রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ

রাজধানীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘কাইল্যা পলাশ’ গুলিবিদ্ধ

ফন্ট সাইজ:

রাজধানীর রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ইয়াসিন খান পলাশ ওরফে ‘কাইল্যা পলাশ’কে গুলি করেছে দুর্বৃত্তরা। শুক্রবার জুমার নামাজের পর দুপুর ১টা ৪৬ মিনিটের দিকে রামপুরা টিভি সেন্টার এলাকার রয়েল ডেইরি ফার্মের সামনে এই ঘটনা ঘটে। রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। গুলিবিদ্ধ পলাশ পশ্চিম রামপুরা ডিআইটি রোডের মো. ইউনুস খানের ছেলে।

গুলিবিদ্ধ পলাশের ভাই আলামিন বলেন, আমার ভাই নিজের ব্যবসা পরিচালনা করতেন। শুক্রবার দুপুরে তার বাসায় মিলাদের আয়োজন ছিল। তবে জুমার নামাজ পড়তে পলাশ পাশের একটি মসজিদে যান। নামাজ শেষে বাসায় ফেরার উদ্দেশ্যে তিনি রামপুরা টিভি সেন্টারের উল্টো পাশে রয়েল ডেইরি ফার্ম মিষ্টির দোকানের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। হঠাৎ একটি মোটরসাইকেলে দুই ব্যক্তি এসে পলাশের মুখ বরাবর পিস্তল উঁচিয়ে ধরে। এর মধ্যেই কিছু বুঝে ওঠার আগেই স্থানীয় সন্ত্রাসী কাইল্যা মাসুদ পলাশের মাথা লক্ষ্য করে পরপর দুই রাউন্ড গুলি ছুড়ে। গুলির শব্দে আশেপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এরই মধ্যে স্থানীয়রা ওই দুই সন্ত্রাসীকে ধাওয়া দিলে একজন মোটরসাইকেল নিয়ে সামনের দিকে চলে যায়। আর কাইল্যা মাসুদ সামনের দিকে দৌড় দেয়। তার পেছন পেছন একটি লাল প্রাইভেটকারও যাচ্ছিল। পরে সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি মোটরসাইকেলে উঠে সে পালিয়ে যায়। বর্তমানে আমার ভাই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার মাথায় অস্ত্রোপচার করা হয়েছে। অবস্থা খুবই আশঙ্কাজনক।

ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, শুক্রবার দুপুর ১টা ৪৫ মিনিটের দিকে রামপুরা টিভি সেন্টারের ঠিক উল্টোপাশে রয়েল ডেইরি ফার্ম নামে দোকানের পাশের ৪৫৯ নম্বর ‘পিরোজপুর হাউজ’ নামে বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ছিল। এরই মধ্যে ১টা ৪৬ মিনিটের দিকে দুইজন যুবক মোটরসাইকেল চেপে সেখানে আসে। তাদের একজনের মাথায় কালো টুপি, মুখে সার্জিক্যাল মাস্ক, গায়ে নীল শার্ট, পরনে কালো প্যান্ট ও পায়ে কালো জুতা ছিল। মোটরসাইকেলের চালকের আসনে বসা আরেকজনের মাথায় ছিল হেলমেট। নীল শার্ট পরা ব্যক্তিটি মোটরসাইকেলের পেছন থেকে নেমে তার কোমর থেকে একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র বের করে পলাশের দিকে তাক করে। সঙ্গে সঙ্গেই পলাশের মাথা লক্ষ্য করে দুইটি গুলি করা হয়। গুলির পরপরই আশপাশের লোকজন ধাওয়া করে। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ১টা ৪৭ মিনিটের দিকে নীল শার্ট, মাথায় টুপি পরা ওই শুটারকে ধাওয়া দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে একদল লোক। আর ওই লোকের পেছন পেছন যাচ্ছে কালো রঙের একটি মোটরসাইকেল। আর নীল শার্ট পরা লোকের পেছনে যাচ্ছে লাল রঙের একটি টয়োটা প্রাইভেটকার। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের ধারণা- ওই লাল প্রাইভেট কার এবং মোটরসাইকেলে থাকা ব্যাক্তিরাও এই মিশনে অংশ। তারা সবাই মিলেই পলাশকে গুলি করার মিশনে অংশ নেয়। আর সেই মোটরসাইকেলে চেপেই পালিয়ে যায় শুটার। অপরদিকে আরেক সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, গুলি করার পর কয়েকজন ব্যক্তি একটি ব্যাটারিচালিত অটো রিকশায় পলাশকে নিয়ে হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা করে।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, পলাশের মাথায় দু’টি গুলি লেগেছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তার অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক ও সংকটাপন্ন। চিকিৎসকরা তার জীবন বাঁচাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী ঘটনার পেছনে স্থানীয় সন্ত্রাসী কাইল্যা মাসুদের নাম উঠে এসেছে। অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনে আমাদের থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে। এই ঘটনার পেছনে যে বা যারাই থাকুক না কেন সকলকেই আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

ডিএমপি’র তেজগাঁও বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) ইব্নে মিজান বলেন, গুলিবিদ্ধ ইয়াসিন খান পলাশ হাতিরঝিল-রামপুরা এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘ ১৮-২০ বছর জেল খেটে মাস খানেক আগে জামিনে বের হয়েছে সে। তার বিরুদ্ধে নতুন কোনো মামলা না থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। এখন পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে হত্যাসহ অন্তত দশটি মামলার সন্ধান পেয়েছি আমরা। আমরা সব বিষয় মাথায় নিয়েই কাজ করছি। আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পুলিশের পাশাপাশি ডিবি-র‌্যাবসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যেই এর রহস্য উদ্ঘাটন করতে পারবো।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন