চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দালালমুক্ত, পরিচ্ছন্ন ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপ দিতে ব্যাপক উদ্যোগ নিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। বুধবার সকালে হাসপাতালজুড়ে বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চমেক হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ডা. শাহাদাত হোসেন।
এ সময় তিনি হাসপাতালের ভেতরে সক্রিয় দালালচক্র, রোগী ভাগিয়ে নেয়া সিন্ডিকেট,অতিরিক্ত অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া আদায় এবং বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা দেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে মেয়র বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও মানবিক স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করাই তাদের লক্ষ্য। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা অরাজকতা ও অনিয়মের অবসান ঘটিয়ে রোগী ও স্বজনদের জন্য সেবাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা একটি শুদ্ধি অভিযানে নেমেছি। দালালচক্র, রোগী হয়রানি এবং অবৈধ ব্যবসার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীরা যেন কোনো ধরনের ভোগান্তি ছাড়াই নিরাপদ ও স্বচ্ছ পরিবেশে চিকিৎসাসেবা পায়, সেটিই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। হাসপাতাল এলাকায় অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিনের অভিযোগের প্রসঙ্গ তুলে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নির্ধারিত ভাড়ার তালিকা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতে রোগীদের কাছ থেকে ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ধরনের নৈরাজ্য আর চলতে দেওয়া হবে না।
হাসপাতাল এলাকার অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করার ঘোষণাও দেন মেয়র। তিনি জানান, ওয়ালি বেগ খাঁ মসজিদ থেকে মেডিকেল স্টাফ কোয়ার্টার পর্যন্ত পুরো এলাকা নিরাপদ পথচারী জোন হিসেবে গড়ে তোলা হবে। সেখানে ভাসমান দোকান, ফল ও ডাব বিক্রি কিংবা ট্রলি ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ থাকবে না। একই সঙ্গে সবুজায়ন ও গ্রাফিতির মাধ্যমে এলাকাটিকে দৃষ্টিনন্দন করে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে।
বিশেষ পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন দোকান পরিদর্শন করে প্রতিটি দোকানে ডাস্টবিন সংরক্ষণ এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন মেয়র। পাশাপাশি নালা-নর্দমায় মশার লার্ভা ধ্বংসে ওষুধ ছিটানো হয়।
হাসপাতাল চত্বরকে ধূমপানমুক্ত ও মাদকমুক্ত এলাকা হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বলেন, স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশ রক্ষায় এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে স্থায়ী রূপ দিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১০ জন এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ১০ জনসহ মোট ২০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া হাসপাতালের দীর্ঘদিনের পানি সংকট নিরসনে নতুন গভীর নলকূপ স্থাপনের কাজও শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান মেয়র।
তিনি বলেন, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল আমাদের গর্বের প্রতিষ্ঠান। এখানে চিকিৎসা নিতে আসা মানুষ যেন সম্মানজনক ও মানসম্মত সেবা পায়, সে জন্য হাসপাতালের সার্বিক পরিবেশ উন্নয়নে আমরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। অনুষ্ঠানে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ও হাসপাতাল প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
