যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা নীতি, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং আকাশচুম্বী টিকিটের মূল্য নিয়ে চলমান বিতর্কের মাঝেই পর্দা উঠছে বিশ্বকাপের। এত সব প্রতিবন্ধকতার পরও ২৩তম আসরের মূল আয়োজক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেয়ায় কোনো ‘অনুশোচনা নেই’ বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। ফুটবলপ্রেমীদের আপাতত ‘চিল’ বা শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ফিফা সভাপতি। গতকাল মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচের আগে মেক্সিকো সিটিতে এক সংবাদ সম্মেলনে নানা বিতর্ক ও জটিলতা নিয়ে মুখ খোলেন ফিফা প্রধান। যুক্তরাষ্ট্রকে স্বাগতিক করা নিয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘না, আমার কোনো অনুশোচনা নেই। ৩০ বছর ধরে বিভিন্ন ইভেন্ট আয়োজন করে আসছি। আমি সমস্যা সামলাতে অভ্যস্ত... সমস্যা তো থাকবেই। এত বড় একটি ইভেন্টে এটিই স্বাভাবিক। কিছু সমস্যা যুক্তরাষ্ট্র থেকে আসে, কিছু কানাডা থেকে, কিছু মেক্সিকো থেকে।
তবে আমাদের বুঝতে হবে, আমরা বিশ্বের রাজা নই যে সরকার ও পুলিশ বাহিনীর ওপর নির্দেশ দিতে পারি।’ চলমান রাজনৈতিক বৈরিতার কারণে ইরান দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে বড় শঙ্কা তৈরি হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা জটিলতা ও যুদ্ধের আবহেও শেষ পর্যন্ত ইরানের অংশগ্রহণকে ফিফার বড় সাফল্য হিসেবে দেখছেন ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, ‘মানুষ বলছিল, ইরান বিশ্বকাপে আসতে পারবে না। আমি তাদের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম, যে তারা আসবে।’ ট্রাম্প প্রশাসনের সহযোগিতার প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘তার (ডনাল্ড ট্রাম্প) সম্পৃক্ততা ও সহযোগিতা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজন করা সম্ভব হতো না।’ এদিকে মাঠের বাইরের আরেকটি বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে টিকিটের আকাশচুম্বী মূল্য নিয়ে। সাধারণ আসনের ফাইনালের টিকিটের দাম প্রায় ১০ হাজার ডলারের বেশি। হসপিটালিটি বক্সের জন্য তা ৩৩ হাজার ডলার ছাড়িয়ে।
এর পক্ষে সাফাই গেয়ে ইনফান্তিনো বলেন, ‘আপনি যদি নির্দিষ্ট বাজারে কম দামে টিকিট বিক্রি করেন, যা যুক্তরাষ্ট্রে সম্পূর্ণ বৈধ, তাহলে সেটি সেকেন্ডারি মার্কেটে অনেক বেশি দামে বিক্রি হয়ে যেতো। তখন সেই অর্থ কালোবাজারিদের কাছে যেতো, ফুটবলের কাছে নয়।’ টিকিট বিক্রির অনিয়ম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে তদন্ত চললেও ফিফা সভাপতি এ নিয়ে সম্পূর্ণ ‘স্বস্তিতে’ আছেন বলে দাবি করেন। সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতানকে ‘সন্ত্রাসী’ সন্দেহে যুক্তরাষ্ট্র থেকে ফেরত পাঠানো, সেনেগাল ও উজবেকিস্তানের ফুটবলারদের হেনস্তা এবং ইরানি সমর্থকদের টিকিট বাতিলের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তবে এসবের বিপরীতে ফিফা সভাপতি সবাইকে কিছুটা ‘চিল’ বা শান্ত থাকার পরামর্শ দিয়ে বলেন, ‘নিরাপত্তা সবকিছুর ঊর্ধ্বে এবং যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয় তা সম্মান করতে হয়।’
