্ক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এই লক্ষ্য চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৮ শতাংশ বেশি। সংশোধিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলছে, রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা কঠিন হবে। কারণ সরকার ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির কথা বললেও বাস্তবে এটি ৫৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে (জুলাই-মার্চ পর্যন্ত) রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। এপ্রিল থেকে জুন-২০২৬ পর্যন্ত তিন মাসে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা আদায় করলেও বছর শেষে সাড়ে ৪ লাখ কোটি টাকার বেশি আদায় কঠিন হবে। অর্থনীতিবিদদের মতে, অতীতের ধারাবাহিকতা, অর্থনীতির বাস্তবতা এবং রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বিবেচনায় আগামী অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রা কঠিন এক অঙ্ক। তবে সরকার বলছে, আয় বাড়াতে প্রস্তাবিত বাজেটে তারা ছয়টি কৌশল নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে-কর নেট সম্প্রসারণ, ডিজিটাল কর প্রশাসন, করনীতি সংস্কার, কর ফাঁকি রোধ, ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্কভিত্তিক রাজস্ব বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করা। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা ও অর্থবিলে এসব কৌশলের কথা উল্লেখ আছে।

জানতে চাইলে উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) সাবেক মহাপরিচালক ড. মোস্তফা কে. মুজেরী শনিবার যুগান্তরকে বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির বাস্তবতায় প্রস্তাবিত বাজেটের ব্যয়ের লক্ষ্যমাত্রা বড় নয়। আবার আয়ের লক্ষ্যমাত্রাও খুব যে বেশি তাও নয়। আমার বিবেচনায় এই লক্ষ্যমাত্রা আরও বেশি হওয়া উচিত। কিন্তু প্রশ্ন হলো রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা নিয়ে। অর্থাৎ রাজস্ব আদায়ের সম্ভাবনা আছে কিন্তু সক্ষমতার অভাবে আমরা লক্ষ্য অর্জন করতে পারছি না। তিনি বলেন, অতীতের ধারাবাহিকতা, অর্থনীতির বাস্তবতা এবং রাজস্ব আদায়ের সক্ষমতা বিবেচনায় ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় কঠিন হবে। তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায় কম হলে দুটি ঘটনা ঘটবে। প্রথমত, বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে আরও ঋণ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, বাজেট বাস্তবায়ন হবে না। তবে শেষ কথা হলো ‘আমাদের রাজস্ব আদায় বাড়াতে হবে। এর বিকল্প নেই।’

জানতে চাইলে প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়সংক্রান্ত উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর যুগান্তরকে বলেন, অস্বীকার করছি না আয়ের খাতগুলো দুর্বল। তবে অর্থায়ন নিশ্চিত করতে আমরা মূলত ত্রিমুখী ব্যবস্থা নিচ্ছি। রাজস্ব আয় বৃদ্ধি, দক্ষ ঋণ ব্যবস্থাপনা এবং পরিচালন ব্যয় কমানো। বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চারিত হলে করের হার না বাড়িয়েও আয় বাড়ানো সম্ভব। ব্যবসা বেশি থাকলে করপোরেট কর এবং মূল্য সংযোজন কর বাড়বে। পাশাপাশি বাড়বে কাস্টমস শুল্ক। এটি ভঙ্গুর অর্থনীতি সচল করার জন্য পৃথিবীতে স্বীকৃত একটি চমৎকার পদ্ধতি। দ্বিতীয় বড় কৌশল হলো-কর ফাঁকি, কর অব্যাহতি ও জালিয়াতির যে ‘মরণব্যাধি’ পতিত সরকার দেশকে দিয়ে গেছে, সেই সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসা। ঋণ ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও সরকার অত্যন্ত সচেতন। বিগত সরকারের আমলে বৈদেশিক ঋণ ৩২২ শতাংশ বেড়েছে। ফলে এই ঋণের সুদ পরিশোধ বাবদ এক বিশাল চাপ তৈরি হয়েছে। আমাদের সেই দায় বহন করতে হচ্ছে। ফলে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেখানে বিনিয়োগের বিপরীতে রিটার্ন নেই, যেখানে ‘ইনভেস্টমেন্ট মাল্টিপ্লায়ার ইফেক্ট’ বা বহুমুখী অর্থনৈতিক প্রভাবও নেই, সেসব ক্ষেত্রে নতুন ঋণ নেওয়া হবে না। পরিবেশগত প্রভাব এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য বাংলাদেশের কথা বিবেচনা করেই কেবল ঋণ নেওয়া হবে। তবে ধীরে ধীরে ঋণ হ্রাস করে ভারসাম্য আনা হবে। পাশাপাশি প্রশাসনের সামঞ্জস্যহীন বড় রকমের ব্যাপ্তি এবং পুঞ্জীভূত ঋণের কারণে যে পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছিল, তা আমরা আস্তে আস্তে কমিয়ে আনব। একটি বিষয় ভাবতে হবে, আমাদের অর্থনীতির বড় একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক (ইনফরমাল) রয়ে গেছে। এটাকে ফরমাল করে অর্থনীতির মূল ধারায় নিয়ে আসতে হবে। এজন্য আমরা ডিজিটাল অর্থনীতিতে জোর দিয়েছি। দুর্নীতি কমাতে আমাদের লক্ষ্য ক্যাশলেস (নগদহীন) সোসাইটির দিকে যাওয়া। এক্ষেত্রে ইনফরমাল অর্থনীতি মূল ধারায় না এলে ক্যাশলেস করা যাবে না।’

