উদ্বোধনের আগেই ধস

উদ্বোধনের আগেই ধস

ফন্ট সাইজ:

 চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার চুনতি ইউনিয়নের ফারেঙ্গা সড়কে নবনির্মিত সেতু উদ্বোধনের আগেই সংযোগ সড়কের একাধিক স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন না হওয়া সেতুর সংযোগ সড়কে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে নির্মাণকাজের গুণগত মান নিয়েও নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চুনতি ফারেঙ্গা সড়কটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। প্রায় ৩ মাস পূর্বে উক্ত সেতুর উপর দিয়ে যাতায়াত শুরু হয়েছে। সম্প্রতি বৃষ্টিতে সড়কের দক্ষিণ পানত্রিশা ব্রাহ্মণপাড়া এলাকায় নবনির্মিত সেতুর সংযোগ সড়কের উভয়পাশে একাধিক স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। এই সড়কটি পার্বত্য লামা উপজেলা পর্যন্ত বিস্তৃত। উপজেলা এলজিইডি অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে বৃহত্তর চট্টগ্রাম পল্লী অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্প-৩ এর আওতায় এক প্যাকেজে চুনতি ফারেঙ্গা সড়কের উপর ১৮ ও ১৬ মিটার ২টি আরসিসি গার্ডার সেতু নির্মাণের কাজ পান কনস্যুলেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং বিল্ডার্স নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। যার বরাদ্দ ছিল ৩ কোটি ৪৯ লাখ টাকা। সম্প্রতি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান উক্ত ২টি ব্রিজের কাজ শেষ করে। সরজমিন দেখা যায়, সড়কে নবনির্মিত ১৮ মিটার সেতুর উভয়পাশে সংযোগ সড়কের একাধিক স্থানে মাটি ধসে গিয়ে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশের অংশ ভেঙে নিচে নেমে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, বৃষ্টির পানি ও দুর্বল মাটি সংরক্ষণ ব্যবস্থার কারণে এসব স্থানে মাটি সরে গেছে। স্থানীয় রেজাউল বাহার রাজা জানান, সেতুটি এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার প্রকল্প। কিন্তু নির্মাণকাজে যথাযথ মান বজায় রাখা হয়নি। বিশেষ করে সংযোগ সড়কের কাজে ত্রুটি থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই একাধিক স্থানে ধস দেখা দিয়েছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য জানে আলম জানান, সেতুর সংযোগ সড়কের একাধিক স্থানে ধসে যাওয়ার বিষয়টি উপজেলা এলজিইডি অফিস ও কাজের ঠিকাদারকে অবহিত করা হয়েছে। ঠিকাদারের প্রতিনিধি আল আমিন জানান, একটি সেতুর সংযোগ সড়ক ধসে পড়ার বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্যের মাধ্যমে অবগত হয়েছি। ধসে পড়া সড়ক পুনরায় সংস্কার করে দেয়া হবে। লোহাগাড়া এলজিইডি’র উপ-সহকারী প্রকৌশলী হামিদ হোসেন আজাদ জানান, এক বছরের মধ্যে কাজে কোনো সমস্যা দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার পুনরায় করে দিতে বাধ্য। সেতুর সংযোগ সড়কের একাধিক স্থানে ধসে যাওয়ার বিষয়টি ঠিকাদারকে জানানো হয়েছে।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন