কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় দুই বছর ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে সেবা। চারটি এক্স-রে মেশিনের মধ্যে তিনটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। একটি সচল থাকলেও রেডিওগ্রাফার না থাকায় সেটিও ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ফলে সাত লাখ মানুষের এই উপজেলায় রোগীদের বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত টাকা খরচ করে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে এক্স-রে করাতে হচ্ছে। এর মধ্যেই ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে ‘কেমিক্যাল রি-এজেন্ট (এক্স-রে ফিল্ম ও ইসিজি পেপার)’ খাতে ৪ লাখ ৮০ হাজার ৭৭০ টাকা বরাদ্দের তথ্য সামনে এসেছে। যেখানে প্রায় দুই বছর ধরে হাসপাতালের এক্স-রে সেবা কার্যত বন্ধ, সেখানে এক্স-রে ফিল্ম কেনার জন্য লাখ টাকার বরাদ্দ কেন- এ প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সরকারি হাসপাতালে ডিজিটাল মেশিনে এক্স-রে করাতে সাধারণত ১৫০ থেকে ২০০ টাকা খরচ হয়। অ্যানালগ মেশিনে খরচ আরও কম। কিন্তু হাসপাতালের সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ব্যয় করতে হচ্ছে। গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন ৫৬ জন রোগী। তাদের মধ্যে অন্তত সাতজনকে এক্স-রে করার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। কিন্তু হাসপাতালে সেবা না থাকায় সবাইকে যেতে হয়েছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে। উপজেলার কামাল্লা গ্রামের মনু মিয়া (৫৭) বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে গেলে চিকিৎসক তাকে এক্স-রে করাতে বলেন। পরে একটি বেসরকারি ক্লিনিকে ৪২০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হয় তাকে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, দেবিদ্বার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের রেডিওগ্রাফার রেখা রানী ২০২৪ সালের শুরুতে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সপ্তাহে দুইদিন মুরাদনগরে এসে সেবা দিতেন। ওই বছরের আগস্টে বদলি হয়ে যাওয়ার পর থেকে আর কোনো রেডিওগ্রাফার পদায়ন হয়নি। এরপর থেকেই কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এক্স-রে সেবা। রেখা রানী মুঠোফোনে বলেন, চারটি মেশিনের মধ্যে একটি সচল ছিল। আমি সপ্তাহে দুই দিন দায়িত্ব পালন করতাম। পরে বদলি হয়ে টাঙ্গাইলে চলে আসি। স্থানীয়দের অভিযোগ, সচল মেশিনটিও এখন অযত্নে পড়ে আছে। অন্য তিনটি মেশিন দীর্ঘদিন বিকল থাকলেও সেগুলো মেরামতের কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেই। ওষুধ ক্রয়ের টেন্ডার সংক্রান্ত অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. তারিকুর রহমান স্বাক্ষরিত একটি চিঠি সম্প্রতি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ঘিরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নুসরাত জাহান বলেন, আমি মাত্র এক সপ্তাহ আগে এখানে যোগদান করেছি। আগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি ভালো বলতে পারবেন। তবে সদ্য বিদায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সিরাজুল ইসলাম মানিকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুই বছর বন্ধ এক্স-রে তবু ফিল্ম কেনায় বরাদ্দ
মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি
১১ জুন (বৃহস্পতিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