প্রস্তাবিত বাজেটে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বিপরীতে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ক্ষেত্রে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রাকে ভিত্তি ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৫ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা। ফলে প্রস্তাবিত বাজেটের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে ১৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি করতে হবে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম ৯ মাসে অর্থাৎ জুলাই থেকে মার্চ পর্যন্ত রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা। ফলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাকি ৩ মাসে ২ লাখ ৫৭ হাজার কোটি টাকা আয় করতে হবে।

সিপিডির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ অত্যন্ত কঠিন। সংস্থাটির মতে, চলতি অর্থবছরে ৪ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার বেশি আয় হবে না। আর পরিমাণ কোটি টাকা আদায় করতে হলেও বাকি তিন মাসে আরও ১ লাখ ১৯ হাজার কোটি টাকা আদায় করতে হবে। ফলে নতুন বছরের লক্ষ্যমাত্রা চলতি অর্থবছরের চেয়ে ৫৪ শতাংশ বেশি। এটি একেবারে কঠিন। অর্থমন্ত্রী বাজেট বক্তৃতায় বলেছেন, বর্তমানে দেশে কর জিডিপি অনুপাত ৬.৮ শতাংশ। প্রস্তাবিত বাজেটে তা ৯ দশমিক ২ শতাংশে উন্নীত করার কথা বলা হয়েছে। অর্থনীতিবিদদের বিবেচনায় এটি অবাস্তব। এদিকে অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতা এবং অর্থবিলেও রাজস্ব আদায় বাড়াতে ৬টি কৌশলের কথা বলা হয়েছে।

কর প্রশাসনের পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল রূপান্তর : বাজেট বক্তৃতায় কর ব্যবস্থাপনাকে সম্পূর্ণ অটোমেশনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে। সরকারের মতে, কর আদায়ে দীর্ঘদিনের প্রধান সমস্যা হলো কর ফাঁকি, তথ্য গোপন এবং প্রশাসনিক অদক্ষতা। এসব সমস্যা দূর করতে কর প্রশাসনকে প্রযুক্তিনির্ভর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বক্তৃতায় বলা হয়েছে, করদাতাদের হয়রানি কমানো এবং কর সংগ্রহ বাড়ানোর জন্য কর প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করা হবে। এক্ষেত্রে অর্থবিলে অনুমোদিত ডিজিটাল সফটওয়্যারে সংরক্ষিত হিসাবকে আইনি স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। ফলে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত লেনদেন, বিক্রয় ও করযোগ্য কার্যক্রম নজরদারি করা সহজ হবে।

কালের কণ্ঠ

‘ব্যবসা চাঙ্গায় গুচ্ছ পদক্ষেপ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতির তীব্র চাপ, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, বিনিয়োগ স্থবিরতার মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণের লক্ষ্য নিয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বাজেট ঘোষণাকালে অর্থমন্ত্রী বেসরকারি খাতকে আরো গতিশীল করতে একগুচ্ছ যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ‘বিনিয়ন্ত্রণ’ (ডি-রেগুলেশন) কর্মসূচির ঘোষণা দেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার শুধু করছাড়ই দেয়নি, দেশি শিল্প সুরক্ষায় বেশ কিছু আমদানি পণ্যের ওপর শুল্ক ও রেগুলেটরি ডিউটি বাড়িয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন, ব্যবসা ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সেবায় সময়, ব্যয়, অনিশ্চয়তা ও দাপ্তরিক জটিলতা কমাতেই সরকারের এই নীতিগত অবস্থান। তবে সরকারের এই বড় বার্তার বিপরীতে দেশের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতৃত্ব ও শীর্ষস্থানীয় অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে আলাপকালে মিশ্র প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে।

একদিকে ওয়ানস্টপ সার্ভিস, স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন এবং কর কর্মকর্তাদের একক ক্ষমতা বিলোপের সাহসী পদক্ষেপকে ব্যবসায়ীরা স্বাগত জানিয়েছেন, অন্যদিকে বাজেট ঘাটতি অর্থায়নে ব্যাংকিং খাতের ওপর অতি নির্ভরতা ও সামষ্টিক অর্থনীতির তারল্য সংকট নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছেন অর্থনীতিবিদরা।

উৎপাদনশীল খাতের চাকা সচল করার প্রত্যয় অর্থমন্ত্রীর : জাতীয় সংসদে বাজেট পেশকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্ববাজারের অস্থিরতা, জ্বালানিসংকট এবং অভ্যন্তরীণ কাঠামোগত দুর্বলতার কারণে দেশের অর্থনীতি একটি রূপান্তরকালীন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখা এবং একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের ওপর মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো একটি দ্বিমুখী চ্যালেঞ্জ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান লক্ষ্য হলো উৎপাদনশীল খাতের চাকা সচল রাখা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। আমরা এমন একটি কর ও আইনি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চাই যা সৎ ব্যবসায়ী ও নতুন উদ্যোক্তাদের নিরুৎসাহ করবে না, বরং দেশীয় শিল্পকে বিশ্ববাজারে প্রতিযোগিতামূলক হতে সাহায্য করবে।’

