জিম্বাবুয়ে সফরের একমাত্র টেস্টের জন্য গতকাল ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বিসিবি ঘোষিত এই স্কোয়াডে রয়েছে একাধিক চমক। সাদা বলের নিয়মতান্ত্রিক ব্যাটিং তারকা তাওহিদ হৃদয় এবার ডাক পেয়েছেন লাল বলের অতি অভিজাত ফরম্যাটে। তবে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে টেস্ট দলে প্রথমবারের মতো ডাক পেয়েছেন উদীয়মান ডানহাতি পেস বোলিং অলরাউন্ডার রবিউল হক। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এই লাল বলের লড়াইয়ে বিশ্রাম দেয়া হয়েছে সহ-অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ, তাসকিন আহমেদ, নাহিদ রানা ও বাঁহাতি পেসার শরিফুল ইসলামকে। তাদের বদলে দলের পেস আক্রমণ সামলাবেন চোট কাটিয়ে ফেরা হাসান মাহমুদ এবং সৈয়দ খালেদ আহমেদ। এই চার তারকা পেসার ও অলরাউন্ডারকে ছাড়াই হারারে স্পোর্টস ক্লাব মাঠে একমাত্র টেস্ট খেলতে নামবে বাংলাদেশ।
নিয়মিত অলরাউন্ডার মিরাজকে বিশ্রাম দেয়ার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করেছে স্পিন বিভাগে অফস্পিনার নাঈম হাসানকে সুযোগ দেয়ার ভাবনা। লাল বলের ক্রিকেটে দীর্ঘদিন দলের বাইরে থাকা এই অভিজ্ঞ অফস্পিনারের জন্য জিম্বাবুয়ে সফরটি নিজেকে নতুনভাবে প্রমাণ করার বড় সুযোগ। অন্যদিকে, চোট কাটিয়ে সাদা পোশাকে লাল বলের ক্রিকেটে ফিরেছেন তরুণ গতিময় পেসার হাসান। কাউন্টি চ্যাম্পিয়নশিপে কেন্টের হয়ে খেলতে এই ডানহাতি পেসার বর্তমানে ইংল্যান্ডে অবস্থান করছেন। তার সঙ্গে পেস বোলিং আক্রমণ বিভাগ শক্তিশালী করতে ফিরেছেন ১৭ টেস্ট খেলা খালেদ। আইরিশদের বিপক্ষে সবশেষ ঢাকা টেস্ট খেলার পর আবার সুযোগ পেলেন এই দীর্ঘদেহী ডানহাতি পেসার।
সাদা বলের ক্রিকেটে নিজের ব্যাটিং সামর্থ্য দেখানোর পর এবার লাল বলের ক্রিকেটে বড় চ্যালেঞ্জ হৃদয়ের সামনে। এর আগে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজে অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহীমের বদলি হিসেবে সুযোগ পেয়েছিলেন তিনি। তবে সেবার শেষ পর্যন্ত খেলার সুযোগ পাননি এই তরুণ ডানহাতি হার্ডহিটার ব্যাটসম্যান। প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১৬ ম্যাচে ৩ সেঞ্চুরি ও ৪ ফিফটিতে ৪৪.৬৮ গড়ে হৃদয় করেছেন মোট ৯৮৩ রান। যার মধ্যে রয়েছে একটি চমৎকার অপরাজিত ডাবল সেঞ্চুরিও। ঘরোয়া প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে দারুণ কার্যকর এই ডানহাতি ব্যাটসম্যানকে টেস্টের বড় পরিকল্পনাতেই দলে যুক্ত করা হয়েছে।
টেস্ট দলের পেস বোলিং অলরাউন্ডারের দীর্ঘদিনের ঘাটতি পূরণ করতে ডাক পেয়েছেন ২৬ বছর বয়সী রবিউল।
রংপুর বিভাগের এই পেস বোলিং অলরাউন্ডার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ৩২ ম্যাচ খেলে নিয়েছেন ১০৯ উইকেট। ইনিংসে ৫ উইকেট শিকারের কৃতিত্ব দেখিয়েছেন ৪ বার। প্রথম শ্রেণিতে তার ব্যাটিং গড় ২০.৭৫ হলেও শেষ জাতীয় লীগে খেলেছেন ক্যারিয়ার সেরা ৭০ রানের ইনিংস। ওই ঘরোয়া আসরে ৫ ম্যাচে ২২ উইকেট নিয়ে নির্বাচকদের নজর কাড়েন তিনি। পরে বাংলাদেশ ক্রিকেট লীগের একমাত্র রাউন্ডে ১ ম্যাচে ইনিংসে ৫ উইকেটসহ শিকার করেছিলেন মোট ৬টি উইকেট। স্কোয়াডে জায়গা ধরে রেখেছেন তরুণ উদীয়মান ব্যাটসম্যান অমিত হাসান।
