চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি), চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি), জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) সহ কোনো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বিদেশি অপারেটরের নিয়ন্ত্রণে না দেয়ার বিষয়ে সরকারের সুস্পষ্ট ঘোষণা দাবি করেছে বৃহত্তর জাতীয় শ্রমিক জোট শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ) চট্টগ্রাম। বুধবার দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি প্রদান করে সংগঠনটির নেতারা। স্মারকলিপিতে তারা ছয় দফা দাবি তুলে ধরে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে চট্টগ্রাম বন্দরের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ রাষ্ট্রের হাতে রাখার আহ্বান জানান।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম শুধু একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়, বরং জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ভিত্তি। দেশের অধিকাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এই বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হওয়ায় এর পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাদের অভিযোগ, চট্টগ্রাম বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার খবর বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে। এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে তা জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এবং কৌশলগত স্বার্থের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, এনসিটি বর্তমানে দেশের সবচেয়ে লাভজনক কনটেইনার টার্মিনালগুলোর একটি। রাষ্ট্রীয় অর্থায়নে নির্মিত এই টার্মিনাল দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় জনবল ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সফলভাবে পরিচালিত হয়ে আসছে। সম্প্রতি এক মাসে সর্বোচ্চ কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ডও অর্জন করেছে এনসিটি। স্কপ নেতারা বলেন, সিসিটি ও এনসিটি উভয় টার্মিনালই দেশীয় অর্থায়নে নির্মিত এবং স্থানীয় দক্ষতা ও অভিজ্ঞতার মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে। ফলে বিদেশি প্রতিষ্ঠান ছাড়া বন্দর পরিচালনা সম্ভব নয়Ñ এমন ধারণার বাস্তব ভিত্তি নেই। তারা আরও বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কি-পয়েন্ট ইনস্টলেশন (কেপিআই) হিসেবে স্বীকৃত। একই এলাকায় নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের স্থাপনা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত। ফলে বিষয়টি কেবল ব্যবসায়িক নয়, জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও সম্পৃক্ত। স্মারকলিপিতে চলমান বিদেশি অপারেটর নিয়োগ সংক্রান্ত আলোচনা ও প্রক্রিয়া বাতিল, বন্দর পরিচালনায় দেশীয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহার এবং শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি সংলাপের উদ্যোগ গ্রহণের দাবি জানানো হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্কপ চট্টগ্রামের যুগ্ম সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন। সংগঠনের আরেক যুগ্ম সমন্বয়ক ইফতেখার কামাল খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য দেন টিইউসি চট্টগ্রাম জেলার সভাপতি তপন দত্ত, জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দল চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, ট্রেড ইউনিয়ন সংঘের সভাপতি খোরশেদ আলম, বিএফটিইউসি’র সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিদুল্লাহ, বিএলএফ সভাপতি নুরুল আবছার তৌহিদ, সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের হেলাল উদ্দিন কবির, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন ও সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের নেতারা। সমাবেশ শেষে একটি মিছিল নিয়ে স্কপের নেতাকর্মীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন।