বিনিয়োগের খরা কাটাতে সরকার বেসরকারি খাতকে মূল চালিকাশক্তি হিসেবে বিবেচনা করছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বাজেট বত্তৃদ্ধতায় বলেন, এই বিনিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমের মানে কোনো প্রয়োজনীয় আইন, বিধি বা তদারকি ব্যবস্থা বিলোপ করা নয়; বরং জনস্বার্থ, পরিবেশ ও বিনিয়োগকারীর অধিকার অক্ষুণ্ন রেখেই প্রক্রিয়া সহজ ও দুর্নীতিমুক্ত করা হবে। যাচাইয়ের কাজ স্পষ্ট নিয়মে নির্দিষ্ট সময়ে প্রযুক্তির সহায়তায় করা হবে।

এক সপ্তাহে স্বয়ংক্রিয় অনুমোদন ও ৪৮ ঘণ্টায় কম্পানি নিবন্ধন : এবারের বাজেটে ব্যবসা করার প্রক্রিয়া সহজ করতে সবচেয়ে বড় ধাক্কাটি দেওয়া হয়েছে লাইসেন্স ও অনুমোদন প্রক্রিয়ায়। অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা অনুযায়ী, ব্যবসা করার জন্য নিবন্ধন, বিভিন্ন অনুমোদন, ছাড়পত্রসহ অন্যান্য সরকারি সেবার আবেদন সর্বোচ্চ এক সপ্তাহের (সাত দিন) মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

সমকাল

দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘বড় দল’ হতে গিয়ে জামায়াতে বিশৃঙ্খলা। প্রতিবেদনে বলা হয়, জামায়াতে ইসলামীর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, তাদের কেউ দলীয় পদ বা নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকারে বিবেচিত হবে। প্রতিষ্ঠার পর প্রায় ৮০ বছর দলটির নেতাকর্মীরা তা মেনে চললেও চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর বেশ কিছু নেতার মধ্যে এই নিয়ম ভাঙার ঘটনা ঘটেছে। সাংগঠনিক নিয়ম অমান্যের ফলে 'বড় দল' হয়ে উঠতে চাওয়া জামায়াতের মধ্যে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে শুরু করেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় নির্দেশ অমান্য করায় জামায়াতের তিন প্রার্থীকে বহিষ্কার করা হয়েছিল। সুনামগঞ্জ ও নরসিংদী জেলা কমিটি বিলুপ্ত করে সব নেতাকে শাস্তি দেওয়া হয়। তার পরও আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলসমর্থিত প্রার্থী হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে 'লবিং' করছেন তৃণমূলের নেতারা।

এই প্রবণতা নিয়ে কথা বলেছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান। তিনি গত ১৬ মে রংপুরে দলীয় নেতাকর্মীর উদ্দেশে বলেছেন, 'আমাকেই জনপ্রতিনিধি হতে হবে-এ রকম চিন্তা যদি কারও মাথায় আসে, তাহলে তিনি ইসলামী আন্দোলনের কর্মী হওয়ার যোগ্যতা হারিয়ে ফেলবেন।'

সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক আবু সাঈদ খান সমকালকে বলেন, জামায়াত এত বছর ছিল একটি ক্যাডারভিত্তিক রেজিমেন্টেটা সল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে না থাকায় প্রধান প্রধান দুই দলের একটিতে পরিণত হয়েছে জামায়ত। এতে দলটির দ্রুত ও অস্বাভবিক বৃদ্ধি হয়েছে। নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ফলে অতীতে জামায়াত থেকে নির্বাচনে অংশগহনে আগ্রঙ্গী মানুষ কম থাকলেও এখন তা বাড়ছে। এতে বিদ্রোহী প্রার্থী ও দলীয় অনুশাসন ভাঙার প্রবণতা বাড়ছে।

জামায়াত আগের মতোই ক্যাডারভিত্তিক দল

থাকলে ক্ষমতায় যেতে পারবে না, আবার ক্ষমতাষ যেতে সবার রন্দ্য দঙ্গ উন্মুক্ত করলে আদর্শিক দঙ্গ থাকতে পারবে না বলে মনে করেন আবু সাঈদ খান। তিনি বলেন, বাজার দখল নিয়ে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের মারামারি: ও বিপত। বিস্তারের জন্য সংঘর্ষ হচ্ছে। এগুলে প্রচলিত দলে পরিণত হওয়র লখন। আবার আগের বৈশিষ্ট্য ধরে রাখতে গেলে ছোট দল হয়ে থাকতে হবে। ক্ষমতায় যেতে পারবে না জামায়াত এই টানাপোড়েনের মধ্যে পড়েছে।

ক্যাডারভিত্তিক দল নাকি বড় দল

নাম প্রকাশ না করার শর্তে জামায়াতের একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতা সমকালকে বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা তাদের জন্য একেবারেই নতুন কীভাবে এর মোকাবিলা করবেন, ভেবে পাচ্ছেন না। সংসদের ৬৮টি আসনে জয়ী জামায়াত, আগামীতে গমতায় যেতে পারে- এ ধারণা থেকে অনেকেই দলে যোগ দিতে চান; স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে চন। কিন্তু তারা জামায়াতের আদর্শ কওটা মেনে চলবেন, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তারা আদর্শ নয়, ক্ষমতার অংশ হতে ফলে আসতে চান।

ইত্তেফাক

‘বিরোধী দলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় কান দিচ্ছি না’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, বিএনপির রাজনীতি মানুষের জন্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ভোটের কালি শুকানোর আগেই ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করছে বিএনপি সরকার। এবার বাজেট ঘোষণার পর এখন পর্যন্ত কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। কিন্তু মদ-সিগারেট ও বিলাসী পণ্যের ওপর ট্যাক্স বাড়ানোর কারণে চরমভাবে নাখোশ হয়েছে বিরোধী দল। তারা এ বাজেট মানে না দাবি করে মিছিল সমাবেশ করছে। কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় ৩৭টি পণ্যে ট্যাক্স কমানো হলো, সেটা তারা কোথাও বলছে না। এতে কী বোঝা যায়, সাধারণ মানুষ নয়, বিশেষ কিছু শ্রেণির স্বার্থই তাদের কাছে বড়। গতকাল শনিবার কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত ‘পাতলী খাল’ পুনঃ খনন উদ্বোধন শেষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। সদর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সুবেদার মেজর আবদুল মাবুদের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব সাবেক চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন জিকুর সঞ্চালনায় পথসভায় প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিরোধী দলের অযৌক্তিক বিরোধিতায় আমরা কান দিচ্ছি না। সাধারণ জনগণের স্বার্থরক্ষা, প্রত্যন্ত অঞ্চলের সব জমিকে আবাদযোগ্য করে দেশের খাদ্য উত্পাদন বাড়িয়ে স্বাবলম্বী হওয়া নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

তিনি বলেন, অর্ধশত বছর আগে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান অজপাড়া এ গাঁয়ে পাতলী খাল খনন করে চাষাবাদ বাড়িয়েছেন। মাঝে খালটি নাব্য হারানোর পাশাপাশি বেদখল হয়েছে। এখন পুনঃখনন হচ্ছে, আবারও পূর্বের মতো আবাদ সুযোগ আসবে। এভাবে সারা বাংলাদেশে ৪০ হাজার মিটার খাল খনন হলে চাষাবাদের সহজলভ্যতা বাড়বে। কৃষক লাভবান হলে দেশ লাভবান হবে। দেশ লাভবান হলে স্বনির্ভরতা আসবে। প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, বিএনপি আমজনতার দল—সাধারণ মানুষের উন্নয়নে কাজ করতে বিশ্বাসী। দেশের অগ্রগতি নিশ্চিত করতে হলে কৃষক ও সাধারণ মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন ত্বরান্বিত করতে হবে। দরিদ্র কৃষকদের চাষাবাদ ঠিক রাখতে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষি সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এতে আরো বক্তব্য রাখেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদ মন্ত্রী শহিদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, সদর আসনের সংসদ সদস্য লুত্ফুর রহমান কাজল, পিএমখালী ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি হারুনুর রশিদ প্রমুখ।

বেলা ১১টার দিকে বাবার স্মৃতিবিজড়িত পাতলী খালে নিজ হাতে মাটি কেটে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক যাত্রা কক্সবাজার থেকেই শুরু করেন তিনি। গতকাল শনিবার কক্সবাজারের মালুমঘাট সংরক্ষিত বনে নিজ হাতে একটি গাছের চারা রোপণের মাধ্যমে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে সকাল ৯টা ৪৮ মিনিটে প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কক্সবাজার বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম কক্সবাজার সফরে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানানো হয়। বিমানবন্দরের বাইরে অবস্থান নেওয়া বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের হাজারো নেতাকর্মী এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা স্লোগানে স্লোগানে সস্ত্রীক প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান।

নয়া দিগন্ত

দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘রুশবাহিনীতে যুদ্ধে থাকা ১২ বাংলাদেশী নিহত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাশিয়ায় বৈধভাবে কাজের উদ্দেশ্যে যাওয়া ৩০ জন বাংলাদেশী শ্রমিক রুশ সেনাবাহিনীর ফাঁদে পড়ে শেষ পর্যন্ত ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। তাদের মধ্যে অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্বজনরা। একই হামলায় আরো চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং বর্তমানে তারা সেনা হেফাজতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে বাকি ১৪ জনের প্রকৃত অবস্থান সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

একজন শ্রমিকের স্বজন দাবি করেছেন, ড্রোন হামলায় মোট ২৬ জন নিহত হয়েছেন এবং মাত্র চারজন জীবিত রয়েছেন। জীবিতদের একজন রাজবাড়ীর আলী হোসেন সোহেল। গুরুতর আহত চার শ্রমিকের একজন স্বজনদের কাছে পাঠানো ভিডিওবার্তায় বাংলাদেশ সরকারের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করে বলেন, তাদের ওপর নির্যাতন চালানো হচ্ছে এবং দ্রুত উদ্ধার না করা হলে প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। ওই ভিডিওবার্তা প্রকাশের পর জিম্মি শ্রমিকদের পরিবারগুলোর উদ্বেগ আরো বেড়ে যায়।

একটি অডিওবার্তায় আহত শ্রমিক হান্নান নামে পরিচয় দিয়ে বলেন, তার বাড়ি জামালপুরে। তিনি জানান, তাদের প্রথম দলে পাঁচজন এসেছিলেন, যার মধ্যে এখন মাত্র চারজন জীবিত আছেন। তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রহমতে আমরা বেঁচে আছি। অনেকে মারা গেছেন। আরিফ, পাটোয়ারী, সাঈদ মোল্লা, ওয়াসিম আকরাম, জামালপুরের মফিজ, সোহেল ভাই, পবিত্র দা, সাব্বিরসহ আরো অনেকের মৃত্যু হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, ১৬ জনের একটি দলকে তিন থেকে চার দিনের ব্যবধানে কয়েক ধাপে যুদ্ধক্ষেত্রে নেয়া হয়েছিল। বর্তমানে জীবিত রয়েছেন মাত্র চারজন- পলাশ, আরমান, রাজবাড়ীর আলী হোসেন সোহেল এবং চাঁদপুরের মঈন উদ্দিন। হান্নানের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ফিরে আসার পর রুশ সেনারা তাদের চার থেকে পাঁচ দিন একটি ভূগর্ভের বাংকারে আটকে রাখে। এ সময় তাদের খাবার দেয়া হয়নি এবং প্রতিনিয়ত নির্যাতন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা খুবই খারাপ অবস্থায় আছি। আমাদের কথা সরকারের কাছে পৌঁছে দেয়ার ব্যবস্থা করুন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আমরাও বাঁচব না।’

অডিওবার্তায় তিনি আরো জানান, ড্রোন হামলায় আহত মঈন উদ্দিনের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। বর্তমানে তারা সেনা হেফাজতে রয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা পেলেও কোথায় নেয়া হচ্ছে, সে বিষয়ে কিছুই জানেন না।

এ দিকে ইউক্রেন সীমান্তে ড্রোন হামলায় বাংলাদেশী শ্রমিক নিহত হওয়ার খবরের বিষয়ে জানতে গতকাল শনিবার মস্কোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নজরুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘কিছু শ্রমিক নিহত হওয়ার খবর আমিও শুনেছি। তবে এখনো নিশ্চিত তথ্য পাইনি।’

বণিক বার্তা

‘রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার ৮১ শতাংশই আর্থিক ঝুঁকিতে’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশের বিদ্যুৎ, জ্বালানি, পরিবহন, নির্মাণ, টেলিযোগাযোগ, পানি সরবরাহ, স্বাস্থ্যসেবা ও কৃষিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ খাতে পরিচালিত রাষ্ট্রায়ত্ত ও স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলো বড় ধরনের কাঠামোগত ও আর্থিক সংকটে রয়েছে।

অর্থ বিভাগের এক সাম্প্রতিক মূল্যায়নে দেখা গেছে, দেশের ৮১ শতাংশ রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানই বর্তমানে মাঝারি থেকে অতি উচ্চ মাত্রার আর্থিক ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে বিপিডিবি, ডেসকো, ডিপিডিসি, বাপেক্স, তিতাস গ্যাস, যমুনা অয়েল, টিসিবি, বিআরটিসি ও বিমান বাংলাদেশের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান উচ্চ থেকে অতি উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন দীর্ঘদিনের অনিয়ম, অদক্ষতা, আমলাতান্ত্রিক নিয়ন্ত্রণ এবং রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে বাণিজ্যিক ভিত্তির চেয়ে গোষ্ঠীগত স্বার্থে পরিচালিত হওয়ায় বছরের পর বছর ধরে এসব প্রতিষ্ঠান লোকসান গুনছে।

সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বাংলাদেশে এ প্রতিষ্ঠানগুলো বড় ধরনের কাঠামোগত ও আর্থিক ঝুঁকির উৎস হয়ে উঠেছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও পরিবহন খাতের বেশকিছু বড় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ধারাবাহিক লোকসানে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানকে প্রতি বছর সরকারের জাতীয় বাজেট থেকে ভর্তুকি, অনুদান বা ঋণের মাধ্যমে বড় অংকের অর্থ বরাদ্দ দিতে হয়, যা সরকারের রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় বড় চাপ সৃষ্টি করছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের নেয়া ঋণের বিপরীতে সরকার ‘সার্বভৌম গ্যারান্টি’ প্রদান করে। প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে তা সরাসরি সরকারের ঘাড়ে চাপে, যা রাজস্ব ব্যবস্থাপনার জন্য একটি বড় অদৃশ্য ঝুঁকি।

রাষ্ট্রায়ত্ত এবং কিছু বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের নেয়া বিপুল ঋণ সময়মতো পরিশোধ না হওয়ায় ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণের হার বাড়ছে এবং তারল্য সংকট গভীর হচ্ছে। দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, স্বজনপ্রীতি এবং সুশাসনের অভাব রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস করেছে। বেসরকারি খাতের তুলনায় রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার সীমিত এবং শ্রমের উৎপাদনশীলতা অত্যন্ত কম। উৎপাদন ও পরিচালন ব্যয় তুলনামূলক বেশি হওয়ায় তারা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সুবিধা করতে পারে না। বিদ্যুৎ, জ্বালানি বা সারের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মূল্য অনেক সময় উৎপাদন খরচের চেয়ে কম নির্ধারণ করা হয়। রাজনৈতিক বা সামাজিক কারণে বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে মূল্য নির্ধারণ না করায় এ প্রতিষ্ঠানগুলো স্থায়ীভাবে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে। মেগা প্রজেক্টনির্ভর অর্থনৈতিক মডেলের কারণে বড় প্রকল্পগুলোর জন্য বৈদেশিক ঋণ নেয়া হয়েছে। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর বর্তমান যে চাপ এবং রফতানি আয় কমে যাওয়ার কারণে এ বৈদেশিক ঋণ ও তার সুদ পরিশোধের সক্ষমতাও মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

