‘যৌনসেবা কেনা কোনো খেলা নয়’

বিলবোর্ড প্রচারণা

‘যৌনসেবা কেনা কোনো খেলা নয়’

ফন্ট সাইজ:

ফিফা বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন আয়োজক অঙ্গরাজ্যে যৌনবাণিজ্য এবং মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে জনসচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে মানবাধিকারভিত্তিক সংগঠন রাইটস৪গার্লস। সংগঠনটি ‘সেক্স বাইয়িং ইজ নট এ গেম’ বা যৌনসেবা কেনা কোনো খেলা নয় শিরোনামে একটি বিলবোর্ড প্রচারণা করেছে। এর লক্ষ্য হলো বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে অবৈধ যৌনবাণিজ্যের সম্ভাব্য বিস্তার এবং এর শিকার হওয়া মানুষদের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করা। এ খবর দিয়েছে নিউজার্সির অনলাইন এনজেবিআইএ। নিউ জার্সি টার্নপাইকের বিভিন্ন স্থানে স্থাপিত বিলবোর্ডগুলোতে ফুটবল সংশ্লিষ্ট ভাষা ব্যবহার করে সতর্কবার্তা দেয়া হয়েছে। যেমন- ‘যৌনসেবা কিনছেন? তাহলে সরাসরি লাল কার্ড পাবেন। যৌনসেবা কেনার পরিণতি হবে শাস্তি।’

এই বিলবোর্ডগুলো বিশেষ করে সেই দর্শকদের নজরে আনার চেষ্টা করছে, যারা ফিলাডেলফিয়া এবং ইস্ট রাদারফোর্ডে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখতে যাবেন। এছাড়া নিউ জার্সির বাইরে আরও চারটি আয়োজক শহরেও একই ধরনের প্রচারণা চালানো হচ্ছে। সেগুলো হলো- আটলান্টা, ডালাস,
কানসাস সিটি ও বোস্টন। রাইটস৪গার্লসের মতে, বিশ্বকাপের মতো আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আসর একদিকে যেমন উৎসবমুখর পরিবেশ, পর্যটন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বাড়ায়, অন্যদিকে কিছু অসাধু চক্রের জন্যও সুযোগ তৈরি করে। সংগঠনটির ভাষ্যমতে, বড় আয়োজনের সময় হোটেল বুকিং বেড়ে যায়, স্বল্পমেয়াদি ভাড়া দেয়া বাসস্থানের চাহিদা বাড়ে, বিভিন্ন পার্টি ও সামাজিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, রাইড-শেয়ার সেবার ব্যবহার বৃদ্ধি পায় এবং বিপুলসংখ্যক দেশি-বিদেশি পর্যটক শহরে আসেন।

এসব পরিস্থিতি মানবপাচারকারী ও অবৈধ যৌনবাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কার্যক্রম সহজ করে দিতে পারে বলে তারা মনে করে। রাইটস৪গার্লসের নির্বাহী পরিচালক ইয়াসমিন ভাফা বলেন, ফিফা বিশ্বকাপের মতো বড় অনুষ্ঠান শহরে আনন্দ ও বিনোদন নিয়ে আসে। কিন্তু একই সঙ্গে এমন বহু মানুষও আসে যারা প্রান্তিক অবস্থায় থাকা নারী ও কিশোরীদের যৌন শোষণের উদ্দেশ্যে খোঁজ করে। তিনি আরও বলেন, এটি সারা বছরই উদ্বেগের বিষয়। তবে বিশ্বকাপ, সুপার বোল কিংবা অল-স্টার গেমসের মতো বড় আয়োজনের সময় এ ধরনের ঘটনা আরও ঘনীভূত আকারে ঘটতে পারে। ভাফার মতে, সব উৎসব আর উদ্যাপনের আড়ালেও মানবপাচার ও শোষণের এক অন্ধকার দিক থাকতে পারে। এ বিষয়টি মানুষের উপলব্ধি করা জরুরি।

বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসরকে ঘিরে মানবপাচারের ঝুঁকি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক রয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো প্রায়ই সতর্ক করে বলে যে, বিপুল পর্যটক সমাগম শোষণমূলক কর্মকাণ্ডের সুযোগ বাড়াতে পারে। অন্যদিকে, কিছু গবেষক মনে করেন যে বড় ক্রীড়া আসর এবং মানবপাচারের মধ্যে সরাসরি সম্পর্কের প্রমাণ সবসময় সুস্পষ্ট নয় এবং বিষয়টি নিয়ে আরও তথ্যভিত্তিক গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। তবে রাইটস৪গার্লসের এই প্রচারণার মূল উদ্দেশ্য হলো বিশ্বকাপের আনন্দ উদ্যাপনের পাশাপাশি সম্ভাব্য শোষণ ও মানবপাচারের ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং ভুক্তভোগীদের সুরক্ষার বিষয়টি সামনে আনা। বিশ্বকাপ যেমন বিশ্বজুড়ে মানুষকে একত্র করে, তেমনি আয়োজকদের মতে, মানবিক মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সেই উদযাপনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হওয়া উচিত।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন