ফিফা বিশ্বকাপের মঞ্চে রেফারিংয়ের স্বপ্ন ভেঙেছে। ইতিহাস গড়ার খুব কাছে গিয়েও পারেননি সোমালিয়ার রেফারি ওমর আরতান। বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করা প্রথম সোমালি রেফারি হতে পারতেন তিনি। কিন্তু ফিফা অনুমোদিত এবং আফ্রিকার অন্যতম সেরা এই রেফারিকে দেশেই ঢুকতে দেয়নি ডানাল্ড ট্রাম্পের আমেরিকা। বিমানবন্দর থেকেই দেশে ফিরতে হয় তাকে। কিন্তু দেশে ফিরে আরতানকে ‘হিরো’র মতো অভ্যর্থনা জানালেন সোমালিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা। স্বপ্ন ভাঙার পরেও আবেগঘন সংবর্ধনা পেলেন তিনি। গত বুধবার মোগাদিশুতে পৌঁছানোর পর তাকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে জড়ো হন শত শত সমর্থক, সরকারি কর্মকর্তা এবং শুভাকাক্সক্ষী। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সেই ভিডিও এভন ভাইরাল!
গত শনিবার মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পরে আরতানকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেয়া হয়নি। আমেরিকার কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ‘ভেটিং’ সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি, সে বিষয়ে কোনও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। এই ঘটনার পরে বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত রেফারিদের তালিকা থেকে আরতানের নাম সরিয়ে দেয় ফিফা। আমেরিকায় যাওয়ার জন্য আরতানের বৈধ ভিসা ছিল। কেনিয়ায় অবস্থিত সোমালিয়ার দূতাবাসে যারা আরতানের ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছিলেন, তারাও এ নিয়ে মুখ খোলেছেন। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই আরতানের ভিসা ইস্যু করা হয়েছিল বলে জানান তারা।
বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনা করা প্রথম সোমালি রেফারি হতে পারতেন আরতান। আফ্রিকার অন্যতম সেরা ম্যাচ অফিসিয়াল হিসেবেও তিনি পরিচিত। কিন্তু সেই স্বপ্ন অপূর্ণই থেকে যায়। তবে দেশে ফেরার পর মোগাদিশু বিমানবন্দরে আরতানকে নায়কের মতো অভ্যর্থনা জানানো হয়। শত শত মানুষ সোমালিয়ার পতাকা হাতে তাকে স্বাগত জানান এবং এই এ ঘটনার পর আরতানের পাশে থাকার বার্তা দেন। সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আরতান ধন্যবাদ জানান সোমালিয়া সরকার, দেশের জনগণ এবং ফিফাকে। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, ঈশ্বর চাইলে পরের ফুটবল বিশ্বকাপে আমি থাকবো। আমি চাই সোমালিয়ার মানুষ এই ঘটনায় হতাশ না হোক এবং এমন আত্মবিশ্বাস বজায় রাখুক।’ ফিফা অনুমোদিত একজন বিশ্বকাপ রেফারিকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি না দেয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন ফেলেছে। অনেক সমর্থকই প্রশ্ন তুলেছেন, বিশ্বকাপের মতো টুর্নামেন্ট সফলভাবে আয়োজনের জন্য আমেরিকা কতটা তৈরি। আর এই ঘটনা এমন সময় ঘটেছে, যখন আমেরিকায় অভিবাসন সংক্রান্ত নীতি আরো কঠোর করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের নতুন অভিবাসন নীতিতে কড়াকড়ির আওতায় থাকা প্রায় ৪০টি দেশের মধ্যে সোমালিয়াও রয়েছে।