অর্থ বিভাগের তৈরি করা ২০২৬-২৭ থেকে ২০২৮-২৯ অর্থবছর পর্যন্ত মধ্যমেয়াদি সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি বিবৃতিতে দেশের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর আর্থিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানগুলোকে দেয়া সার্বভৌম ঋণ গ্যারান্টি থেকে উদ্ভূত সুনির্দিষ্ট আকস্মিক দায়, লোকসানি প্রতিষ্ঠানের সম্ভাব্য পুনর্ভরণ প্রয়োজনীয়তা থেকে উদ্ভূত পরোক্ষ দায় এবং সরকারি ইকুইটি বিনিয়োগ থেকে অপ্রাপ্ত মুনাফার বিষয়টি পর্যালোচনা করে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোর মুনাফা সক্ষমতা, তারল্য ও ঋণ পরিশোধের সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে সাতটি আর্থিক মাধ্যমে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ১ থেকে ৫ স্কোরের মানদণ্ডে ঝুঁকি পরিমাপ করা হয়েছে। এ ঝুঁকি মূল্যায়নের ক্ষেত্রে ১২২টি রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার আর্থিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫০টি প্রতিষ্ঠান মাঝারি ঝুঁকি, ৩০টি প্রতিষ্ঠান উচ্চ ঝুঁকি এবং ১৯টি প্রতিষ্ঠান অতি উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। সব মিলিয়ে এ ১২২টি প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার মোট দায়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৩৩ হাজার ২১৬ কোটি টাকা, যার ৬২ শতাংশই হচ্ছে উচ্চ থেকে অতি উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা ৪৯ প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার।

আজকের পত্রিকা

দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সড়ক-সেতুর টোল: ইটিসিতে কাজ করে না ৭০% গাড়ির ট্যাগ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, সড়ক-সেতুতে ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন (ইটিসি) পদ্ধতিতে টোল দিতে অপরিহার্য আরএফআইডি ট্যাগ ৭০ শতাংশ গাড়ির ক্ষেত্রেই কাজ করছে না বলে অভিযোগ উঠেছে। ইটিসি ব্যবস্থা চালু করা সংস্থাগুলো এ দাবি করেছে। তবে আরএফআইডি ট্যাগযুক্ত আধুনিক নম্বরপ্লেট প্রস্তুতকারী বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) দাবি করছে, বেশির ভাগ গাড়ির আরএফআইডি ট্যাগই সচল।

দ্রুত টোল পরিশোধের জন্য দেশের কিছু সড়ক ও বড় সেতুতে চালু হয়েছে ডিজিটাল টোল দেওয়ার পদ্ধতি ইটিসি। এ পদ্ধতিতে গাড়ির নম্বরপ্লেটে থাকা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি আইডেনটিফিকেশন (আরএফআইডি) ট্যাগের মাধ্যমে টোল পরিশোধ করা হয়। এ ট্যাগ ছাড়া ইটিসি ব্যবস্থা গাড়ির তথ্য ‘রিড করতে’ পারে না।

২০১২ সালে বিআরটিএ ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ সংযোজন কার্যক্রম শুরু করে। তারা গাড়ির মালিকদের কাছ থেকে কয়েক হাজার টাকা করে নিয়ে ডিজিটাল নম্বরপ্লেট ও আরএফআইডি ট্যাগ দিয়েছিল। তখন বলা হয়েছিল, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে যানবাহন ট্র্যাকিং করা যাবে। এতে করে চুরি হওয়া গাড়ির অবস্থান শনাক্ত এবং আধুনিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন সুবিধা পাওয়া যাবে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ থেকে সেভাবে প্রত্যাশিত সুবিধা পাওয়া যায়নি।

বিআরটিএ ২০১২ সাল থেকে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৫৪ লাখ ৪২ হাজার ১৬০ সেট আরএফআইডি ট্যাগযুক্ত রেট্রো-রিফ্লেক্টিভ নম্বরপ্লেট প্রস্তুত করেছে। এর মধ্যে ৪৮ লাখ ৯৫ হাজার ১২৫ সেট নম্বরপ্লেট মোটরযানে সংযোজন করা হয়েছে। তবে বর্তমানে ঠিক কতগুলো ট্যাগ সচল আর কতগুলো অকার্যকর, তার কোনো তথ্য নেই বিআরটিএর কাছে।

চালু গাড়ির ট্যাগ পরিস্থিতি

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ১৬ থেকে ২২ মে পর্যন্ত সাত দিনে সংস্থাটির ইটিসির আওতাধীন ১৫টি সেতু ও সড়কের টোল প্লাজা দিয়ে ৮ লাখ ৬১ হাজার ৪০২টি যানবাহন চলাচল করেছে। এর মধ্যে মাত্র ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫টি যানবাহনের আরএফআইডি ট্যাগ শনাক্ত করতে পেরেছে ইটিসি। অর্থাৎ শনাক্তকরণের হার মাত্র ২৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ। বাকি ৭১ দশমিক ১৩ শতাংশ যানবাহনের আরএফআইডি ট্যাগ শনাক্ত করা যায়নি।

