বিশ্বমঞ্চে পচেত্তিনোর ‘আমেরিকান বিউটি’

বিশ্বমঞ্চে পচেত্তিনোর ‘আমেরিকান বিউটি’

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন মুল্লুকে তিন দশকের বেশি সময় পর ফিরলো ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনা। ১৯৯৪ সালের পর ফেরা সেই উন্মাদনাকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিলেন দেশটির ফুটবলাররা। লস অ্যাঞ্জেলেসের সোফাই স্টেডিয়ামের ৭০ হাজারেরও বেশি দর্শককে সাক্ষী রেখে শুভসূচনা করলো যুক্তরাষ্ট্র। এবারের বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত ফুটবল উপহার দিয়ে আজ প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলে হারালো মরিসিও পচেত্তিনোর শিষ্যরা। ম্যাচে যুক্তরাষ্ট্রের জয়ের দুই প্রধান রূপকার ছিলেন ফোলারিন বালোগান ও অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। জোড়া গোল করে যেখানে বালোগান নাম লিখিয়েছেন ৯৬ বছরের পুরোনো ইতিহাসে, সেখানে অ্যাসিস্টের নতুন এক কীর্তিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনাল্দোকে টপকে গেছেন পুলিসিক।

ম্যাচ শুরুর বাঁশি বাজার পর থেকেই পুরোপুরি আক্রমণাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে যুক্তরাষ্ট্র। পুলিসিক ও বালোগান গতি আর নিখুঁত পাসিংয়ের পসরা সাজিয়ে প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগকে কোণঠাসা করে ফেলেন। এই আগ্রাসী ফুটবল প্রতিপক্ষকে চাপের মুখে ফেলে দেয়। যার ফল আসে ম্যাচের সপ্তম মিনিটে। পুলিসিকের আক্রমণ সামলাতে গিয়ে নিজেদের জালে বল জড়িয়ে দেন প্যারাগুয়ের ডিফেন্ডার ড্যামিয়ান বোবাদিলা। আত্মঘাতী গোলে ১-০ তে এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা। লিড নেয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ যেন আরো ধারালো হয়ে ওঠে। ৩১ মিনিটে আসে ঐতিহাসিক মুহূর্ত। অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের বাড়ানো বল থেকে বক্সের ভেতর চমৎকার ওয়ান-টাচ ফিনিশিংয়ে গোল করেন ফোলারিন বালোগান। বিশ্বমঞ্চে ক্যাপ্টেন আমেরিকার এটি তৃতীয় অ্যাসিস্ট। এর মাধ্যমে তিনি পর্তুগিজ মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর ২ অ্যাসিস্টের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে যান পুলিসিক। ২০১৮ রাশিয়া বিশ্বকাপের পর লিওনেল মেসি ও হ্যারি কেইনের সমান সর্বোচ্চ ৩ অ্যাসিস্ট এখন মার্কিন অধিনায়কের ঝুলিতে। পুলিসিক রেকর্ডের খাতায় নাম লেখানোর দিনে বাদ যাননি বালোগান। তিনিও ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান।


প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে মালিক টিলম্যানের এক দুর্দান্ত থ্রু বল ধরে নিজের গতি কাজে লাগিয়ে প্যারাগুয়ের জাল আবার কাঁপান বালোগান। প্রথমার্ধেই ৩-০ তে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে ১৯৩০ সালের পর প্রথম কোনো আমেরিকান ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে জোড়া গোল করার ৯৬ বছরের পুরোনো রেকর্ড স্পর্শ করেন ২৫ বছর বয়সী এই স্ট্রাইকার।

বিরতির পর অবশ্য মার্কিন শিবিরে কিছুটা চিন্তার ভাঁজ পড়ে। বাঁ পায়ের পেশিতে চোট পাওয়ায় সতর্কতা হিসেবে অধিনায়ক পুলিসিককে মাঠ থেকে তুলে নেন কোচ পচেত্তিনো। অবশ্য ম্যাচ শেষে পুলিসিক নিজেই সমর্থকদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমি ঠিক আছি, গুরুতর কিছু হয়নি।’ অধিনায়ক মাঠ ছাড়ার পর দ্বিতীয় হাফে কিছুটা লড়াইয়ে ফেরার চেষ্টা করে প্যারাগুয়ে। ম্যাচের ৭৩ মিনিটে এক পরিকল্পিত আক্রমণ থেকে প্যারাগুয়ের হয়ে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করেন মরিসিয়ো। তবে পুরো ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখা আমেরিকার জয়ে তা কোনো বাধা হতে পারেনি। ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে, ইনজুরি টাইমে গ্যালারিকে আরও একবার উল্লাসে ভাসান জিও রেইনা। ডি-বক্সের ভেতর থেকে পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে এক চোখধাঁধানো বাঁকানো শটে গোল করেন এই মিডফিল্ডার। আর তাতেই ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম এক ম্যাচে চার গোল করার কীর্তি গড়লো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।