সকাল ৯টা ৫ মিনিট
রেইনার জাদুকরী গোল
রেফারির শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায় সবাই। ঠিক তখনই গ্যালারিতে উপস্থিত দর্শকদের চোখ ধাঁধিয়ে দিলেন জিও রেইনা। তাঁর এক অবিশ্বাস্য জাদুকরী গোলে প্যারাগুয়েকে ৪-১ ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়ে আসরে শুভসূচনা করল স্বাগতিক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। খেলার একদম শেষ মুহূর্তে ডান প্রান্ত থেকে ডি-বক্সের ঠিক ভেতর বল পান রেইনা। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়েই পায়ের বাইরের অংশ (আউটসাইড অব দ্য বুট) দিয়ে এক চোখধাঁধানো কোণাকুণি শট নেন এই মার্কিন মিডফিল্ডার। হাওয়ায় দারুণভাবে বাঁক খেয়ে বল জড়ায় প্যারাগুয়ের জালে। গোলরক্ষকের তাকিয়ে দেখা ছাড়া আর কিছুই করার ছিল না। রেইনার এই দর্শনীয় গোলের পরপরই রেফারি ম্যাচ শেষের বাঁশি বাজান। আর তাতেই প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ৪-১ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে পূর্ণ ৩ পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে জেসি মার্শের উত্তরসূরিরা।
সকাল ৮টা ৩৭ মিনিট
প্যারাগুয়ের দুর্দান্ত প্রত্যাবর্তন, ব্যবধান কমালেন মরিসিও
একেবারে হুট করেই যেন ম্যাচে প্রাণ ফিরে পেল প্যারাগুয়ে! রূপকথার মতোই খেই হারিয়ে ফেলা ম্যাচটিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াল লাতিন আমেরিকার দলটি। একদম সাধারণ, ‘রুট-ওয়ান’ (সরাসরি লম্বা পাস) কৌশলে গোলটি আদায় করে নেয় তারা। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের নেয়া এক লম্বা শট মার্কিন ডিফেন্ডাররা প্রথম দফায় ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন। সেই সুযোগে বল পেয়ে যান মিগুয়েল আলমিরন। তিনি আলতো ছোঁয়ায় বল বাড়িয়ে দেন হুলিও এনসিসোর দিকে। মার্কিন ডিফেন্সের ফাঁক গলে এনসিসো থ্রু পাস দেন বক্সে থাকা বদলি খেলোয়াড় মরিসিওকে। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের নিখুঁত শটে দূরের পোস্ট দিয়ে জাল কাঁপাতে ভুল করেননি এই প্যারাগুয়েন ফরোয়ার্ড। এই চটজলদি গোলে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করলো প্যারাগুয়ে।
সকাল ৭টা ৫১ মিনিট
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে বালোগুনের জোড়া গোল
ম্যাচ রেফারির প্রথমার্ধের শেষ বাঁশি বাজার ঠিক আগমুহূর্তে প্যারাগুয়ের কফিনে আরও একটি পেরেক ঠুকলেন ফোলারিন বালোগুন। সেই সঙ্গে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলের দেখা পেলেন এই মার্কিন ফরোয়ার্ড। বক্সের ঠিক বাইরে থেকে সতীর্থের পা থেকে একটি চমৎকার পাস পান বালোগুন। বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ক্ষিপ্র গতিতে বাঁ দিকে চমৎকার এক ড্রিবলিংয়ে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারকে বোকা বানান। এরপর ডান পায়ের দুর্দান্ত এক কোণাকুণি শটে বল পাঠিয়ে দেন পোস্টের ওপরের বাঁ কোণ দিয়ে। প্যারাগুয়ের গোলরক্ষকের পুরো ডাইভ দিলেও বলের নাগাল পাননি। বালোগুনের এই চোখধাঁধানো গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে গেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
সকাল ৭টা ৩২ মিনিট
ব্যবধানে দ্বিগুণ করল যুক্তরাষ্ট্র, এবার আর ভুল করেননি বালোগুন
আগের গোলটি অফসাইডের খাঁড়ায় বাতিল হলেও এবার আর কোনো ভুল হয়নি। ঠিক দুই মিনিট পরেই জালের ঠিকানা খুঁজে নিলেন ফোলারিন বালোগুন। ম্যাচের ৩২ মিনিটে তাঁর দুর্দান্ত এই গোলে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। আক্রমণের শুরুটা করেছিলেন ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে একদম বাই-লাইন পর্যন্ত বল নিয়ে যান তিনি। সেখান থেকে নিখুঁত এক কাট-ব্যাকে বল বাড়িয়ে দেন বক্সে থাকা বালোগুনের দিকে। চলন্ত বলে বালোগুনের জোরালো শট প্যারাগুয়ের জাল কাঁপিয়ে দেয়। ডিফেন্ডারদের অসতর্কতার সুযোগ নিয়ে অত্যন্ত সহজেই গোলটি আদায় করে নেয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।
