বয়স কেবলই একটি সংখ্যা—বাক্যটি পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ক্ষেত্রে যেন চিরন্তন সত্য। ৪১ বছর বয়সে এসে নিজের রেকর্ডছোঁয়া ষষ্ঠ বিশ্বকাপ মিশন শুরু করতে যাচ্ছেন সিআরসেভেন। যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে সেই অধরা বিশ্বকাপ শিরোপার মিশন শুরু করবে পর্তুগাল। তার আগে দেশবাসী ও বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা লাখো ভক্তের উদ্দেশ্যে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন এই আল-নাসর ফরোয়ার্ড।
বিশ্বকাপ ক্যাম্প ফ্লোরিডার পাম বিচ গার্ডেন্সের উদ্দেশ্যে উড়াল দেয়ার আগে আগে নিজের এক্স হ্যান্ডেলে রোনালদো লেখেন, ‘আমরা কোটি কোটি পর্তুগিজ মানুষের শক্তিকে সঙ্গী করে যাত্রা শুরু করছি। আমাদের পাশে থাকার জন্য আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগ প্রকাশ করলেও, গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বেশ পরিপক্ব ও বাস্তবসম্মত সুর শোনা গেছে পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী এই মহাতারকার কণ্ঠে। টুর্নামেন্টের চাপ সামলাতে এবার শুরু থেকেই সতর্ক তিনি। রোনালদো বলেন, ‘শুরুটা ভালো করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ও দ্বিতীয় ম্যাচে ভালো খেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়াই আমাদের প্রথম লক্ষ্য। এরপর আমরা ম্যাচ ধরে এগোবো। তবে শুরুতেই সব জিতে নেয়ার আকাশচুম্বী প্রত্যাশা নিয়ে নামা ঠিক হবে না। আমাদের ধাপে ধাপে এগোতে হবে।’
পর্তুগালের এবারের দলটিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা প্রজন্ম আখ্যা দিয়ে রোনালদো আরও বলেন বলেন, ‘এটি অত্যন্ত প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের একটি প্রজন্ম, যারা পর্তুগালের মানুষকে আনন্দ দেবে। তবে জয় বা পরাজয় অনেক কিছুর ওপর নির্ভর করে।’ টুর্নামেন্টের শেষের দিকের কঠিন সময় নিয়ে রিয়াল মাদ্রিদের কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড বলেন, ‘যখন লড়াই আরও তীব্র হবে এবং মানসিক ও শারীরিক ক্লান্তি ভর করবে, ঠিক তখনই বোঝা যাবে আসল চ্যাম্পিয়ন কারা।’
পর্তুগালের ফুটবল ইতিহাসে ১৯৬৬ সালের পর আর সেমিফাইনালে ওঠা হয়নি। নিজের ষষ্ঠ ও সম্ভবত ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপে এসে সেই খরা কাটাতে চান রোনালদো। ১৭ই জুন হিউস্টনে ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে পর্তুগালের ‘কে’ গ্রুপের অভিযান। এরপর ২৩শে জুন উজবেকিস্তান এবং ২৭শে জুন কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে রবার্তো মার্টিনেজের শিষ্যরা। লিওনেল মেসির সঙ্গে যৌথভাবে সর্বোচ্চ ছয়টি বিশ্বকাপ খেলার অনন্য রেকর্ডের সামনে দাঁড়িয়ে রোনালদো এখন বুঁদ কেবলই সোনালী ট্রফির স্বপ্নে।