সওজের প্রধান প্রকৌশলী সৈয়দ মঈনুল হাসান আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘আমাদের সিস্টেম অ্যানালিস্টের তথ্য অনুযায়ী, আরএফআইডি শনাক্তের হার বর্তমানে প্রায় ৩০ শতাংশ। এ ট্যাগ সঠিকভাবে রিড না হলে যানবাহন শনাক্ত করা যায় না। ফলে অনেক ক্ষেত্রে গাড়ি থামিয়ে ম্যানুয়ালভাবে (হাতে হাতে) টোল আদায় করতে হয়। এতে টোল প্লাজায় যানবাহনের অপেক্ষার সময় বেড়ে যায়।’

একই চিত্র দেখা যাচ্ছে সেতু বিভাগের আওতাধীন সেতুগুলোতেও। যমুনা সেতু সাইট অফিসের একজন কর্মকর্তা জানান, সেখানে অধিকাংশ যানবাহনের ট্যাগ অকার্যকর পাওয়া যায়। বিশেষ করে ট্রাকের ক্ষেত্রে এ সমস্যা বেশি। ওই কর্মকর্তার হিসাবে, যমুনা সেতু ব্যবহারকারী যানবাহনের মধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ ট্যাগই অকার্যকর।

তবে সেতু বিভাগের সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘ইটিসিতে আরএফআইডি ট্যাগের সমস্যার বিষয়টি আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে। যেসব যানবাহনের আরএফআইডি কার্যকর থাকে না, সেগুলোকে ম্যানুয়াল টোল পরিশোধ করতে হয়।’

দেশ রূপান্তর

‘তহবিলে ধস বেতনে উৎসব!’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় পতাকাবাহী সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস লিমিটেড বিভিন্ন সময় মুনাফা করার কথা বললেও তাদের বিপুল দেনার কথা উল্লেখ করে না। কার্যত লোকসানি এই প্রতিষ্ঠান ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ২ হাজার কোটি টাকার বেশি দেনা রেখে ৯৩৭ কোটি টাকার মুনাফা ঘোষণা করে। এদিকে আয় না বাড়লেও নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ গত মাসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করা হয় প্রায় ১৮৫ শতাংশ। এমনকি চেয়ারম্যান, প্রধান নির্বাহীসহ কয়েকজন বড় কর্তার বেতন কয়েকগুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে। এর ফলে বছরে ১০০ কোটি টাকা ব্যয় বাড়বে সংস্থাটির। অন্যদিকে অন্তর্বর্তী সরকার বিমানকে লাভজনক করতে না পারলেও প্রায় তিন হাজার ৬শ কোটি টাকার ফান্ড রেখে যায়। গত চার মাসে সেই ফান্ড ১২শ কোটিতে নেমেছে।

এদিকে বিএনপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর অনেকটা ‘ঢেলে সাজানো’ হয়েছে কর্তাদের চেয়ার। চুক্তি করা হয়েছে ১৪টি বোয়িং কেনার। নতুন নিয়োগ দেওয়া হয়েছে প্রধান নির্বাহী ও উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক। অ্যাভিয়েশন বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বিমান সংস্থার ক্যাশ রিজার্ভ বা ফান্ড দুই-তৃতীয়াংশ কমে যাওয়া আতঙ্কের লক্ষণ। আন্তর্জাতিক বেসামরিক বিমান চলাচল সংস্থা আইকাওর নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো সংকটে অন্তত ৬ মাসের পরিচালন ব্যয় ফান্ডে জমা থাকতে হয়। বর্তমান ফান্ডের যে অবস্থা তাতে বড় কোনো বৈশ্বিক সংকট এলে তা সামাল দেওয়া কঠিন হবে বিমানের।

দিন দিন কমছে ফান্ড: বিমান সূত্র জানায়, একটি বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মৌলিক সূত্র হলো আয়-ব্যয়ের ভারসাম্য রক্ষা করা এবং লোকসান কমানো, সেখানে বিমান হাঁটছে সম্পূর্ণ উল্টো পথে। একদিকে কমছে ফান্ডের পরিমাণ, অন্যদিকে অস্বাভাবিক হারে বাড়ছে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা। চার মাস আগে বিমানের নামে থাকা বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ৩৬শ কোটি টাকার মতো ফান্ড ছিল। বর্তমানে সেটি ১২শ কোটি টাকায় নেমেছে। নতুন সরকার যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১৪টি বোয়িং কেনার চুক্তি করে। চুক্তির সময় ৪শ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হয়েছে। পুরনো ট্যাক্সবাবদ খরচ হয়েছে প্রায় ৪শ কোটি টাকা। দাম বেড়ে যাওয়ায় চার মাসে ফুয়েলের জন্য খরচ হয়েছে ৩শ কোটি টাকার বেশি । বাকি অর্থ বেতনসহ আনুষঙ্গিক কাজে খরচ হয়’।

পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে বেতন বৃদ্ধি : নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার মধ্যেই হঠাৎ প্রায় সাড়ে তিন হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর বেতন-ভাতা প্রায় ১৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করেছে বিমানের পরিচালনা পর্ষদ। পাশাপাশি খাদ্য ভর্তুকি দ্বিগুণ করাসহ অস্থায়ী কর্মীদের দৈনিক মজুরিও বাড়ানো হয়। তা ছাড়া পে-স্কেল সুবিধা যুক্ত হওয়ার কথাও রয়েছে। গত ২০ মে বলাকার বোর্ডরুমে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ২ জুন বিমান পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ হোসেন স্বাক্ষরিত একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়। সভায় ককপিট ক্রু ব্যতীত বিমান, বাংলাদেশ ফ্লাইট ক্যাটারিং সেন্টার (বিএফসিসি) ও বিমান পোলট্রি কমপ্লেক্সের (বিপিসি) কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাতা পুনর্র্নির্ধারণের অনুমোদন দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ প্রতিদিন

দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রধান শিরোনাম ‘যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও মানুষের জন্য কাজ করব’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে অস্থিতিশীলতা ও অশান্তি তৈরি করতে বিরোধী দল প্রস্তাবিত বাজেটের বিরোধিতা করছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘বিরোধী দলের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্য দেশের মানুষের পাশে দাঁড়ানো নয়; তাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশকে অস্থিতিশীল ও অশান্তি তৈরির মাধ্যমে মানুষকে বিভ্রান্ত করা।’ তিনি বলেন, ‘যতক্ষণ প্রাণ থাকবে দেশ ও দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাব।’ গতকাল রাতে চকরিয়া উপজেলা ও পৌর বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চকরিয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি এনামুল হকের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এমপি ও অ্যাডভোকেট শামীম আরা স্বপ্না এমপি। এর আগে সকালে কক্সবাজার সদর উপজেলার পিএমখালীর পাতলী খাল আনুষ্ঠানিক পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের মালিক কোনো রাজনৈতিক দল নয়, কোনো পরিবার নয়; দেশের মালিক হচ্ছে ২০ কোটি মানুষ।’

তারেক রহমান বলেন, ‘এ দেশই আমাদের প্রথম ও শেষ ঠিকানা। দেশকে যদি আমরা গড়তে না পারি তাহলে আমাদের সন্তানরা দুঃখকষ্টে থাকবে। কেউ কি চায় নিজের সন্তান কষ্টে থাকুক? কেউ আমরা চাই না। সেজন্যই আমরা একটি কথাই বলি-করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।’ তিনি আরও বলেন, ‘দেশের ৭০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ গ্রামে বাস করে। তাদের স্বাবলম্বী করতে মায়েদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড তুলে দেওয়া হবে।’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এবার বাজেটের পরে এখন পর্যন্ত কোনো জিনিসের দাম বৃদ্ধি পায়নি। কারণ চাল, ডাল, তেল, নুন সব নিত্যপণ্যের ওপর যে ট্যাক্স ছিল, প্রস্তাবিত বাজেটে এমন ৬০টি পণ্যের ওপর থেকে ট্যাক্স তুলে নেওয়া হয়েছে; যাতে নিত্যপণ্যের দাম না বাড়ে। এর উদ্দেশ্য-লক্ষ্য একটাই-দেশের মানুষ যাতে ভালো থাকতে পারেন।’ তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল বলছে এ বাজেট তারা মানে না। আপনাদের কাছে আমি প্রশ্ন রেখে যেতে চাই-যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। যে বাজেটে মদের দাম বাড়ানো হয়, যে বাজেটে সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দলের পছন্দ নয়। তাহলে এবার বিরোধী দলের উদ্দেশ্য কী, নিশ্চয়ই আপনারা বুঝতে পেরেছেন।’ বাজেটে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের ওপর গুরুত্বারোপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কৃষির সঙ্গে সঙ্গে আমাদের শিল্পবাণিজ্য গড়ে তুলতে হবে। শিল্পবাণিজ্য গড়ে উঠলে আমাদের সন্তানদের সেখানে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে, তারা চাকরিবাকরি, ব্যবসাবাণিজ্য করতে পারবে।’ তারেক রহমান বলেন, ‘দেশে উৎপাদিত হয় এমন পণ্য বিদেশ থেকে আমদানি করা হলে তার ওপর আমরা ট্যাক্স বাড়িয়েছি। যাতে দেশে যে পণ্যটি উৎপাদিত হচ্ছে, সেই শিল্পকারখানাটি সহায়তা পায়। তার ব্যবস্থা আমরা এ বাজেটের মধ্যে রেখেছি। এটিও বিরোধী দলের পছন্দ নয়!’

লবণ চাষিদের কষ্ট লাঘব করা হবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তাঁরা যাতে উৎপাদিত পণ্যের সঠিক মূল্য পান সেজন্য শিগগিরই দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হবে।’ এর আগে আগে প্রধানমন্ত্রী কোদাল দিয়ে মাটি কেটে পাতালী খাল পুনঃখনন কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। পরে খালের পারে একটি চারা রোপণ করেন। বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিএনপির রাজনীতি হচ্ছে মানুষের উন্নয়নের জন্য। এরই ধারাবাহিকতায় সারা দেশে প্রতিটি উপজেলায় ১০ হাজার করে কৃষি কার্ড দেওয়া হবে। কারণ সাধারণ মানুষ স্বাবলম্বী না হলে কোনো দিন উন্নয়নশীল দেশ হবে না। ইতোমধ্যে বর্তমান সরকার কৃষি কার্ড ও ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া শুরু করেছে।’


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন