শ্রীমঙ্গলে রমজানে লেবুর দামে আগুন

শ্রীমঙ্গলে রমজানে লেবুর দামে আগুন

ফন্ট সাইজ:

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে লেবুর চাহিদা দেশব্যাপী থাকলেও রমজানের শুরুতেই বাজারে লেবুর দাম বাড়তি। লেবুচাষিদের মতে, দীর্ঘ খরার কারণে বাগানে লেবুর ফলন কম হওয়ায় বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে এসব কাগজি লেবু। শনিবার সকালে শ্রীমঙ্গল শহরের নতুনবাজার লেবুর আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, আগে যেখানে প্রতিটি লেবু বিক্রি হতো ৮ থেকে ১০ টাকা দরে, এখন দাম বেড়ে বড় সাইজের লেবু বিক্রি হচ্ছে ২০-২৫ টাকায়। খুচরা বাজারে আকারভেদে এক হালি লেবু বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ২০০ টাকায়। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, লেবুর মৌসুম হচ্ছে বর্ষাকাল। তখন প্রচুর লেবু উৎপাদিত হয়। তখন দামও থাকে কম। শুকনো মৌসুমে লেবুর উৎপাদন প্রাকৃতিক কারণেই কমে যায়। উপজেলার প্রত্যন্ত এলাকার লেবুচাষি মালেক মিয়া জানান, আমার ৫০০ একর জায়গা জুড়ে লেবু বাগান। টিলা ভূমিতে সেচ দিয়ে পানি গাছের গোড়ায় দিতে হয় এতে খরচ বেড়ে যায়। এছাড়াও কয়েক মাস দরে খরার কারণে গাছে ফল ধরেনি। তিনি আরও বলেন, কুয়াশার কারণে লেবু গাছে ফুল আসছে না কারণ কুয়াশার পানি লবণাক্ত থাকার কারণে লেবুগাছের ফুল ঝরে পড়ে যায় এতে ফল আর আসে না। প্রতি পিস ১৪-১৫ টাকা ধরে পিস বিক্রি হচ্ছে টাকায়। খুচরা লেবু ব্যবসায়ী মো. দুলাল মিয়া বলেন, রোজার আগে থেকেই লেবুর সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। বাজারে বর্তমানে লেবুর সরবরাহ কম। যার কারণে লেবুর দাম বাড়তি। তিনি আরও বলেন, ১০ টাকা থেকে ৩০ টাকা পিস বিক্রি করা হচ্ছে। ক্রেতা জাহেদ আলী বলেন, খুচরা বাজারে মাঝারি সাইজের লেবু কিনেছি ১৫ টাকা দরে। রমজান মাস এলেই লেবু দাম বেড়ে যায়। ওই নারী সঙ্গে আরেকজন ক্রেতা এক হালি লেবু ১৫০ দিয়ে কিনেন। পাইকারি ক্রেতা বাবুল মিয়া জানান, রোজার শুরুতে খুচরা বাজারে প্রতিটি লেবু ছোট সাইজ ৮ থেকে ১০ টাকা, মিডিল সাইজ ১২-১৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বড় সাইজ ১৫-২০ টাকা আবার ২৫-৩৫ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। লেবু বাগান মালিক আব্দুল বারিক জানান, দীর্ঘদিন বৃষ্টিপাত না হওয়ায় পাহাড়ি বাগানগুলোতে পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ফলে ফলন স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ভরা মৌসুমে যেখানে প্রতি গাছে ৩০০-৩৫০টি লেবু হয়, সেখানে এখন অনেক বাগানে ২০-৩০টির বেশি ফলন নেই। তাছাড়া খরচও বেশি হয়। লেবু বাগান মালিক সাইদুল ইসলাম সাহেদ বলেন, আমার লেবু বাগানে এবার লেবু আসেনি। শুকনা মৌসুমে পাহাড়ি টিলায় পানির ব্যবস্থা না থাকায় লেবু গাছে ফল আসে নাই। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. আলাউদ্দিন বলেন, এখন লেবুর মৌসুম নয়। বর্তমানে যে লেবু পাওয়া যাচ্ছে, রসও একটু কম। চাহিদার চেয়ে জোগান কম, এজন্য দাম বেড়েছে। উপজেলায় ১ হাজার ২৩৫ হেক্টর জমিতে লেবু চাষ হয়।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন