উত্তর আমেরিকায় মাঠে গড়ালো বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহোৎসব। মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক এস্তাদিও আজতেকা স্টেডিয়ামে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে গতরাতে পর্দা ওঠে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ আসরের। সমর্থকদের উন্মাদনা বাড়িয়ে দিতে প্রায় ৫৪৮৪ মাইল দূরে ইউরোপ প্রস্তুত আরেক উৎসবকে ঘিরে। আজ রাত সাড়ে ১১টায় পর্দা উঠবে আইসিসি নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের। বার্মিংহামের এসবাস্টন ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দশম সংস্করণের উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কা নারী দল। বাছাইপর্ব বাধা পেরিয়ে মূলপর্বে জায়গা করে নেয়া বাংলাদেশ ১৪ই জুন নেদারল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে।
ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের সাত স্টেডিয়ামে মোট ৩৩ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নামবে ১২ দল। বিশ্বকাপে টাইগ্রেসরা পড়েছে এ গ্রুপে। যেখানে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ ছয়বারের চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া, ভারত, পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা নেদারল্যান্ডস। প্রতিটি গ্রুপ থেকে শীর্ষ দুটি দল সেমিফাইনালে যাবে। ৫ই জুলাই ক্রিকেটের তীর্থভূমি লডর্সে নির্ধারিত হবে শিরোপার ভাগ্য। এবারের বিশ্বকাপে পুরস্কারমূল্য রাখা হয়েছে প্রায় ৯৩ কোটি টাকা। যা আগের আসরের চেয়ে ১০ শতাংশ বেশি। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা। রানার্সআপ পাবে প্রায় সাড়ে ১২ কোটি। শুধু অংশগ্রহণ করে প্রতিটি দল পাবে প্রায় ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। গ্রুপ পর্বে প্রতিটি জয়ে যোগ হবে আরো প্রায় ৩৩ লাখ টাকা। এবার শিরোপার দৌড়ে অন্যতম ফেবারিট স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ২০০৯ সালে ঘরের মাটিতে তারা নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রথম আসরে চ্যাম্পিয়ন হয়। সেই দলের অধিনায়ক শার্লট এডওয়ার্ডস এবার ইংল্যান্ডে নারী দলের কোচের দায়িত্বে। ২০১৭ সালে ঘরের মাঠে ওডিআই বিশ্বকাপ জয়ের সুখস্মৃতি রয়েছে তাদের। ১৭ বছর পর ঘরের মাঠে শিরোপা ঘরে তোলোর স্বপ্ন দেখছে ন্যাট স্কিভার-ব্রান্টের দল। আসরে চমক দেখাতে পারে নেদারল্যান্ডের মেয়েরা। প্রথমবার তারা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলবে। বাছাইপর্বে চতুর্থ সেরা হয়ে এবারেরর বিশ্বকাপের টিকিট কাটে ডাচ মেয়েরা। তাদের বিপক্ষে মিশন শুরু করে ১৭ই জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে খেলতে নামবে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। ২০শে জুন পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলবে টাইগ্রেসরা। চারদিন বিরতি দিয়ে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ২৮শে জুন দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে লড়াই দিয়ে শেষ হবে লাল-সবুজ মেয়েদের গ্রুপপর্বে মিশন। বিশ্বকাপ শুরুর আগে বাংলাদেশের মেয়েরা খুব একটা ছন্দে নেই। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয়।
এরপর স্কটল্যান্ডের মাটিতে ত্রিদেশীয় সিরিজে দুই ম্যাচে হারে। বিশ্বকাপের দুই প্রস্তুতি ম্যাচে নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষেও জয়ের মুখ দেখেনি। তবে দেশ ছাড়ার আগে গ্রুপপর্বে অন্তত তিন ম্যাচ জেতার আশাবাদ ব্যক্ত করেন জ্যোতি। বাছাইপর্বে হেসেখেলে হারানো নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে জয়ে চোখ বাংলাদেশের। দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির কাছে এই টুর্নামেন্টটি দেশের নারী ক্রিকেটের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রাকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নেয়ার বড় একটি সুযোগ। আইসিসি’কে দেয়া সাক্ষাতকারে জ্যোতি বলেন, ‘বাংলাদেশে নারী ক্রিকেট খুব দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে, কারণ আমরা গত কয়েক বছর ধরে নিয়মিত ক্রিকেট খেলছি। আমাদের এই পথচলা দেশের তরুণ নারী ক্রিকেটারদের দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। আর এই টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের দিকে তাকিয়ে আমার মনে হচ্ছে, আমাদের গ্রুপে ভালো কিছু করার চমৎকার একটি সুযোগ রয়েছে আমাদের সামনে।’ এখন পর্যন্ত নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সাত আসরে অংশ নিয়ে ২৫ ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। ৩ জয়ের বিপরীতে হেরেছে ২২ ম্যাচ। ২০২৪ সালে সপ্তম হওয়া মেয়েদের সর্বোচ্চ সাফল্য।