সকাল ৭টা ৩১ মিনিট
বাতিল হলো যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় গোল
যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবধান দ্বিগুণ করার স্বস্তি রূপ নিল হতাশায়! প্যারাগুয়ের জালে বল জড়িয়ে উল্লাসে মেতে উঠেছিল স্বাগতিকরা। ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিকের দুর্দান্ত এক পাস থেকে বক্সের মাঝখানে বল পান ফোলারিন বালোগুন। ঠাণ্ডা মাথায় গোলরক্ষককে পরাস্ত করে বল জালে জড়াতে কোনো ভুল করেননি এই মার্কিন ফরোয়ার্ড। তবে স্বাগতিকদের সেই উদযাপনে জল ঢেলে দেন সহকারী রেফারি। আক্রমণের শুরুতেই বেশ পরিষ্কার একটি অফসাইড থাকায় রেফারি গোলটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেন। ফলে স্কোরলাইন এখনো যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ১-০।
সকাল ৭টা ১৩ মিনিট
প্যারাগুয়ের জুয়ান ক্যাসেরেস হলুদ কার্ড দেখলেন
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একের পর এক আক্রমণ সামলাতে গিয়ে ডিফেন্স লাইনে হিমশিম খাচ্ছে প্যারাগুয়ে। আক্রমণভাগের ধার কমাতে গিয়ে একের পর এক ফাউল করে বসছে তারা। এর মধ্যেই মার্কিন খেলোয়াড়কে বিপজ্জনকভাবে বাধা দেওয়ায় জুয়ান ক্যাসেরেসকে হলুদ কার্ড দেখিয়ে সতর্ক করেছেন রেফারি। বিপরীতে, প্যারাগুয়ের রক্ষণভাগের দুর্বলতার ফায়দা তুলে প্রতিনিয়ত তাদের ডিফেন্স পরীক্ষা করে যাচ্ছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র।
সকাল ৭টা ১১ মিনিট
সপ্তম মিনিটে আত্মঘাতী গোলে পিছিয়ে প্যারাগুয়ে
ম্যাচের শুরুতেই লিড নিল যুক্তরাষ্ট্র। স্বাগতিকদের দুর্দান্ত এক আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে ম্যাচের ৭ মিনিটে নিজেদের জালেই বল জড়ান প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার দেমিয়েন বোবাদিলা।
সকাল ৭টা ৪ মিনিট
পেরি’র পারফরম্যান্স শেষ, মাঠের মাঝে অফিশিয়াল বল
জনপ্রিয় পপ তারকা পেরি’র জমকালো পারফরম্যান্সের পরপরই মাঠের ঠিক মাঝখানে এনে রাখা হলো বিশ্বকাপের অফিশিয়াল ম্যাচ বল। একই সাথে উন্মোচন করা হয়েছে দুই দেশের জাতীয় পতাকা। যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ের মধ্যকার হাইভোল্টেজ ম্যাচটি শুরু হতে এখন আর মাত্র কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষা।
সকাল ৭টা
তারকাদের মেলাতেও জমলো না যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
বিশ্বকাপের মঞ্চ, অথচ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সেই চিরচেনা জৌলুস যেন কিছুটা নিখোঁজ! বিশ্বমঞ্চের জমকালো উদ্বোধনের চেয়ে পরিবেশটা রূপ নিয়েছিল সাধারণ এক ম্যাচ-পূর্ব আবহেই। যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে খুব একটা জমেনি বললেই চলে। গ্যালারিতে উত্তেজনার পারদ যতটা উঁচুতে থাকার কথা ছিল, তার ঘাটতি ছিল স্পষ্ট।
তবে মাঠের পারফরম্যান্স বা উদ্বোধনী অনুষ্ঠান জমকালো না হলেও, গ্যালারির গ্ল্যামারে কোনো কমতি ছিল না। ঘরের দলের খেলা দেখতে গ্যালারিতে হাজির হয়েছিলেন বিশ্বখ্যাত সব তারকাদের মেলা। মার্কিন মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ও সফল ব্যবসায়ী প্যারিস হিলটন, জনপ্রিয় কলম্বীয়া-আমেরিকান অভিনেত্রী সোফিয়া ভারগারা এবং হলিউডের জনপ্রিয় অভিনেতা ও কৌতুকাভিনেতা ওয়েন উইলসনকে দেখা গেছে গ্যালারি আলো করে বসে থাকতে। তারকাদের এই সরব উপস্থিতি কিছুটা হলেও মাঠের নিরুত্তাপ আবহকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে।
