জামায়াতের আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৫১ শতাংশ মানুষের ভোটে সরকার গঠনের বৈধতা দাবি করা হলে ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায়ও মানতে হবে। জনগণের রায় অস্বীকার করে কোনো সরকার জনগণের সরকার হতে পারে না। গণভোটে দেওয়া ৭০ শতাংশ মানুষের রায় অগ্রাহ্য করা হলে জনগণ চুপ করে বসে থাকবে না।
শনিবার বিকালে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ লাঘব এবং পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার দাবিতে ১১ দলীয় ঐক্যজোট আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে ১১ দলীয় জোটের বিপুলসংখ্যক মানুষ অংশগ্রহণ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাজেটের সমালোচনা করা বিরোধী দলের দায়িত্ব এবং এটি গণতন্ত্রের সৌন্দর্য। জনগণ তখনই সরকারের প্রশংসা করবে, যখন তারা দেখবে সরকার জনআকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্তরিক। কিন্তু জনগণ যখন দেখবে তাদের দেয়া গণরায় অগ্রাহ্য করা হচ্ছে, তখন তারা নিশ্চুপ থাকবে না।
তিনি বলেন, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কথা বললেই যদি কারও মন খারাপ হয়, তাহলে আমাদের কিছু করার নেই। নির্বাচিত সরকার থাকার পরও দেশে কোথাও চাঁদাবাজি বন্ধ হয়নি। সরকারকে এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। সীমান্ত পরিস্থিতির প্রসঙ্গ তুলে তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে এ বিষয়ে আলোচনার জন্য দেয়া নোটিশ নিয়ে টালবাহানা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা চাই জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে আলোচনা হোক। কিন্তু যদি সেই সুযোগ না দেওয়া হয়, তাহলে জনগণই সীমান্ত রক্ষায় এগিয়ে আসবে।
তিনি আরও বলেন, হুমকি, মামলা, জেল কিংবা ফাঁসির ভয় দেখিয়ে আগামী দিনের আন্দোলন দমন করা যাবে না। দেশের স্বার্থে প্রয়োজনে জীবন দিতেও তারা প্রস্তুত। সমাবেশে এলডিপি’র চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীরবিক্রম বলেন, প্রধানমন্ত্রীকে ঘিরে থাকা লোকজন সম্পর্কে আগে সচেতন হতে হবে। ‘আগে ঘর সামলান, তারপর বাইরের কথা ভাবুন’ বলেন- তিনি।
কর্নেল অলি অভিযোগ করেন, দেশের ভেতরেই এমন কিছু শক্তি রয়েছে যারা দেশের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করছে। তাদের চিহ্নিত করতে হবে। তিনি বলেন, প্রয়োজন হলে ডা. শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে সরকারবিরোধী আন্দোলনও চট্টগ্রাম থেকেই শুরু হবে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারছে না। নারীরা নিরাপদ নয়, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও নিরাপদ নয়। সরকার ‘জি হুজুর’ সংস্কৃতিতে চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সমাবেশে এনসিপি’র আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় হুইপ নাহিদ ইসলাম নতুন বাজেটের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, আমরা চেয়েছিলাম বাজেটের প্রশংসা করতে। কিন্তু দুর্নীতি ও লুটপাটের পথ বন্ধ না করে জনগণের ওপর নতুন বোঝা চাপানো হয়েছে।
তিনি বলেন, বাজেটে জনগণের উন্নয়নের জন্য কতটুকু বরাদ্দ রাখা হয়েছে, তার স্পষ্ট ধারণা নেই। বরং দলীয় ব্যয়ের সুযোগ সৃষ্টি করা হয়েছে। এমন বাজেট বাস্তবায়নে সরকারকে দেশি-বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করতে হবে। বিদ্যুৎ খাতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিদ্যুতের দাম নজিরবিহীনভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। অথচ গ্রামাঞ্চলে এখনো বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়নি।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দেশের পরিবর্তন চাইলে গণভোটের গণরায় অনুযায়ী সরকার গঠন এবং পুলিশসহ রাষ্ট্রীয় কাঠামোর সংস্কার জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, চট্টগ্রামে জাতীয় দলের এক ক্রিকেটারকে মারধরের ঘটনায়ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড চলতে থাকলে প্রকৃত বন্ধুত্ব সম্ভব নয়। সরকারকে এমপি-মন্ত্রীসহ সব পর্যায়ে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে হবে। জামায়াতে ইসলামীর চট্টগ্রাম মহানগরীর সেক্রেটারি অধ্যক্ষ নুরুল আমিনের সঞ্চালনায় সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ শাহজাহান। এতে অন্যদের মধ্যে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক, এনসিপি’র সভাপতি নাহিদ ইসলাম এমপি, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জামায়াতের নায়েবে আমীর মাওলানা শামসুল ইসলাম, জাগপার মুখপাত্র রাশেদ প্রধান, বিডিপি’র চেয়ারম্যান আনোয়ারুল আলম চান, এবি পার্টির সেক্রেটারি ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মুসা বিন ইজহার, শাহজাহান চৌধুরী এমপি, মাওলানা জহিরুল ইসলাম ও মহানগর জামায়াতের আমীর নজরুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন।
