এক যুদ্ধ স্থগিত রেখে আরেক যুদ্ধ শুরু। ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ কৌশলগত কারণে আপাতত স্থগিত। এই যুদ্ধে অবশ্য জড়িয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আধুনিক মরণাস্ত্রের লড়াইয়ে সাময়িক বিরতি। তবে শুরু হলো পায়ে পায়ে যুদ্ধ। এই যুদ্ধটা অবশ্য বিশ্বযুদ্ধই বলা চলে। শুধু ৪৮টি দেশের মধ্যে এই যুদ্ধ সীমাবদ্ধ নেই। তা ইতিমধ্যেই ছড়িয়েছে তামাম দুনিয়ায়। ফুটবলের এই যুদ্ধে উন্মাদনা দ্রুতই ছড়াচ্ছে। বাংলাদেশে তো খেলা শুরু হওয়ার আগেই আঞ্চলিক যুদ্ধের কিছু খবরা-খবর পাওয়া যাচ্ছে। আর্জেন্টিনা, ব্রাজিলের মধ্যে যুদ্ধ হয় মাঠে। কিন্তু বাংলাদেশে যুদ্ধ হয় পাড়ায়, মহল্লায় ও জেলায়, জেলায়। এক বিচিত্র অভিজ্ঞতা আমাদের। চার বছর পরপরই এই যুদ্ধ শুরু হয়। বাংলাদেশে যুদ্ধ হয়ে গেছে। বলছি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যেকার যুদ্ধের কথা। বিশ্ব ফুটবলে তো বাংলাদেশ নেই। এশিয়ার কোনো র্যাংকিংয়ের ধারে কাছেও নেই আমরা। কিন্তু পায়ের এই যুদ্ধকে আমরা নিয়ে যাই লাঠির যুদ্ধে। বউ তালাকের ঘটনাও ঘটে। নফল নামাজ আদায় করেন অনেকে। ঋণ করে বাড়ি-ঘর রাঙানোর খবর তো আছেই। মেসিকে নিয়ে কত কিছুই না হয়! বাংলাদেশের মিডিয়া জুড়ে অনেক আগে থেকেই উত্তেজনা শুরু হয়েছে। আর্জেন্টিনার এক সাংবাদিক কাতার বিশ্বকাপে বলেছিলেন, তোমরা ফুটবল নিয়ে এত মাতামাতি করো অথচ তোমাদের দল নেই বিশ্বকাপে। ১৯৯০ ইতালি বিশ্বকাপেই বারবার এই প্রশ্নের মুখোমুখি হয়েছি। একাধিক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে বলেছি, বিশ্বকাপে না থাকলেও বাংলাদেশে অগণিত ফুটবল ভক্ত রয়েছেন। যা তুলনাহীন। বাংলাদেশে সরকার বদলায়, ফুটবলের ইতিহাসও বদলে যায়। নতুন ছক তৈরি করেন কর্তারা । এবার তো একজন স্বনামখ্যাত ফুটবলারকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কী ভেবে তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন এটা সহজেই অনুমেয় । বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে মিডিয়ার লোক কোনোকালেই সফল তথ্যমন্ত্রী হননি। ফুটবলাররাও সফল হয়েছেন এমন নজির নেই। আসলে ফুটবলকে রাজনীতির ঊর্ধ্বে রাখতে না পারলে অন্যের হাসিতে আমরা হাসবো। অন্যের কান্নায় আমরা কাঁদবো। ২৪ ঘণ্টার জার্নির ধকল শেষে জেএফকে বিমানবন্দরে পৌঁছলাম। সঙ্গে সম্পাদক মাহবুবা চৌধুরী। নেমেই ভেবেছিলাম এমন কিছু দৃশ্য দেখতে পাব তাতে মনে হবে- একদিন বাদেই সেখানে ফুটবলের বিশ্ব যুদ্ধ শুরু হবে। কিন্তু না। কিছুই দেখতে পেলাম না। পতাকার কোনো মিছিল নেই। দেয়ালে নেই মেসি, রোনালদো, এমবাপ্পে, ইয়ামাল কিংবা বৃটিশ সুপারস্টার হ্যারি কেনের কোনো ছবি। বিমানবন্দরের বাইরেও একই অবস্থা। জিজ্ঞেস করেছিলাম মনির হায়দার, মনোয়ারুল ইসলাম ও আশরাফুল নওশাদকে- কই, কোথাও তো এই পোস্টারবয়দের ছবি দেখতে পাচ্ছি না ! তিনজনই আমার সহকর্মী ছিলেন মানবজমিনে। চমৎকার সম্পর্ক, কোনো পর্যায়েই ঘাটতি হয়নি সম্পর্কের। তাদের কথা- আছে আছে, কমিউনিটিতে আছে। ইমিগ্র্যান্টসদের মধ্যে খেলা নিয়ে উত্তেজনা আছে। তবে আমাদের মতো নয়। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের পাশ দিয়ে হোটেলে যাচ্ছিলাম। মাত্র চার মিনিটের রাস্তা। অবশ্য হেঁটে যাওয়ার উপায় নেই। মহাসড়কে একটা সেতু আছে। সেটা পার হতে হবে। হেঁটে যাওয়ার অনুমতি নেই। নওশাদ ফোনে জানালেন, কাছে বলে হাঁটবেন না কিন্তু। আইনত দণ্ডণীয় অপরাধ। ভাবুন তো আমাদের হাইওয়েতে রিকশা, ঠেলাগাড়ি, ভ্যান চলে। আমরা শিখি না। শিখতে চাই না। আমরা গড়তে নয়, ভাঙতে জানি। ৫৫ বছরের ইতিহাস এটাই বলছে। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের উপরে বিশ্বকাপের একটা চিহ্ন পেলাম । যে স্টেডিয়াম থেকে জানা যাবে- কে হবেন বিশ্ব ফুটবলের নতুন দাবিদার। মেসির হাতে উঠলে সেটা হবে নতুন ইতিহাস। হারলেও ক্ষতি নেই। মেসি তো একবার বিশ্ব ফুটবলের নায়ক হয়েই গেছেন। ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শক ইতিমধ্যেই মেটলাইফের গ্যালারিতে প্রবেশের ছাড়পত্র পেয়ে গেছেন। কে কত টাকা দিয়ে কিনেছেন তার কোনো প্রকাশ নেই। তবে অঙ্কটা বিশাল। কোনো কিছুর সঙ্গে তূলনা চলে না। লটারিতেও অনেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন। এবারের লড়াই তো আরও বেশি জমতো। ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রে খেলার সুযোগ পেত। ফিফা সে সুযোগ দেয়নি। বলা যায়, ঝুঁকি নিতে চায়নি। তাই ইরানকে মেক্সিকোতে পাঠিয়ে দিয়েছে। ইরানের কর্মকর্তাদের গতিও রোধ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। ত্রিদেশীয় এবারের বিশ্বকাপ কতটা জমবে শুরুতে সংশয় থাকলেও সব টিকিট বিক্রি হওয়ায় ফিফার আনন্দের শেষ নেই। তবে এবার ঝুঁকিটা বড়ো বেশি। সমর্থকদের পকেট ফাঁকা হবে। এক স্টেডিয়ামে থেকে আরেক স্টেডিয়ামে যেতে খরচের অঙ্কটাও বড্ড বেমানান, অনেকটা অযৌক্তিক। সপ্তমবারের মতো বিশ্বকাপের আসরে যোগ দিয়ে মনে হচ্ছে- কোথায় যেন একটা ঘাটতি।
এক যুদ্ধ স্থগিত, আরেক যুদ্ধ শুরু
মতিউর রহমান চৌধুরী, নিউ জার্সি
অনলাইন
৩ ঘন্টা আগে
১১ জুন (বৃহস্পতিবার), ২০২৬, ১২ঃ৩৬ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
