মরক্কোর সঙ্গে ড্র দিয়েই হেক্সা মিশন শুরু ব্রাজিলের

মরক্কোর সঙ্গে ড্র দিয়েই হেক্সা মিশন শুরু ব্রাজিলের

ফন্ট সাইজ:

প্রথমার্ধেই গোল খেয়ে বসা আর মরক্কোর কাউন্টার অ্যাটাকের গতি—সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতেই চরম হোঁচট খেতে খেতে বাঁচলো ব্রাজিল। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে 'সি' গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে ১-১ সমতায় মরক্কোর সঙ্গে পয়েন্ট ভাগাভাগি করে মাঠ ছেড়েছে সেলেসাওরা।

পূর্ণ ৩ পয়েন্ট না পেলেও, এই ড্রয়ের ফলে বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে গত ৯২ বছর ধরে অপরাজিত থাকার ঐতিহাসিক রেকর্ডটি ধরে রাখলো পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের শুরু থেকেই বল পজিশন নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করে ব্রাজিল। তবে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ প্রথমার্ধে অনেকটাই নিজেদের করে নেয় মরক্কো। দুর্দান্ত এক আক্রমণে গোল করে তারা ব্রাজিলকে স্তব্ধ করে দেয়।

তবে ১-০ গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ব্রাজিলের হাল ধরেন রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তার এক জাদুকরি ফিনিশিংয়ে প্রথমার্ধেই ম্যাচে ১-১ সমতায় ফেরে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়াতে কৌশল বদলান ব্রাজিল কোচ আনচেলোত্তি। তিনি অভিজ্ঞ ক্যাসেমিরো এবং রজার ইবানেজকে তুলে মাঠে নামান ফ্যাবিনহো ও দানিলোকে। বিরতির পর ব্রাজিল প্রায় ৫৬ শতাংশ বল পজিশন ধরে রেখে মরক্কোকে চেপে ধরে। তবে রাফিনহা দ্বিতীয়ার্ধে দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া করেন। একবার ভিনিসিয়ুসের চমৎকার কাটব্যাক থেকে ফাঁকায় বল পেয়েও তিনি সরাসরি মারেন মরক্কো কিপার ইয়াসিন বুনুর গায়ে। ৮৪তম মিনিটে মরক্কোর ডিফেন্সের মারাত্মক ভুলে বল কেড়ে নেন রাফিনহা, তবে সেবারও তার শট রুখে দেন বুনু।

ম্যাচের শেষ ১০ মিনিটে দুই দলই জয়সূচক গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। যোগ করা ১০ মিনিটের ইনজুরি সময়ে রোমাঞ্চ ছড়ায় চরম তুঙ্গে। শেষ মুহূর্তে মরক্কোর নিল এল আইনাউই বক্সের বাইরে থেকে বুলেট গতির শট নেন। তবে সেটি দুর্দান্ত ডাইভে নসাৎ করেন ব্রাজিলিয়ান কিপার অ্যালিসন। শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ১-১ সমতায় শেষ হয় মাঠের লড়াই।

১০ নম্বর জার্সি ছাড়া ব্রাজিলের নতুন যুগের শুরুটা জয় দিয়ে না হলেও, মেটলাইফ স্টেডিয়ামে উপস্থিত হাজারো সমর্থক এক চরম উত্তেজনাপূর্ণ ফুটবলের সাক্ষী হয়েই মাঠ ছেড়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন