আগামী ১৪ই জুন স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করতে যাচ্ছে হাইতি। তবে মাঠে নামার ঠিক আগমুহূর্তে এক অদ্ভুত আইনি জটিলতায় নিজেদের অফিসিয়াল জার্সি বদলাতে বাধ্য হলো ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের দেশটি। জার্সিতে খোদাই করা এক ঐতিহাসিক যুদ্ধের ছবি ফিফার নীতিমালার পরিপন্থি হওয়ায় এই নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের অভিভাবক সংস্থা।
হাইতির স্বাধীনতার প্রতীক ১৮০৩ সালের ঐতিহাসিক ‘ভার্টিয়ার্সের যুদ্ধ’ এবং দেশটির জাতীয় পতাকার একটি চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয় তাদের নতুন জার্সিতে। এই জার্সি পরেই বিশ্বকাপের দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে তারা। তবে ফিফার কঠোর ‘ইকুইপমেন্ট রেগুলেশন’ অনুযায়ী, মাঠের জার্সিতে কোনো ধরনের ‘রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা ব্যক্তিগত বার্তা ও স্লোগান’ ব্যবহার করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এই নিয়মেই আটকে গেছে হাইতির জার্সি।
জার্সি প্রস্তুতকারক কলম্বিয়ান প্রতিষ্ঠান ‘সায়েতা’ এক বিবৃতিতে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করে বলে, ‘আমাদের মূল নকশাটি ছিল হাইতির ভবিষ্যৎ গঠনে অবদান রাখা সাধারণ মানুষের প্রতি একটি শ্রদ্ধাঞ্জলি। এটিকে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়নি। তবে ফিফা মনে করেছে কিছু ভিজ্যুয়াল উপাদান তাদের নিয়মের বাইরে যেতে পারে এবং নকশা পরিবর্তনের অনুরোধ করেছে।
তাদের এই ব্যাখ্যা আমাদের উদ্দেশ্যের সাথে না মিললেও, আমরা ফিফার সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে চূড়ান্ত পরিবর্তনগুলো লুফে নিয়েছি।’ ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নেওয়া হাইতি খেলবে গ্রুপ ‘সি’-তে। সেখানে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ শক্তিশালী ব্রাজিল ও মরক্কো। প্রথম আসরে ৩ ম্যাচে ১৪ গোল খাওয়া হাইতি এবার নতুন জার্সি গায়ে চাপিয়ে নতুন রূপকথাই লেখতে চাইবে।
