অভিভাবকহীন কুয়াকাটা

অভিভাবকহীন কুয়াকাটা

ফন্ট সাইজ:

দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী ‘সাগরকন্যা’ কুয়াকাটা দিন দিন শ্রীহীন হয়ে পড়ছে। যেখানে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক ছুটে আসেন সমুদ্রের নীল জলরাশি আর সূর্যাস্তের সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অথচ পর্যটন নগরীর মূল বাসস্ট্যান্ডে এবং প্রবেশপথ দর্শনার্থীদের স্বাগত জানাচ্ছে ময়লা আবর্জনা আর অব্যবস্থাপনায় রূপ নিচ্ছে। যা একদিকে যেমন কুয়াকাটার ভাবমূর্তি সংকটে অন্যদিকে স্থানীয় প্রশাসনের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে সচেতন মহলে।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি ছবিতে দেখা যায়, কুয়াকাটার প্রবেশদ্বারে নির্মিত ‘ওয়েলকাম কুয়াকাটা’ ফলকটির ঠিক পাশেই গড়ে উঠেছে কয়েকটি কাঠ চেরাইয়ের কারখানা। বাসস্ট্যান্ডের ভেতরে যাত্রী ছাউনি আশেপাশে ময়লার স্তূপ হয়ে পড়ে থাকে। পরিষ্কারের নামে চলছে টালবাহানা। অপরদিকে যত্রতত্র ফেলে রাখা হয় চেরাইগাছ মহাসড়কে। যেখানে বিপুল পরিমাণ কাঠের গুঁড়ি ও টুকরো। স্থাপনাটির গা ঘেঁষে গড়ে ওঠা এই ঘিঞ্জি পরিবেশ পর্যটন শহরের শোভাবর্ধনকারী তোরণটিকে করেছে শ্রীহীন। একটি পর্যটন নগরীর প্রবেশদ্বার পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং নান্দনিক হওয়া বাঞ্ছনীয়। কিন্তু কুয়াকাটার এই দৃশ্য যেন উন্নয়নের উল্টো চিত্র। স্থানীয়রা বলছেন, যেখানে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি থাকার কথা, সেখানে পৌরসভার প্রবেশপথেই এমন দখল ও পরিবেশ নষ্ট করার মতো কর্মকাণ্ড কীভাবে দিনের পর দিন চলছে? স্থানীয় অভিভাবক বা দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষের উদাসীনতায় এমন পরিস্থিতি বলে দায়ী করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন নিয়মিত পর্যটক বলেন, কুয়াকাটার যে নান্দনিক রূপের কথা আমরা শুনি, তার সঙ্গে প্রবেশপথের এই চিত্র মোটেও কাম্য নয়। কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এটি অপসারণ করে পর্যটন নগরী পরিষ্কার করে সৌন্দর্যবর্ধনে ফিরে আনা। কুয়াকাটা উন্নয়ন ফোরামের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও হোটেল ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বাবুল ভূঁইয়া বলেন, আমরা চাইবো দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে কুয়াকাটাকে সৌন্দর্য বর্ধন করে দৃষ্টিনন্দিত পর্যটন নগরীতে পরিণত করা।
এ ব্যাপারে কলাপাড়া উপজেলার ভূমি কর্মকর্তা ও কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক বলেন, অবৈধ জায়গায় ঘর হলে উচ্ছেদ করে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতায় ফিরিয়ে আনা হবে। বাসস্ট্যান্ড পরিচ্ছন্নকর্মী দ্বারা নিয়মিত পরিচ্ছন্ন করে রাখার ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান তিনি। দেশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন শিল্পের মধ্যে কুয়াকাটার ব্র্যান্ডিং করা হলেও মাঠপর্যায়ে তার প্রতিফলন কতোটা তা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন উঠেছে। নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত এই অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং প্রবেশপথের সৌন্দর্য পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন।



ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন