বগুড়ার সেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে সিভিল সার্জনের চিঠি

বগুড়ার সেই স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে সিভিল সার্জনের চিঠি

ফন্ট সাইজ:

প্রতারণা মামলায় ৯ মাস ধরে জেলবন্দি অফিস সহায়ক আল-মুস্তানসির বিল্লাহ। বিষয়টিকে গোপন রেখে ধামাচাপা দেয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন অফিসের প্রধান কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। মানবজমিনের অনুসন্ধানে উঠে আসে বিস্তর ঘটনা। চলতি মাসের ৬ই জুন মানবজমিন একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ছাপে। এরপরও কোনোভাবেই ওই অফিস সহায়ককে শোকজ বা চাকরি আইনে কোনো পদক্ষেপ নিতে রাজি নন বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর। ওই অফিস সহায়কের সঙ্গে তার কীসের এত সখ্যতা বুঝে উঠতে পারছে না কেউ।

গণমাধ্যমে পুরো ঘটনা এবং ওই কর্মকর্তার উল্টাপাল্টা বক্তব্যের জেরে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝরকে। তিন কর্মদিবস বেঁধে দিয়ে গত ৯ই জুন চিঠি ইস্যু করেন তিনি। বিষয়টি নিয়ে ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝরের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি কল রিসিভ করেননি। একই মাধ্যমে খুদে বার্তা দিলেও তিনি উত্তর দেননি। তবে বগুড়ার সিভিল সার্জন ডা. মো. খুরশীদ আলম মানবজমিনকে বলেন, একটা অফিসের এত বড় ঘটনা ৯ মাস ধরে গোপন রাখার পর গণমাধ্যমে সেই বিষয়ে সংবাদ প্রচার হওয়ার পরও তিনি এখনো ওই অফিস সহায়কের বিষয়ে অফিসিয়ালি কোনো পদক্ষেপ নেয়ার চিঠি দেননি। বিষয়টা অনেকটা বিস্ময়ের।

এ সময় তিনি আরও বলেন, গণমাধ্যমে তিনি যে বক্তব্য প্রদান করেছেন সেই বিষয়ের ব্যাখ্যা চেয়ে চিঠি দিয়েছি। তিন কর্মদিবস সময় বেঁধে দিলেও আজ পর্যন্ত (১০ই জুন ৫.১০ মিনিট) কোনো জবাব আমার কাছে দেননি।
উল্লেখ্য, বগুড়া সদরের নওদাপাড়া উপস্বাস্থ্য কেন্দ্রের একজন অফিস সহায়ক পরে বদলি করে বগুড়া সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে আনা হয়। সেই অফিস সহায়ক চাকরি দেয়ার নাম করে বিভিন্ন মানুষের কাছে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়। পরে ভুক্তভোগীদের দায়ের করা মামলায় ২০২৫ সালের আগস্ট মাসের ২৪ তারিখে গ্রেপ্তার হয়ে বিল্লাহ এখন জেলখানায় বন্দি রয়েছেন। প্রভাবশালী ওই অফিস সহায়ক জেলে থাকার বিষয়টিকে গোপন রেখে নিয়মিত বেতন-ভাতাদি দিয়ে আসছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. ফারজানুল ইসলাম নির্ঝর।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন